ট্রল প্রজন্ম, ‘কালার ব্লাইন্ড’ লিটন দাস ও বিসিবির দায়

‘গোলাপী বল চোখে দেখছেন না লিটন দাস!’

– এক পত্রিকার এই শিরোনাম দেখেই ‘হাহা’ রি-অ্যাক্ট দিয়েছে অনেকে। কমেন্ট সেকশনে লিটনকে নিয়ে নোংরা ট্রল।

ব্যাপার না।

না পড়ে, না বুঝে, একটু জেনে পান্ডিত্য দেখানো আমাদের জাতির রক্তে আছে। তবে লিটনের বিষয়টা নিয়ে আমার দুটো উপলদ্ধি আছে।

১.

নেট বোলারের বলে গতকাল লিটন নয় বার বোল্ড হয়েছে! বল সত্যিই সে সেভাবে দেখতে পাচ্ছিলো না, কারণ বলা হচ্ছে তিনি কালার ব্লাইন্ড। কালার ব্লাইন্ড হওয়া কোন অপরাধ না, আমাদের অনেকেই এ কারণে কিছু রং ঠিকভাবে দেখতে পাই না বা অন্য রং দেখি। এ নিয়ে যারা নোংরা ট্রল করছেন, হাস্যরস করছেন – তারা জানা দরকার যে এই বল দেখতে না পাওয়ার সাথে লিটনের ব্যাটিং স্কিলের কোন সম্পর্ক নেই। বরং শেষ মুহুর্তে এসে কিপিং কাকে করাবে তা নিয়ে ঝামেলায় পড়েছে বিসিবি!

২.

অষ্ট্রেলিয়ার উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ম্যাথু ওয়েডের একই সমস্যা ছিলো গোলাপি বলে। তারা ঘরোয়া ক্রিকেটে গোলাপী বলে ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়। সমস্যাটা ওভারকাম করার যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছে। লিটন তো সম্ভবত গোলাপী বলে প্র্যাকটিসের প্রথম সুযোগই পেলো দুই-চারদিন আগে! ঘরোয়া প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের গোলাপি বলে খেলা তো ‘ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখা’-র মতো!

যদিও, বিসিবি পরীক্ষামূলক ভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) একবার গোলাপি বল ব্যবহার করে দিবারাত্রীর ম্যাচ চালু হয়েছিল। নি:সন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে, সেই চেষ্টাটা অব্যাহত থাকেনি। কেন? – উত্তর কারোই জানা নেই।

আর কতো বিসিবির অদক্ষতা ন্যাংটোভাবে প্রকাশ পাবে? স্যরি, ঠিক করে লিখি। আর কতো আমাদের নোংরামির বহি:প্রকাশ নিউজ লিংকের কমেন্টে কমেন্টে পোস্ট করা হবে?

ইডেনে চলমান ঐতিহাসিক গোলাপি বলের টেস্টের প্রথম ইনিংসে যদিও সেই লিটনের কালার ব্লাইন্ডনেসটা বোঝা গেল না। বরং, বাকিদের চেয়ে সহজাত ব্যাটিংই করেছেন তিনি। ২৭ বলে ২৪ রান করেছেন, এর মধ্যে ২০ রানই এসেছে বাউন্ডারি থেকে। বাউন্সারের আঘাতে মাঠ ছেড়েছেন, এই টেস্টে তার আর খেলাই হবে না। টেস্টের ইতিহাসে দ্বিতীয় বদলী হিসেবে বাকিটা সময় খেলবেন মেহেদী হাসান মিরাজ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটাই প্রথম টেস্টে বদলীর ঘটনা।

https://www.mega888cuci.com