লিওনেল মেসি, ৮ কোচ ও ১৩ বছরের দু:স্বপ্ন

লিওনেল মেসি কি আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন?

যেমনটা তিনি ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনাল হারের পর করেছিলেন, এবার এখনো পর্যন্ত তেমন কিছু শোনা যায়নি। সেবার নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে টানা তৃতীয় ফাইনাল হারের বেদনা থেকেই কি না, জাতীয় দলের হয়ে আর না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন মেসি।

এবার সেই বেদনাটা আরো তীব্র হওয়া উচিৎ। কারণ, এবার তো বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষ ১৬ থেকেই বিদায় নিল আর্জেন্টিনা। অধিনায়কের ভূমিকায় এই যন্ত্রনাটা ভোলার কথা নয় মেসির। গত রোববার যখন তিনি বার্সেলোনায় ফিরলেন, তখনও এই সংক্রান্ত কিছু না বলে মুখে কুলুপ এটে রইলেন।

মেসির অভিষেক ২০০৫ সালের আগস্ট। সেই ম্যাচে হাঙ্গেরির বিপক্ষে অবশ্য ৪৭ সেকেন্ড খেলেই লাল কার্ড নিয়ে মাঠের বাইরে চলে যান তিনি। সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনায় আটজন ভিন্ন ভিন্ন কোচের অধীনে খেলেছেন মেসি।

হোসে পেকারম্যান (২০০৪-০৬), আলফিও বাসিলে (২০০৬-০৮), ডিয়েগো ম্যারাডোনা (২০০৮-১০), সার্জিও বাতিস্তা (২০১০-১১), আলেসান্দ্রো সাবেয়া (২০১১-১৪), জেরার্ড মার্টিনো (২০১৪-১৬), এদগার্দো বাউজা (২০১৬-১৭) ও বর্তমান কোচ হোর্হে সাম্পাওলি কেউ মেসি ও আর্জেন্টিনার ভাগ্য পাল্টাতে পারেনি। এদের কেউই মেসিকে বিশ্ব শিরোপা দিতে পারেননি। শুধু তাই নয়, ১৯৯৩ সালের কোপা আমেরিকার পর থেকে বড় কোনো শিরোপাও জিততে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা।

তাই ৩১ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে চার বছর বাদে কাতারে আরেকটি বিশ্বকাপের শিরোপা স্বপ্ন দেখা তো দূরের কথা, নিজেকে সেই লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করে তোলাই নেইমারের জন্য বিশাল বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী বছরের কোপা অনুষ্ঠিত হবে ব্রাজিলে। ব্রাজিলের মাটিতে গিয়ে শিরোপা জয় করা তো আর ছেলের হাতে মোয়া নয়। তখন কোন তারকারা থাকবেন, কোন কোচের অধীনে খেলবে আর্জেন্টিনা – এসব ব্যাপার তো আছেই।

মোদ্দা কথা হল গেল ১৩ বছরে আর্জেন্টিনা কখনোই লিওনেল মেসির মত একজন কিংবদন্তির যথার্থ ব্যবহার করতেস পারেনি। তাঁকে কাজে লাগানোর চেয়ে বেশি বরং ডিয়েগো ম্যারাডোনার সাথে তুলনা হয়েছে বেশি।

কোনো কোচই পারলেন না সমস্যা দূর করতে। আটজন কোচের একজনও না! প্রশ্ন তাই উঠবেই, মেসির জন্য আদর্শ পরিবেশ কোনটা? মেসি চারটা বিশ্বকাপ ও চারটা কোপা আমেরিকার টুর্নামেন্ট খেলেছেন। তিনি ব্রাজিলে ২০১৪ সালে দলকে ফাইনালে নিয়ে যান, ২০০৬ ও ২০১০ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেন। উপমহাদেশীয় প্রতিযোগীতায় ২০১৫ ও ২০১৬ সালের ফাইনাল খেলেন।

মেসি কেবল মনে রাখতে পারেন ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকে পাওয়া সোনাকে, কিংবা ২০০৫ সালে পাওয়া যুব বিশ্বকাপের শিরোপাকে। এর বাদে গেল ১৩ বছরের বাকিটা সময় তো তাঁর জন্য দু:স্বপ্নই।

– মার্কা অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।