কে কে মেনন মানেই ধুরন্ধর সব চরিত্র!

দক্ষিণ ভারতের কেরালায় জন্মগ্রহণ করলেও মানুষটি বড় হয়েছেন মহারাষ্ট্রের পুনেতে। মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে অনার্স করার পর পুনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাবস্থাপনা বিজ্ঞান বিষয়ে এমবিএ করেন। মাস্টার্স করার পর মনের আশাটাকে আরেকটু বড় করেন ছোটবেলার স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য। জ্বী, বড় পর্দায় অভিনয়!

ভারতের মত দেশে মামা খালু বা ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকলে কি আর সুযোগ পাওয়া যায়! তাছাড়া তিনি দেখতে ও সুশ্রী নন। ভাবলেন, দেখা যাক ছোট পর্দায় ছোট কাজ পাওয়া যায় কিনা। কিন্তু বিধিবাম!

দেখি তাহলে অনুরোধ টনুরোধ করে দু-একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করা যায় কিনা। সব বিজ্ঞাপনে তো আর ভাল চেহেরার প্রয়োজন হয় না। অনেক কষ্টে করলেন দুটো বিজ্ঞাপন। একটি ‘কাইনেটিক হোন্ডা’ আরেকটি ‘মার্লবোরো সিগারেট’-এর। মোটামুটি সফল ‘চেহারা নিয়ে মনের ভিতর কষ্ট পোষণ করা’ লোকটি।

যদিও আবারও পড়ে গেলেন কাজের অভাবে। এবার লক্ষ্য টিভি নাটক। থিয়েটার করতে গিয়ে পরিচয় হলো নিবেদিতা ভট্রাচার্যের (স্ত্রী) সঙ্গে। নিবেদিতার কল্যাণে পেয়ে গেলেন কিংবদন্তী অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহের বিপরীতে অভিনয়ের সুযোগ। বিপরীতে বলছি কারন নাটকটির নাম ‘মহাত্মা ভার্সেস গান্ধী’।

ভাবলেন, এই সুযোগ ঝলক দেখানোর, নিজেকে চেনানোর! অবশেষে চলে আসলেন ফোকাসে। কাজের সুযোগও এল। একে একে করলেন ‘জেব্রা-২’ এবং ‘লাস্ট ট্রেন টু মাহাকালি’-তে। জিটিভিতে ‘প্রধানমন্ত্রী’ সিরিজে অভিনয় করেন কেতন মেহতার পরিচালনায়। যিনি ‘মঙ্গল পান্ডে’ এবং ‘মাঝি: দ্য মাউনটেনম্যান’-এর মতো ছবি বানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী চরিত্রে তার শারীরিক এবং মানসিক অঙ্গভঙ্গির প্রকাশ বুঝিয়ে দেয় সৎ রাজনীতিবিদদের কেমন হওয়া উচিত!

মাঝে ১৯৯৫ সালে ‘নাসিম’ ছবিতে বড় পর্দার ব্রেক থ্রু পান। ১৯৯৯ সালে করেন ‘ভুপাল এক্সপ্রেস’ ছবির কাজ। কিন্তু, কোনো কাজ হচ্ছে না! অনুরাগ ক্যশপের অভিষেক ছবি ‘পাঞ্চ’-এও কাজ করেন। কিন্তু ছবিটি সেন্সরে আটকে যায়। কাজ করেও অনেকদিন পর মুক্তি পায় ‘হাজারো খোয়ায়েশ অ্যায়সি’ এবং অনুরাগ কাশ্যপের ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’।

২০০৫ সালে সুযোগ পান রাম গোপাল ভার্মার ‘সরকার’ ছবিতে অমিতাভ বচ্চনের বড় ছেলে বিষ্ণুর চরিত্র। নেতিবাচক রোল, যে কি না সিনেমা প্রযোজনার সাথে যুক্ত থাকে। সিনেমাটিতে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাইয়ের মৃত্যুর দৃশ্যটি সবার মনে দাগ কাটে। ফিল্মফেয়ারে সেরা নেতিবাচক চরিত্রে মনোনয়ন লাভ করেন এ অভিনেতা। তারপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

‘রহস্য’ ছবিতে একজন সৎ সিবিআই অফিসার হিসেবে একাই রহস্যের শেষ প্রান্তে নিয়ে গিয়েছেন। ‘দ্য স্টোনম্যান মার্ডারস’ ছবিতে পুলিশ অফিসার হিসেবে একজন সিরিয়াল কিলারকে চিহ্নিত করেন, যিনি পাথর দিয়ে মানুষ খুন করেন ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে।

‘হায়দার’ ছবিতে শহীদ কাপুরের চাচার চরিত্রে অভিনয় করেন, আরেকটি নেতিবাচক চরিত্র। ‘শৌর্য’ ছবিতে অভিনয় করেন একজন আর্মি অফিসারের চরিত্রে, যেখানে সম্মেলন ঘটে সমাজ, রাজনীতি আর ধর্মের। ‘গুলাল’ ছবিতে ডুকে বানা চরিত্র, ভারতের রাজপুত, যাদের কষ্টের দৃশ্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

‘কর্পোরেট’ ছবিতে কর্পোরেট জগতের বাসিন্দা, নিজের ভালবাসার জন্য কর্পোরেট জগতের মুখোশ উন্মোচন করতে চান। ‘স্পেশাল অপস’-এ তিনি কখনো হার না মানা একজন র এজেন্ট। তিনি খুবই আন্ডাররেটেড একজন অভিনেতা, অথচ ক্যারিয়ার জুড়ে করে গেছেন এমন ধুরন্ধর সব চরিত্র।

তাছাড়াও দিওয়ার, লাইফ…ইন আ মেট্রো, হানিমুন ট্রাভেলস প্রাইভেট লিমিটেড, বিন্ডি বাজার, অঙ্কুর অরোরা মার্ডার কেস, দ্য গাজি অ্যাটাক, এবিসিডি সহ আরো অনেক ছবিতে নজরকাড়া পারফর্ম করেছেন।

নাম তার কৃষ্ণ কুমার মেনন। তিনি পরিচিত কে কে মেনন নামে। একজন পাক্কা অভিনেতা, নেগেটিভ রোলে যিনি অনবদ্য। মনে হয় না দেখে যে অভিনয় করছেন, দেখে মনে হয় এটাই তিনি।

 

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।