প্রেয়সী, প্রেম ও পরকীয়া

সেদিন একজন ইনবক্সে জিজ্ঞাসা করলেন, আচ্ছা ভাই আপনি কাশ্মীর নিয়ে এতো এতো আবেগি লেখা লিখেছেন, কিন্তু দার্জিলিং কেন আর কিভাবে আপনার প্রেয়সী হল? প্রেয়সী তো হবার কথা ছিল কাশ্মীরের।

তার কথা শুনে একটু হাসলাম, তারপর তাকে কাশ্মীর যাবার আগেই যে লেখাটা লিখেছিলাম সেটা পড়তে দিলাম। এইটুকু বোঝানোর জন্য যে যতই আমার প্রেয়সী হোক না কেন, কাশ্মীর আমার কাছে একদম অন্যকিছু। জানিনা তিনি কাশ্মীরের সেই লেখাটা পড়েছেন কিনা? তবে তার প্রশ্ম আমাকে অনেক দিন থেকে মনের মধ্যে জমে থাকা লেখাটা লিখতে শেষ পর্যন্ত বাধ্য করলো। তাই নিজের কাছেই নিজের মত করে আমার তিন প্রিয়কে নিয়ে লিখতে বাধ্য হলাম। অবশ্য না লিখে উপায়ও ছিলোনা। আর এরা তিনজন হল আমার প্রেয়সী, প্রেম আর পরকীয়া!

প্রেয়সী হল আমার কাছে তেমন কিছু যাকে চাইলেই আমি দেখতে পারি, তার কাছে যেতে পারি, তাকে ছুঁয়ে দিতে পারি, অনুভব করতে পারি, ইচ্ছে হলেই ছুটে পালিয়ে গিয়ে তার কাছে কিছুটা প্রশান্তি খুঁজতে পারি। মোট কথা খুব সহজেই যাকে চাইলেই পাওয়া যেতে পারে বাহুডোরে, এমন কিছুকেই আমার প্রেয়সী বলে মনে হয়। কারণ, আমি অসম্ভব কোন কিছুর স্বপ্ন সাধারণত দেখিনা, পেতে চাইনা, তার পিছনে ছুটিনা। আমার স্বপ্নগুলো ছোট ছোট, সাধ্যের মধ্যে আর যেন সেগুলো খুব দুর্লভ না হয় সেটা সবসময় মনে রাখি। অসম্ভবের পিছনে ছুটে ছুটে আমি আশাহত হতে চাইনা কখনো।

কাশ্মীর

চেষ্টা করলে যেন পেতে পারি এমন কিছুর স্বপ্ন দেখাই আমার নিজের আনন্দ। আর তাই দার্জিলিং হল আমার কাছে প্রেয়সীসম। কেননা সে খুব কাছে, প্রায় হাত ছোঁয়া দুরত্তে, চাইলেই তার কাছে যাওয়া যায়, তাকে কাছে পাওয়া যায়, ছুঁয়ে থাকা যায়। অল্পস্বল্প চেষ্টা করলেই সে ধরা দেয় আমার কাছে এক এক সময়, এক এক রূপে। তাকে মনের মত করে উপভোগ করা যায় সাধ্যের মধ্য থেকেই। তাই সে হল আমার প্রেয়সী।

এবার তবে প্রেম। প্রেম ব্যাপারটা আসলে কারো হাতে থাকেনা। অধিকাংশ সময়ই আমরা একা একাই কারো বা কোন কিছুর প্রেমে পরে থাকি। সে অন্য দিক থেকে প্রেম থাকুক বা নাই থাকুক। প্রেমে একা একাই পড়ে গিয়ে, আকাশ কুসুম কল্পনা আমরা করেই থাকি।

আর যদি একবার সেই প্রেমকে কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়ে যায়, তবে তো তাকে কাছে পাই বা না পাই অনন্তকাল ধরে সেই প্রেমের সুখ সাগরে হাবুডুবু খেতে আমাদের কোন আপত্তি নেই। একা একাই কথা বলা, নিজের মত করে স্বপ্ন বোনা, হৃদয় উজাড় করে ভালোবাসা সবই তখন সম্ভব হয়ে যায় সেই একান্ত প্রেমকে ঘিরে।

দার্জিলিং

আর আমারও তাই হয়েছে। আগে থেকেই কাশ্মীর ছিল একান্ত প্রেমের মত, নীরব, নিশ্চুপ আর নিরালায়। কিন্তু কাশ্মীর যাওয়ার পরে, তাকে কাছ থেকে দেখার পরে, তার স্পর্শ পাওয়ার পর থেকে তো আমি কাশ্মীরের প্রেমে হাবুডুবু খাই নিয়মিত। একদম প্রকাশ্যেই। বিশেষ করে পেহেলগাম তো আমাকে আমার আমির কাছ থেকেই কেড়ে নিয়েছে!

যখন তাঁর কথা মনে পড়ে আমি নির্দ্বিধায় তাকে নিয়ে একটা লেখা লিখে ফেলি মনের সবটুকু আবেগ আর অনুভূতি দিয়ে। সব প্রেম যেমন আপন হয়না, নিজের কাছে থাকেনা, নানা রকম কাটা যেমন থাকে একান্ত প্রেম গুলোতে, থাকা হাজারো বাঁধা একটু কাছে বা পাশে পেতে অথবা এক পলক চোখের দেখা দেখতে, কাশ্মীর ঠিক তেমনই প্রেম আমার কাছে।

তাকে তো চাইলেই কাছে পাওয়া যায়না, চোখে দেখা যায়না, ছুঁয়ে থাকা যায়না। শুধু তার ছবি, স্মৃতি, গল্প, কথা, তার সাথে কাটানো কিছু সুখের মুহূর্তগুলো মনে করে সুখে ভেসে যেতে হয়। প্রেমে মশগুল হয়ে থাকতে হয় আর আবারো কোন এক সময়, হাজারো সমস্যা পার করে, নানা রকম বাঁধা পেরিয়ে তার কাছে যাওয়ার অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়, একা একা নিজের মত করে রঙিন রঙিন স্বপ্ন বুনে যেতে হয়।

দার্জিলিং

কাশ্মীর হল আমার কাছে তেমন কিছু। কাশ্মীর হল পুরনো সিনেমার সেই হাজার বাঁধা পাওয়া একান্ত আর গোপন বা কখনো কখনো অবাধ্য আর আকুল প্রেমের মত। তাই কাশ্মীর হল আমার সেই প্রেম! যাকে চাইলেই দেখা যায়না, ছোঁয়া যায়না, তার কাছে ইচ্ছে হলেই চলে যাওয়া যায়না। শুধু নিজের মনে মনে তার প্রেমে মশগুল থাকতেই একটা অন্যরকম সুখের অনুভূতি অনুভব করা যায়।

এরপর আসি পরকীয়ায়! শুনতে আপত্তিকর হলেও, পরকীয়া শব্দটাই কেমন যেন একটু রসালো অনুভূতির জন্ম দেয়! একটা নিষিদ্ধ সুখের রেণু যেন চারপাশে ছড়িয়ে পরে। পরকীয়া আর কি, আপনি কারো সাথে আবদ্ধ থাকার পরেও অন্যকারো প্রতি আশক্তি সে তো সবাই জানে। আর আপনার নিষিদ্ধ সেই আশক্তিটা আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনীও জেনে থাকেন সাধারণত। একটা সময় হয়তি অন্যের প্রতি এই আসক্তি কাটিয়ে উঠতে না পেরে সরাসরি জানিয়েই দেন যে হ্যাঁ আপনি শুধু আর একজনের নয়, একটা নিষিদ্ধ সম্পর্কের জন্য সাহসী হয়ে উঠেছেন! এই হল পরকীয়ার স্বরূপ! আমার মতে।

আমারও একদম তাই হয়েছিল। আমার বউ আমাকে নানা সময় নানা রকমভাবে খ্যাপাতে চাইলেও আমি সাধারণত এসব নিয়ে কোন কথা বলিনা। চুপ করে থাকি। কিন্তু সেবার তার কাছে যাওয়ার পরে, তাকে দেখার পরে, তার সবকিছু দেখে দেখে, এতোটাই মনের মত তাকে লেগেছে, ঠিক যেন যেমনটি আমি মনে মনে চাইতাম। যেমন তার রূপ, তেমনই তার গুণ! আহা একদম মনের মত সে।

কেরালা

তার সবকিছু, পরিবেশ, প্রকৃতি, চারপাশ, খাবারদাবার, সংস্কৃতি, আদরআপ্যায়ন আর আতিথিয়তায় এতো এতো আর এতোটাই মুগ্ধ হয়েছি যে, শেষ পর্যন্ত আমার বউকে দুঃসাহসী হয়ে বলেই ফেলেছিলাম, জীবনে যদি পরকীয়ার বা দ্বিতীয় বিয়ের সুযোগ থাকতো বা আসে তবে আমি সেটা এখানেই করতাম গো! তার সাথে জড়াতাম দ্বিতীয় জীবন!

তার রূপ, গুণ, মাধুর্য, আদর, আপ্যায়ন আর সবকিছু এতোটাই আর এতোটাই হৃদয় ছুঁয়েছে, যে তাকে এক বাক্যে আমি তার সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে গিয়েছি! তার সেসব রূপের বর্ণনা আমি আগে দিয়েছি এখানে আর নয়। তাহলে অন্যরাও তার আকর্ষণে আকর্ষিত হয়ে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়তে পারে! সে হল আমার স্বঘোষিত পরকীয়া বা দ্বিতীয় বউ কেরালা! হ্যাঁ কেরালা আমার কাছে তেমনই কেউ। যদি থাকতো দ্বিতীয় বারের মত কোন সুযোগ তবে আমি নির্দ্বিধায় কেরালাকে বেঁছে নিতাম।

এই হল আমার তিনজন, প্রেয়সী, প্রেম আর পরকীয়ারাদার্জিলিং, কাশ্মীর আর কেরালা।

কেরালা

https://www.mega888cuci.com