কারিশমা কাপুর: কারিশম্যাটিক রানী থেকে বিস্মৃতির অতলে

কারিশমা কাপুর গেল ছয় বছর পর্দায় আসেননি বললেই চলে। বলা ভাল সেই ২০০৩ সালের পর থেকেই তিনি অনিয়মিত। ২০০৬ সালে অক্ষয় কুমার ও আমিশা প্যাটেলের সাথে মিলে ‘মেরে জীবন সাথী’ নামের একটি সিনেমা করেন। বক্স অফিসে সিনেমাটি আক্ষরিক অর্থেই ডুবে যায়।

বক্স অফিস ইন্ডিয়া সিনেমাটির গায়ে ‘ডিজাস্টার’ তকমা লাগিয়ে দেয়। একই সাথে ডুব দেন কারিশমাও। সেই ডুবে ডুবে ডুব সাঁতার শেষ হয় ২০১২। সেবার মুক্তি পায় ‘ডেঞ্জারাস ইশক’। আবারো কারিশমা কেন্দ্রীয় চরিত্রে, আবারো ফ্লপ। এরপর আর রুপালি জগতে কারিশমা আসেননি বললেই চলে।

যদিও, একটা সময় কারিশমা মাত্রই ছিল সাফল্য। ক্যারিয়ারে যে ৪৭ টি সিনেমা তিনি করেছেন এর মধ্যে ২৪ টি সিনেমা তাঁর ব্যবসা সফল হয়েছে। এই পরিসংখ্যানটা বেশ ভালই বলা যায়। এর বাদে তাঁর ফ্লপ ছবির সংখ্যা ১৭ টি, ডিজাস্টার ছয়টি।

কারিশমার জন্ম ১৯৭৪ সালের ২৫ জুন। দাদা হলেন কাপুর পরিবারের কিংবদন্তিুতুল্য অভিনেতা রাজকাপুর। বাবা রণধীর কাপুর, মা ববিতা। মায়ের প্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন হলিউড কিংবদন্তি জিনা লোলোব্রিজিডা। তাই বড় মেয়েকে এই নামের সাথে মিলিয়ে ‘লোলো’ বলে ডাকতেন তিনি। কারিশমারই ছোট বোন হলেন কারিনা কাপুর খান। আর চাচাতো ভাই একালের তারকা রণবীর কাপুর।

স্টারকিড হিসেবে জন্ম নেওয়া কারিশমা অভিনয় জগতেই যে আসবেন, সেটা তিনি নিজেও জানতেন। তাই পড়াশোনায় কাপুর পরিবারের বাকিদের মত তাঁরও খুব একটা মনোযোগ ছিল না। অভিনয়ে বেশি মন দিতে গিয়ে যখন তিনি মাত্র ক্লাস সিক্সে ছিলেন তখনই স্কুল থেকে নাম কাটা যায়। প্রথম সিনেমা ‘প্রেম কয়েদি’ মুক্তি পায় ১৯৯১ সালে। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৬!

কারিশমা কাপুর ‘দিল তো পাগাল হ্যায়’ (১৯৯৭) সিনেমার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা সহ-অভিনেত্রীর পুরস্কার পান। ফিল্মফেয়ারে তিনি সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান ‘রাজা হিন্দুস্তানি’ (১৯৯৬) ও ‘ফিজা’ (২০০০) সিনেমার জন্য। ফিল্মফেয়ারে তিসি সমালোচক পুরস্কার পান ‘জুবেইদা’ সিনেমার জন্য।

কারিশমা কাপুরকে ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ সিনেমার টিনা চরিত্রটা করার জন্য প্রস্তাব করেছিলেন করণ জোহর। আসলে চরিত্রটা টুইঙ্কল খান্নাকে মাথায় রেখে সাজিয়েছিলেন নির্মাতা। টুইঙ্কলের ডাক নাম হল টিনা। যদিও কারিশমা ও টুইঙ্কল – দু’জনই চরিত্রটি ফিরিয়ে দেন। চরিত্রটি করেন রানী মুখার্জী। ফিল্মফেয়ারে রানী এর জন্য সেরা সহ-অভিনেত্রীর পুরস্কারও জিতেন।

নি:সন্দেহে কারিশমার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় সিনেমাগুলো একটি হল আমির খানের বিপরীতে করা ‘রাজা হিন্দুস্তানি’। অথচ, এই সিনেমা দিয়ে বলিউডে অভিষেক হওয়ার কথা ছিল ঐশ্বরিয়া রায়ের। অ্যাশ প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন, যেমনটা দিয়েছিলেন জুহি চাওলা। সুযোগ পেয়েই বাজিমাৎ করেন কারিশমা।

‘দিল তো পাগাল হ্যায়’-তেও কারিশমা পরিচালকের প্রথম পছন্দ ছিলেন না। নিশা চরিত্রটির জন্য রাভিনা ট্যান্ডন থেকে ‍শুরু করে জুহি চাওলা, কাজল, মনিষা কৈরালা ও শিল্পা শেঠিকে কারিশমার আগে প্রস্তাব করা হয়েছিল। কেউই রাজি হননি।

কারিশমা নিজেও অবশ্য অনেক সফল ছবির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এর মধ্যে আছে ‘ইশক’ সিনেমায় জুহি চাওলার চরিত্র, ‘গুপ্ত’ সিনেমায় মনিষা কৈরালার চরিত্র। ‘অশোকা’ সিনেমার জন্যও প্রস্তাব করা হয়েছিল কারিশমাকে। তিনি ‘না’ বলে দেওয়ার পর ২০০১ সালে সিনেমাটি করেন তাঁরই বোন কারিনা কাপুর। এমনকি ‘ব্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’ সিনেমাতে ঐশ্বরিয়ার বদলে কারিশমাকে নেওয়ারই প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল।

কারিশমার ক্যারিয়ারে বড় সাফল্যগুলো এসেছে অজয় দেবগন ও গোবিন্দ’র সাথে। ‘কুলি নাম্বার ওয়ান’ ও ‘হিরো নাম্বার ওয়ান’ করে কারিশমা ও গোবিন্দ নিজেদের সময়ের সবচেয়ে সফল ‍জুটি ছিলেন। সালমানের সাথেও কারিশমার জুটি বেশ জমে গিয়েছিল। ওই সময় পরপর হিট উপহার দেওয়া সুবাদে কারিশমাকে বলা হত ‘বলিউডের রানী’। অক্ষয় কুমার ও অজয় দেবগনের সাথে কারিশমার সম্পর্ক ছিল বলে শোনা যায়। যদিও, সেসবের কোনো সত্যতা কেউই কখনো স্বীকার করেনি।

কারিশমার জীবনে বড় একটা অধ্যায় অবশ্যই অভিষেক বচ্চন। বয়সে কারিশমা বড় হওয়ার পরও দু’জনের সম্পর্ক ও তাঁদের বিয়ে বিষয়ক আলাপ তখন ভারতীয় গণমাধ্যমে রীতিমত আলোচনার ঝড় তুলছিল। অভিষেকের প্রথম সিনেমার সময়ও কারিশমার বোন কারিনা কাপুর অভিষেককে প্রায়ই ‘জিজু’ বলে ডাকতেন। বাগদানও হয়ে যায়।

কারিশমার মা অবশ্য সেই সম্পর্কের বিরোধী ছিলেন। তাঁর অভিষেককে পছন্দ ছিল না। কারণ, অভিষেকের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের সিনেমাগুলো মার খাচ্ছিল বক্স অফিসে। তাই নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন তিনি। পরে অবশ্য অভিষেক বিশ্ব সুন্দরী ও হলিউড-বলিউড তারকা ঐশ্বরিয়া রায়কে বিয়ে করেন।

আরো পড়ুন

অভিষেক-ঐশ্বরিয়ার জীবন সুখের হলেও কারিশমার বৈবাহিক জীবনটা সুন্দর হয়নি। ২০০৩ সালে শিল্পপতি সঞ্জয় কাপুরের সাথে বেশ ধুমধাম করে বিয়ে হয় কারিশমা কাপুরের। ২০১৫ সালে তাঁদে বিচ্ছেদ হয়। ক্ষতিপূরণ বাবদ কারিশমা পান সাত কোটি ‍রুপি। কিন্তু বিয়ের ফলে মন ও ক্যারিয়ারের যে বিপুল অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে সেটা কারিশমা বাদে বেশি আর কেই বা বুঝতে পারছেন!

 

 

এক নজরে কারিশমার ক্যারিয়ার

  • ব্লকবাস্টার – ৩ টি
  • সুপারহিট – ৫ টি
  • হিট – ৫ টি
  • সেমি হিট – ৪ টি
  • অ্যাভারেজ – ৫ টি
  • বিলো অ্যাভারেজ – ২ টি
  • ফ্লপ – ১৭ টি
  • ডিজাস্টার – ৬ টি
  • মোট সিনেমা – ৪৭ টি

টাইমস অব ইন্ডিয়াবক্স অফিস ইন্ডিয়া অবলম্বনে

https://www.mega888cuci.com