ব্রিটিশদের লজ্জা ও ‘বাংলাদেশ’ কেস স্টাডি

সাত সকালে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য একটা ছোট্ট ‘দু:সংবাদ’ পাওয়া গেল। টেস্ট অলরাউন্ডারদের র‌্যাংকিংয়ে দুই-এ নেমে গেছেন সাকিব আল হাসান। আসলে, বলা উচিৎ তাঁকে নামিয়ে দিয়েছেন জেসন হোল্ডার। এই বার্বাডিয়ান নিজের মাঠে ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন, সাথে নিয়েছেন দু’টি উইকেট।

সাতে নেমে স্যার ডন ব্র্র্যাডম্যানের পর মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে হোল্ডার করেছিলেন ডাবল সেঞ্চুরি। এর মধ্য দিয়ে ছুঁয়েছেন অলরাউন্ডার হিসেবে ক্যারিয়ারের সেরা রেটিং পয়েন্ট – ৪৪০! ব্যাটসম্যান হিসেবেও তিনি ২৫ ধাপ এগিয়ে চলে এসেছেন ৩৩-এ।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বার্বাডোজের ব্রিজটাউনে সেই একই টেস্টে আট উইকেট নিয়েছেন রোস্টন চেজ। বোলারদের র‌্যাংকিংয়ে তিনি ১৪ ধাপ এগিয়ে এই অফ স্পিনার চলে এসেছেন ১৪-তে। আর প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়া পেসার কেমার রোচ পাঁচ ধাপ এগিয়ে এখন আছেন ২০-এ।

এই টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে সপ্তম উইকেট জুটিতে ২৯৫ রানের অবিচ্ছিন্ন এক জুটি গড়েন হোল্ডার ও শেন ডরউইচ। এটা এই উইকেটে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসেরই তৃতীয় সেরা জুটি। জুটি গড়ার পথে ডরউইচের ব্যাট থেকে আসে ১১৬ রানের অপরাজিত এক ইনিংস। এটা তাঁকে ১৪ ধাপ এগিয়ে নিয়ে টেস্ট ব্যাটসম্যানদের র‌্যাংকিংয়ের ৪৭-এ পৌঁছে দিয়েছে।

আর এত সব অর্জনের মধ্য দিয়েই সম্ভব হয়েছে ৩৮১ রানের বিশাল এক জয়! প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড ৭৭ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪৬ রানের বেশি করতে পারেনি।

নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ৪১৫ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষনা করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচ জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের সামনে ৬২৮ রানের টার্গেট ছুঁড়ে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

জবাব দিতে নেমে তৃতীয় দিন শেষে বিনা উইকেটে ৫৬ রান করে ইংল্যান্ড। চতুর্থ দিন ব্যাট হাতে ভালোভাবে জবাব দিতে পারেনি ইংলিশরা। ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যানদের বড় ইনিংস খেলতে দেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনার রোস্টন চেজ। তার ৬০ রানে ৮ উইকেট শিকারে ২৪৬ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড।

দলের পক্ষে ররি বার্নস সর্বোচ্চ ৮৪ রান করেন। এছাড়া বেন স্টোকস ৩৪, জনি বেয়ারস্টো ৩০ ও জশ বাটলার ২৬ রান করেন। ম্যাচ সেরা হয়েছেন হোল্ডার। এই ৩৮১ রানের জয়টা রানের দিক থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়। এটাই টেস্ট ক্রিকেটের মজা। এখানে র‌্যাংকিয়ের আটে থাকা দলও হারিয়ে দিতে পারে র‌্যাংকিংয়ের তৃতীয় স্থানে থাকা দলটিকে।

২০১৮ সালটা যথেষ্ট ভাল কেটেছিল ইংলিশদের। কিন্তু, ২০১৯-এর শুরুটাই দু:স্বপ্ন দিয়ে করলো ইংলিশরা। ২০১৮’র জুলাইয়ে মাত্র ৪৩ রানে অলআউট হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অ্যান্টিগায় টেস্ট সিরিজ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসেও করতে পারে মাত্র ১৪৪ রান। হারতে হয় ইনিংস ও ২১৯ রানের বিশাল ব্যবধানে। বাংলাদেশ এখনকার মত তখনও র‌্যাংকিংয়ের নয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ যথারীতি আট নম্বরে। তাই, নিজেদের কন্ডিশনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফেবারিট থাকাটাই ছিল খুব স্বাভাবিক।

বাংলাদেশের পারফরম্যান্সটা মন্দ ছিল নি:সন্দেহে। তবে, সেদিক থেকে র‌্যাংকিংয়ের তিনে থাকা ইংল্যান্ডের জন্য পারফরম্যান্সটা কি আরেকটু বেশি লজ্জাজনক নয়? যেখানে ক’দিন আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে হোয়াইটওয়াশ হয়ে ফিরেছে।

বাংলাদেশ অবশ্য পরে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে সেই লজ্জার প্রতিশোধটা ওয়েস্ট ইন্ডিজে বসেই নিতে পেরেছিল। ইংল্যান্ড চাইলে বাংলাদেশের ‍উদাহরণটা মনে রাখতে পারে।

– ক্রিকবাজ, ক্রিকইনফো ও ডেইলি মেইল অবলম্বনে

https://www.mega888cuci.com