জিমি শেরগিল: চকলেট বয় থেকে পুরোদস্তর ‘রাফ অ্যান্ড টাফ’

একটা খুবই প্রচলিত ধারণা হল জিমি শেরগিলের প্রথম সিনেমা ২০০০ সালের ‘মোহাব্বাতে’। কথাটা ভুল। জিমি বলিউডে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেন এরও চার বছর আগে – গুলজারের পরিচালিত সফল ছবি ‘মাচিস’ দিয়ে। কার্যত ‘মোহাব্বাতে’ তার তৃতীয় ছবি।  ১৯৯৯ সালে মুক্তি পেয়েছিল জিমি অভিনীত ‘জাহা তুম লে চালো’।

যদিও, ‘মোহাব্বাতে’ই তার সবচেয়ে বড় ব্রেক থ্রু। যশ রাজ ফিল্মসের ব্যানারের ছবিটাতে চকলেট বয় ইমেজের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেন জিমি। সেখান থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ছবির অন্য দুই আবিষ্কার যুগল হংসরাজ ও উদয় চোপড়া যেমন অনেক আগেই নিজেকে হারিয়ে ফেলেছেন, সেখানে আজো দিব্যি প্রথম সারির ছবিতে অভিনয় করে যাচ্ছেন জিমি।

তবে, এখন আর তিনি যশ রাজদের ছায়াতলে থাকা সেই চকলেট বয়টি নেই। এখন অনেকাংশেই রাফ অ্যান্ড টাফ সব চরিত্রে দেখা মিলে তাঁর। যত শক্ত চরিত্রই হোক না কেন নিজেকে ভেঙে চুড়ে ঠিকই মানিয়ে নিতে পারেন জিমি।

জিমি একটু একটু করে ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের একটা আলাদা জায়গা বানিয়েছেন। মুন্না ভাই এমবিবিএস-এর জহির ভাই, স্পেশাল ২৬-এর এসআই রণবীর সিং, তানু ওয়েডস মানু’র রাজা আভাস্তি কিংবা মুক্কাবাজের ভগবানদাস মিশ্রা – সব খানেই নিজের অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ রেখেছেন তিনি।

জিমির জন্ম ১৯৭০ সালের তিন ডিসেম্ব, উত্তর প্রদেশের সর্দারনগরে। পাঞ্জাবী পরিবারে তাঁর নাম রাখা হয় জাসজিৎ সিং গিল। এমনকি প্রথম ছবি ‘মাচিস’-এ এই নামেই এসেছিলেন তিনি।

পাঞ্জাবী শিখ হওয়ায় ধর্মীয় ভাবেই জিমিদের পাগড়ি পরার রীতি আছে। জিমিও ১৮ বছর অবধি সেই রীতি মেনেছেন। এরপর ছেড়ে দিয়েছেন। সিদ্ধান্তে পরিবার বেশ নাখোশ ছিল। প্রায় দেড় বছর পর্যন্ত জিমির সাথে বাকিরা কথা অবধি বলতো না।

তবে, আজ সকল মনোমালিন্য চুকেবুকে গেছে। শুধু তাই, নয় পাঞ্জাবী ছবিতেও জিমি এখন বড় মুখ। কাজ করছেন সেই ২০০৫ সাল থেকে। সেখানে এখন তিনি বিশাল স্টার।

তবে, বলিউডে চাইলে তাকে সবচেয়ে অবমূল্যায়িত অভিনেতাদের একজনও বলা যায়। দুই একটা কমেডি ড্রামা বা দুই একটা নেতিবাচক চরিত্র ছাড়া জিমির পুরোটা কাজে লাগাতে পেরেছেন বা চেয়েছেন খুব কম নির্মাতাই। ফলে, যত ভিন্নধর্মী চরিত্রই তিনি করেন না কেন, তার প্রভাব খুবই ক্ষনস্থায়ী।

চলচ্চিত্র সমালোচকরা অবশ্য বলেন, এই অবমূল্যায়নের কারণ হল ছবিগুলোতে জিমির অধিকাংশ চরিত্রগুলোতে গভীরতা থাকে খুবই কম। ফলে, সেটাকে আলাদা করে মনে রাখা যায় না। জিমির অবশ্য তাতে কিছু যায় আসে না।

তিনি বলেন, ‘আমি যেসব ছবির প্রস্তাব পাই সেগুলো মূলত একটা ছকে বাঁধা থাকে। সিনেমার কোনো একটা বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনে চরিত্রগুলোর আবির্ভাব ঘটে। তবে, একজন অভিনেতা হিসেবে আমি চরিত্র নিয়ে খুব একটা ভাবি না। যেই দায়িত্ব পাই সেটা সঠিক ভাবে পালনে বিশ্বাস করি। অভিনয়ের জন্য হেরে যাওয়াদের দলে থাকাতে কোনো ভুল নেই।’

https://www.mega888cuci.com