বিশ্ববাজারে বলিউডের অবস্থান: দর্শকরা কি চায়?

২০১২ সালের পর থেকে বিশ্বব্যাপী বলিউডের ২৯ টি সিনেমা ২০০-কোটির ওপর আয় করেছে। এর মধ্যে ৫০০-কোটির বেশি আয় করেছে ১০ টি সিনেমা।

বৈশ্বিক বাজারে বলিউডের সেরা ১০

  • দাঙ্গাল (২০১৬) – ১৮৯৯.৩৫ কোটি রুপি
  • বাজরাঙ্গি ভাইজান (২০১৫) – ৯১৫ কোটি রুপি
  • সিক্রেট সুপারস্টার (২০১৭) – ৯০২.৯২ কোটি রুপি
  • বাহুবলি ২ হিন্দি (২০১৭) – ৮৯৩.৪৩ কোটি রুপি
  • পিকে (২০১৪) – ৮৩১.৫০ কোটি রুপি
  • সুলতান (২০১৬) – ৫৮৯ কোটি রুপি
  • টাইগার জিন্দা হ্যায় (২০১৭) – ৫৬২.১২ কোটি রুপি
  • পদ্মাবত (২০১৮) – ৫৬০ কোটি রুপি
  • ধুম ৩ (২০১৩) – ৫৫৮ কোটি রুপি
  • সাঞ্জু (২০১৮) – ৫৩৯.৮৮ কোটি ‍রুপি (চলছে)

এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বলিউডের অবস্থান দিনকে দিন মজবুত হচ্ছে। একই সাথে বলিউডের নির্মাতা, অভিনেতাদের জন্য কিছু বার্তাও দিচ্ছে এই সেরা ১০-এর তালিকা। চলুন, এবার একটু ভেঙে বলি।

  • কনটেন্ট নির্ভর সিনেমার জয়জয়কার

সিঙ্গেল স্ক্রিন ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাল্টিপ্লেক্সেও মসলা নির্ভর সিনেমাকে কেউ আটকাতে পারে না। তবে, একটা ব্যাপার স্পষ্ট যে, বৈশ্বিক বাজারে এর কোনো ঠাঁই নেই। সেকারণেই ভারতে যেখানে ‘সিক্রেট সুপার স্টার মাত্র ৮০ কোটি রুপি আয় করেছে সেখানে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে সিনেমাটি ৮২২.৯৩ কোটি রুপি আয় করে ফেলেছে।

  • আমির খানের এক্স ফ্যাক্টর

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে অন্য যে কারো চেয়ে আমির খান এখন বড় তারকা। বলিউডে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বাকি ‍দুই খানের চেয়ে কম হলেও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তিনিই সবচেয়ে সফল। তাই তো সেরা ১০-এ আছে আমির খানের চারটি সিনেমা। তালিকায় সবার ওপরে থাকা আমিরের ‘দাঙ্গাল’ সিনেমাটি প্রায় ১৯০০ কোটি রুপির ব্যবসা করেছে।

  • ঐতিহাসিক সিনেমা

ঐতিহাসিক কিংবা কাল্পনিক রাজারাজরাদের সিনেমাগুলো ভাল ব্যবসা করেছে। বিশেষ করে বাহুবলি’র দ্বিতীয় কিস্তির হিন্দি সংস্করণ আছে তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে। অন্যদিকে পদ্মাবত আয় করেছে ৫৬০ কোটি। এই ধরণের সিনেমা বানানোর ক্ষেত্রে ভারত অবশ্যই আদর্শ জায়গা। এই জায়গাটা তাই আরো কাজে লাগানো দরকার।

  • সালমান খানের স্টারডম

আমির খানের মত না হলেও সালমান খানের স্টারডমটাও কম না আন্তর্জাতিক বাজারে। সালমান খান অভিনিত তিনটি সিনেমা জায়গা করে নিয়েছে এই তালিকায়। এর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ‘বাজরাঙ্গি ভাইজান’ আয় করেছে ৯১৫ কোটি রুপি। তবে, একটা ব্যাপার উল্লেখ না করলেই না যে বাকি দুটি সিনেমা মানে ‘সুলতান’ ও ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’-তে অ্যাকশন, ড্রামার সাথে কনটেন্টটেও যথেষ্ট মনোযোগ দিয়েছেন নির্মাতারা।

  • শাহরুখ খানের অনুপস্থিতি

৫০০-কোটির ঘরে কিং খানের একটা সিনেমাও জায়গা করে নিতে পারেনি। খুব কাছাকাছি গিয়েছিল চেন্নাই এক্সপ্রেস। তবে, তার আয় ৪২২ কোটি রুপিতে গিয়ে থেমে যায়। সেরা ২৯-এ শাহরুখের সিনেমা আছে আর মাত্র চারনটি – দিলওয়ালে (৩৯৪ কোটি রুপি), হ্যাপি নিউ ইয়ার (৩৮৫ কোটি রুপি) ও রাঈস (২৮৭.৭১ কোটি রুপি) ও জাব তাক হ্যায় জান (২৪১ কোটি রুপি)। বলাই বাহুল্য, নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে বলিউড বাদশাহর।

  • অক্ষয়-হৃতিকদের ঠাঁই নেই

সেরা দশে সময়ের আরো দুই প্রতিষ্ঠিত নায়ক অক্ষয় কুমার কিংবা হৃতিক রোশনদের কোনো সিনেমা ঠাঁই পায়নি। সেরা ২৯-এ হৃতিকের আছে তিনটি সিনেমা – কৃশ ৩ (৩৭৪ কোটি রুপি), ব্যাঙ ব্যাঙ (৩৪০ কোটি রুপি) ও কাবিল (২০৯.৫০ কোটি রুপি)।

অন্যদিকে অক্ষয় কুমারের চারটি সিনেমা আছে সেরা ২৯-এ। সেগুলো হল – টয়লেট: এক প্রেম কাঁথা (৩১৬.৬১ কোটি রুপি), এয়ারলিফট (২৩১.৬০ কোটি রুপি), রুস্তম (২১৮.৮০ কোটি রুপি) ও জলি এলএলবি ২ (২০০.৬৪ কোটি রুপি)। অর্থাৎ, সেরাদের কাতারে আসার জন্য আরো ভাল করার কোনো বিকল্প রাস্তা খোলা নেই তাঁদের সামনে।

https://www.mega888cuci.com