ভৌতিক জনরা: বাংলা সিনেমায় নতুন সম্ভাবনার দুয়ার

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাতে অতিপ্রাকৃত বা ভৌতিক জনরার প্রথম ছবি কোনটি? চট করে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া মুশকিল। ড. ফাহমিদুল হক স্যারের লেখা পড়ে জানলাম ছবিটির নাম ‘ডাইনি বুড়ি’। ২০০৮ সালের সিনেমা। নির্মাতা ‘খাইরুন সুন্দরী’ খ্যাত পরিচালক এ কে সোহেল।

ইউটিউব ঘাটলে এই সিনেমা খুঁজে পাওয়া যায়। ভূত নির্মানের জন্য যেমন স্পেশাল ইফেক্ট ব্যবহার করা হয়েছে সেটা যথেষ্ট হাস্যকর, ভয় লাগার কোনো প্রশ্নই নেই।

সে যাই হোক, এই ডাইনি বুড়ির জন্য ‘দেবী’ ঢালিউডের প্রথম অতিপ্রাকৃত বা হরর জনরার ছবি বলা যাচ্ছে না।  কারণ বছর দশেক আগেই সে জায়গাটা দখল করে ফেলেছে ডাইনি বুড়ি।

যদিও, একটা কথা অবশ্য বলাই যায় যে, এই জনরাতে এত সুন্দর নির্মান আগে কখনো দেখেনি ঢাকার সিনেমা। হরর বা সুপারন্যাচনার জনরাতে বাংলা সিনেমায় যে তীব্র অভাববোধ ছিল তাঁর কিছুটা হলেও মোচন করতে পেরেছে ‘দেবী’।

জয়া আহসান, চঞ্চল চৌধুরী, শবনম ফারিয়া, ইরেশ জাকেররা খ্যাতনামা কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের মিসির আলী সিরিজের গল্প অবলম্বনে নির্মিত সিনেমায় নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পেরেছেন। গৎবাঁধা সিনেমার প্রাচীন পন্থা থেকে বের হয়ে বাংলা সিনেমায় অভিনবত্ব উপহার দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন পরিচালক অনম বিশ্বাস। দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া এবার প্রযোজক হিসেবেও পাশ মার্ক পেলেন।

এবার এই দেবীরই ধারাবাহিকতায় কাছাকাছি সময়ে আরেকটি হরর জনরার ছবি মুক্তি পেতে চলেছে। পরিচালক তানিম রহমান অংশু তাঁর দ্বিতীয় সিনেমা ‘স্বপ্নের ঘর’ নিয়ে আসছেন। সিনেমার ট্রেইলার বলছে, সিনেমাটি বাংলাদেশে হরর জনরার জন্য নতুন এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।

তানিম এর আগে ভিন্নধারার নাটক নির্মান করে আলোচিত হয়েছেন। তার প্রথম সিনেমা ‘আদি’ অনেক আলোচিত হলেও এখনো মুক্তি পায়নি। এর মধ্যেই দ্বিতীয় সিনেমা মুক্তির দিনক্ষণ ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে। অপেক্ষ মাত্র কয়েকদিনের।

সিনেমার কাহিনী লিখেছেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম হরর লেখক আনীশ দাস অপু আর চিত্রনাট্যের কাজ সাথে করেছেন শাওন হক । অভিনয় করেছেন আনিসুর রহমান মিলন, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত জাকিয়া বারী মম, শিমুল খান, কাজী নওশাবাসহ আরো অনেকেই।

পরিচালক সিনেমাটি নির্মানে যথেষ্ট সময় দিয়েছেন। সেই ২০১৬ সালে শুরু হয় এর কাজ। প্রাথমিক ভাবে গল্পের সাথে মিল রেখে নাম রাখা হয় ‘স্বপ্নবাড়ি’। এই বছরই শুটিং ও পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ শেষ হয়েছে। সিনেমাটি সেন্সরে জমা দেওয়ার পর নিবন্ধন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নাম পরিবর্তন করতে হয়েছে। প্রযোজকের ইচ্ছায় নতুন নাম ‘স্বপ্নের ঘর’ রাখা হয়েছে।

ভৌতিক বা অতিপ্রাকৃত বিষয় নিয়ে দর্শকমহলে আগ্রহের কমতি নেই। এজন্যই তো হলিউডে হরর সিনেমার এত কদর। এতকাল বাংলাদেশে এই ধারাটি ছিল একেবারেই শূণ্য মরুভূমি। দেবী এসে গেছে, আসছে স্বপ্নের ঘর। বলা যায়, এরই মধ্য দিয়ে বাংলা সিনেমায় নতুন একটি সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হল। এবার এই জনরাটিকে যথার্থ কায়দায় কাজে লাগানোর পালা!

https://www.mega888cuci.com