এ তো সবে শুরু!

১৭ মে, ১৯৯৮। হায়দারাবাদ। ভিনদেশের মাটিতে সেদিন ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। কেনিয়াকে হারিয়ে নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথমবারের মত কোনো আন্তর্জাতিক জয় ছিনিয়ে এনেছিল দলটি।

২১ বছর পরের আরেকটি ১৭। এর মধ্যে, অনেক পালাবদল হয়েছে। অনেক দূর এগিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটে। টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়ে যাওয়া দলটি এখন নিজেদের দিনে বিশ্বের যে কোনো ক্রিকেট শক্তির জন্যই হুমকির কারণ।

কিন্তু, একটা জায়গায় অচলাবস্থা ছিল।

এতগুলো বছর কেটে গেলেও যে একবারো কোনো বহুজাতিক ওয়ানডে টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতা হয়নি। নয় বছর হয়ে গেছে ফাইনালে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলেছে বাংলাদেশ। কিন্তু, ফাইনালে গিয়েই যেন কি একটা হয়।  প্রতিবার একদম কাছাকাছি গিয়ে ফিরে আসতে হয় বাংলাদেশকে। এর থেকে বড় দু:স্বপ্ন যেন আর নেই।

দু:স্বপ্নের মিছিলে ইতি হল সেই ১৭ মে-তে গিয়েই। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে আয়ারল্যান্ডের ম্যালাহাইডে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিতলো মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। এই একটা জয়ের জন্য কত চেষ্টা, কত অপেক্ষা ছিল – বলে শেষ করা যাবে না।

২০১২ সালের এশিয়া কাপের অন্তিম মুহূর্তের কুশীলব ছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, ২০১৮ সালের এশিয়া কাপেও তাই। এবারের শিরোপা জয়টা আসলো তাঁর ব্যাট থেকেই আসা এক বাউন্ডারি দিয়ে। নিয়তির কি মধুর খেলা!

২০১৮ সালের নিদাহাস ট্রফিতে ভারতের বিপক্ষে শেষ ওভারটা করেছিলেন সৌম্য সরকার। দীনেশ কার্তিক যখন ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ বের করে নিলেন, তখন চোখের পানির কথা নিশ্চয়ই কারোই ভুলে যাবার কথা নয়। সেই সৌম্য এবার ৬৬ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেললেন। ব্যর্থতার কষ্ট যার বুকে আছে, সাফল্যের রাস্তার দেখা পাওয়ার সবচেয়ে যোগ্য তো তিনিই।

আর মোসাদ্দেক আবারো দেখিয়ে দিলেন, কেন তিনিই বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ভবিষ্যতের কাণ্ডারী? এমন চাপের মুখে, এরকম ঠাণ্ডা মেজাজের দাপুটে ব্যাটিং আগে কখনো বাংলাদেশ ক্রিকেট দেখেছে কি না সন্দেহ।

১৫.৪ ওভারে দলীয় ১৪৩ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এ অবস্থায় জয়ের জন্য ৫০ বলে ৬৭ রান দরকার ছিলো বাংলাদেশের। আস্কিং রেট ছিলো আটের সামান্য উপরে। এমন সময় ক্রিজে আসেন মোসাদ্দেক। ২২ তম ওভারে বিধ্বংসী রুপ নেন মোসাদ্দেক।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁ-হাতি স্পিনার ফ্যাবিয়ান অ্যালেনের করা সেই ওভার থেকে যথাক্রমে – ৬, ৬, ৪, ৬, ২ ও ১ রান নেন মোসাদ্দেক। অর্থাৎ ঐ ওভার থেকে ২৫ রান তুলে মাত্র ২৩ বলে নিজের হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। রণতরীর বন্দরে ভিড়ে যাওয়া তখন একেবারেই নিশ্চিত হয়ে গেছে।

এবার এই ছোট শিরোপাই যেন অজস্র বড় শিরোপা জয়ের সূচনা হয়। মাশরাফি যেমন বলেই দিলেন, ‘অবশ্যই এটা দারুণ একটা অনুভূতি। আশা করি এটা মাত্র শুরু হল। এবার এটা ধরে রাখার পালা।’

https://www.mega888cuci.com