জেনারেল চেরচেশভ: রুশ বিপ্লবের নেতা

বিশ্বকাপ শুরুর আগে রাশিয়াকে অন্যতম খর্বশক্তির দল হিসেবেই দেখা হয়েছিল। র‌্যাংকিয়ে ৭০-এ থাকা দলটির ক্ষেত্রে এমনটা ভাবা অমূলকও নয়। সেই রাশিয়াই হেসেখেলে গ্রুপ পর্বের বাঁধা অতিক্রম করে ফেললো।

এই রাশিয়ান বিপ্লবের রহস্যটা কি? রহস্যের মূলে আছেন ৫৪ বছর বয়সী এই বুড়ো। তিনি হলেন স্ট্যানিস্লেভ চেরচেশভ। এই মাস্টারমাইন্ড কোচের কৌশলেই তো দ্বিতীয় পর্বের টিকেট পেয়েছে রাশিয়া।

তাঁর বার্ষিক বেতন ২.৬ মিলিয়ন ইউরো। ২০১৬ সালে রাশিয়ার জাতীয় দলের দায়িত্ব পান তিনি। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চমকের নাম রাশিয়া। শেষ ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারলেও এর আগেই দুই ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপের নকআউট রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে তারা। এই কোচের সৌজন্যেই তো আলেকজ্যান্ডার গোলোভি, অ্যারটেম জুবা কিংবা ডেনিশ চেরিশভরা নিজেদের মেলে ধরতে পেরেছেন।

চেরচেশভের জন্ম ১৯৬৩ সালে অ্যালাজিরে। অল্প বয়সেই বাবা-মা ও চার বোনের সাজানো গোছানো পরিবারের মায়া ত্যাগ করে ফুটবলে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য মনোনিবেশ করে ফেলেন।

ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি ছিলেন ফরোয়ার্ড। তবে, ১৪ বছর বয়সে তিনি হাতে গ্লাভস তুলে নেন, সেই থেকে তিনি গোলরক্ষক।

রাশিয়া দলেও খেলেছেন তিনি। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে রাশিয়া ৬-১ গোলে লজ্জায় ডোবায় ক্যামেরুনকে। সেই ম্যাচে রাশিয়ার গোলপোস্ট সামলেছেন চেরচেশভ।

খেলোয়াড়ী জীবনে তিনটি সোভিয়েত লিগ, একটি সোভিয়েত কাপ ও দু’টি রাশিয়ান লিগ জিতেছেন স্পার্টাক মস্কো’র হয়ে। এরপর তিনটি অস্ট্রেলিয়ান বুন্দেসলিগা জিতেছেন টাইরোল ইন্সব্রাকের হয়ে।

২০১৬ সালে কোচ হিসেবে তিনি লেগিয়া ওয়ারসকে পোলিশ ডাবল জেতান। সেই সুবাদে তিনি এখন আছেন স্বাগতিক দলের ডাগআউটে।

রোববার দ্বিতীয় রাউন্ডে চেরচেশভের প্রতিপক্ষ স্পেন। সেই ম্যাচে মাঠে নামার আগে প্রতিপক্ষ কড়া একটা বার্তাই জানিয়ে রাখলেন তিনি। লা রোজাদের তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রুশরা কাউকে ভয় পায় না।

রাশিয়ান কোচের চোখ এখন সেমিফাইনালে। তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে ভয় পাই না। আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল সেমিফাইনালে পৌঁছানো।’

এই চ্যালেঞ্জ জিতে গেলেই ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়ে যাবে রাশিয়া দলের নাম!

– মার্কা অবলম্বনে

https://www.mega888cuci.com