পুরস্কারের ক্ষেত্রে ‘সেরা চলচ্চিত্র’ ও ‘সেরা পরিচালক’ ভিন্ন কেন হয়?

মনে করেন, একটা রান্নার প্রতিযোগীতা হলো। সেখানে দুটো পুরস্কার, ১. সেরা খাবার ২. সেরা রাঁধুনী

ধরেন নুডুলস রান্না করা খাবারটা অনেক সুস্বাদু হয়েছে, অন্য সবার চেয়ে ভাল হয়েছে, সেটা হলো ‘সেরা খাবার’।

কিন্তু দেখা গেল, ‘সেরা রাঁধুনী’র পুরস্কারটা পেল অন্য চটপটি খাবারের রাঁধুনী। ‘সেরা খাবার’ এর জন্য ক্রেডিটটা তো রাঁধুনীরই নাকি? তাহলে ‘সেরা খাবার’ হওয়া স্বত্তেও কেন তিনি ‘সেরা রাঁধুনী’ হলেন না?

কিংবা ‘সেরা রাঁধুনী’র রান্না করা খাবারটাই বা কেন ‘সেরা খাবার’ হলো না? সেরা রাঁধুনী অথচ, তার রান্না করা খাবার সেরা না। বা সেরা খাবারের রাঁধুনী সেরা না।

বিষয়টা কেমন না!

চলচ্চিত্র পুরস্কারের ক্ষেত্রে ‘সেরা চলচ্চিত্র’ আর ‘সেরা পরিচালক’ ভিন্ন কেন হয়? এই বিষয়টা আমার মাথায় কিছুতেই ঢুকে না। বিষয়টা সর্বত্রই আছে। অস্কারেও আছে। প্রশ্ন হলো কিন্তু কেন?

একজন জিজ্ঞেস করলো- ‘অজ্ঞাতনামা’তে প্রধান চরিত্র কে?

আমি বললাম – ‘অজ্ঞাতনামা’র প্রধান চরিত্র হলো আছির উদ্দিন প্রামানিকের ‘লাশ’। ওকে কেন্দ্র করেই তো গল্প, তাই লাশটাই এখানে প্রধান চরিত্র। প্রধান চরিত্র একটি গাড়ীও হতে পারে, আবার একটি সিগারেটও হতে পারে।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার সহ সকল পুরস্কার ক্যাটাগরিতে ‘সেরা অভিনেতা’ (Best Actor), ‘সেরা অভিনেত্রী’ (Best Actress) থাকে। এখানে সেরা অভিনেতা/অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে সাধারনতঃ প্রধান চরিত্র বলতে বুঝায় নায়ক/নায়িকা চরিত্রকে। এটা শুধু আমাদের দেশে নয়, বর্হিবিশ্বেও, অস্কারেও একই নিয়ম।

যেমন, ‘পদ্মাবত’ সিনেমার জন্য যদি সেরা অভিনেতার পুরস্কার দেয়া হয়, তাহলে কি তা রনবীর সিং পাবে? মোটেও না। সেই ক্যাটাগরিতে দিলে অবশ্যই শহীদ কাপুরকে দিতে হবে। অথচ রনবীরের অভিনয় শ্রেষ্ঠ ছিল। যার ধারে কাছে শহীদ কাপুর নেই। রনবীর যদি পায় তাহলে পাবে খল চরিত্রের জন্য। অথচ, সিনেমার নাম ‘পদ্মাবত’ আর পুরো সিনেমার কাহিনী ‘খিলজী’ কে কেন্দ্র করে। কিন্তু পুরস্কারের ব্যাকরণে ‘খিলজি’ প্রধান চরিত্র না, ভিলেন। আর প্রধান চরিত্রগুলো হলো ‘পদ্মাবত’ ও ‘রতন সিং’।

আসলে পুরস্কারপ্রাপ্ত সকল অভিনেতা/অভিনেত্রীরাই শ্রেষ্ঠ। তাই তো তারা পুরস্কার পাচ্ছে। প্রধান চরিত্র, পার্শ্বচরিত্র, খল চরিত্র। সবগুলোর আগেই কিন্তু ‘শ্রেষ্ঠ অভিনেতা/ অভিনেত্রী’ (Best Actor/Actress) কথাটি উল্লেখ থাকে।

ফজলুর রহমান বাবু ভাই অবশ্যই ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’ সিনেমা থেকে ‘অজ্ঞাতনামা’য় অনেক ভাল অভিনয় করেছেন। তা তিনি নিজেও জানেন। কারণ ‘অজ্ঞাতনামা’য় অভিনয়ের স্কোপ ছিল।

উঠোন ভর্তি মানুষের সামনে যখন তিনি ছেলের মৃত্যু সংবাদ পান, তখন বেশ কিছুক্ষন স্তম্ভিত হয়ে যান। এদিক ওদিক তাকান, ঢোক গিলেন। ছটফট করেন, মুখ দিয়ে কথা বের হয় না। বুকের ভিতর যেন পাথর চাপা দেয়া হয়েছে। পিছনে স্ত্রী কাঁদছে, তিনি মাটিতে বসে পরেন। তিনি যেন নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারছেন না। এমন বাস্তবিক অভিনয় করা অভিনেতা খুবই বিরল।

প্রধান না পার্শ্ব?

সেই বিতর্কে না গিয়ে পুরস্কারটা যোগ্য কাজের জন্যই দেয়া হচ্ছে কিনা তা দেখা উচিত। বাবু ভাই অবশ্যই পুরস্কারের যোগ্য, কিন্তু তার কোন কাজের জন্য? সেটাই প্রশ্ন। এখানে চোখ বন্ধ করে অবধারিতভাবে বলে দেয়া যায়, ‘অজ্ঞাতনামা’র বাবু ভাই অনেক বেশী শক্তিশালী ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’র বাবু ভাই থেকে।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারটা ‘অজ্ঞাতনামা’র জন্যই তাঁকে দেয়া উচিত ছিল।

https://www.mega888cuci.com