সাফল্য অলস শিক্ষক, ব্যর্থতাই হল প্রকৃত বন্ধু: আয়ুষ্মান খুড়ানা

প্রচলিত ঘরানার অভিনেতাদের সাথে তাঁকে মেলানো যায় না বললেই চলে। নিজের প্রতিভার সাথে সামঞ্জস্য বজায় রেখে তিনি সমান তালে পরিশ্রম করে চলেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর বিভিন্ন ঘরানার প্রতিভা আছে। এমটিভ ইন্ডিয়ার ‘রোডিজ’ রিয়েলিটি শো জিতেছেন। রেডিও-টেলিভিশনের সঞ্চালক হিসেবে তাঁর আছে সমৃদ্ধ এক ক্যারিয়ার। গানটাও বেশ ভাল গান, প্লে-ব্যাক করেন। তবে, আগের সব কিছুকে এই আয়ুষ্মান খুড়ানা ছাড়িয়ে গেছেন সিনেমা দিয়েই। আজ থাকছে তাঁর একটি সাক্ষাৎকার।

পরপর আপনার দারুণ সব ছবি আসছে। কতটা এক্সাইটেড?

– ২০১৭ সালে যখন ‘শুভ মঙ্গল সাবধান’ আর ‘বেরেলি কী বারফি’পরপর এসেছিল, তখন দর্শকের ভালবাসা পেয়েছিলাম। কিন্তু ছবির ব্যবসা কম হয়েছিল। দুটো ভাল ছবির মধ্যে ব্যবধান থাকলে বক্স অফিসে সংখ্যার দিক থেকে আরেকটু বেশি লাভ হয় আর কি!

টেলিভিশন-রেডিওতে কাজ করেছেন আগে। সেখান থেকে এসে সিনেমার বড় পর্দায় কাজ করা কতটা কঠিন ছিল?

– রেডিও জকি বা টিভি সঞ্চালক হিসেবে সেলেব্রিটিদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময়েই আমার একটা ফেস ভ্যালু তৈরি হয়ে গিয়েছিল। যদিও একমাত্র সুজিত সরকার ছাড়া আমার উপর আর কেউ ভরসা করেননি। ‘ভিকি ডোনার’ সিনেমাটি আমার ক্যারিয়ারের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

বাকিদের চেয়ে আপনার ক্যারিয়ারের ধাঁচটা অন্যরকম…

– সেটা প্রথম ছবি থেকেই তৈরি হয়ে গিয়েছিল। থিয়েটার করার আগে পথ নাটক করতাম। আর সেখানে দর্শককে ডেকে আনতে হতো নাটক দেখানোর জন্য। দর্শকের আগ্রহ কাড়তে না পারলে তাঁরা উঠে চলে যাবেন। পথ নাটক সাধারণত সামাজিক বিষয়ের উপরে হয়। দর্শকের বিনোদনের বিষয়টাও মাথায় রাখার দরকার। ছবি করার সময়েও ওটাই কাজে লেগেছে।

মিউজিক আপনার ক্যারিয়ারে কতটা ‍গুরুত্বপূর্ণ?

– আমার সব ছবিতে আমার কণ্ঠে একটা গান থাকবেই। এ ছাড়া আমি প্রতি বছর একটা করে একক গান লঞ্চ করি। আমার ব্যান্ডের সঙ্গে লাইভ কনসার্ট করে থাকি। তবে, আমার ক্যারিয়ারে অভিনয়ের গুরুত্বই এই মুহূর্তে বেশি।

ইন্ডাস্ট্রিতে তো এখন অনেক প্রতিযোগীতা। আপনার মূল্যায়নটা কেমন?

– এত ভেবে কাজ করি না। যার সঙ্গে কাজ করি, তাকে সব সময়ে এগিয়ে রাখি। যাতে সে-ও আমার সঙ্গে কাজে উৎসাহী থাকে। নিজের জায়গা নিয়ে আমি নিশ্চিন্ত। সকলের মধ্যেও আমাকে চোখে পড়ে দর্শকের। তা ছাড়া ইন্ডাস্ট্রি খুব ভাল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নতুন হিরো আসছে। টাইগারের চেয়ে বরুণ আলাদা। আবার রণবীর সিংয়ের চেয়ে রণবীর কাপুর আলাদা। আমি রাজকুমার রাওয়ের চেয়ে আলাদা। অন্যের কাজ দেখার থেকে নিজের দক্ষতা জায়গা তৈরি করা জরুরী।

আপনি কি সুপারস্টার হওয়ার স্বপ্ন দেখেন?

– সত্যি কথা বলতে, আমি শুধু জীবনে সুখী হতে চেয়েছি। আমি একজন অভিনেতা ও একজন গায়ক হিসেবে গড়ে উঠেছি। আর সুপারস্টার হওয়া তো আর কারো হাতে নেই। এটা নির্ভর করে, ভক্তদের সাথে কিভাবে আপনি সংযোগ রক্ষা করবেন তার ওপর। এগুলা তো আর অনুমান করা যায় না। তাই, সুপার স্টার হওয়ার উচ্ছাভিলাস নেই। তবে, হয়ে গেলেও আমার কোনো আপত্তি নেই।

বলিউডে স্বজনপ্রীতিকে আপনি কিভাবে দেখেন?

– স্টার কিডরা শুধু বাকিদের ক্ষেত্রে একটু ঘটা করে ক্যারিয়ারের শুরু করতে পারে। অবশ্যই এটা খু্‌বই জরুরী একটা ব্যাপার। তবে এটাকে আমি সমস্যা মানি ন। ওদের লঞ্চ খুব সহজে করা হলেও টিকে থাকতে ওদেরও আলাদা বেঞ্চমার্ক তৈরি করতে হয়। এখানে প্রতিনিয়ত নিজেকে বদলাতে হয়।

কি মনে হয়, নিজেকে কতটা বদলাতে পেরেছেন?

– আমরা নিজেরাই নিজেদের পথটা বাছাই পরে। তবে, জীবন তার নিজের ঢঙেই পাল্টায়। আমি জীবনে সাফল্য যেমন দেখেছি, ব্যর্থতাও দেখেছি। আমার প্রথম সিনেমাটা আশার চেয়েও বেশি ভাল করে। দ্বিতীয়টা ছিল মোটামুটি, তৃতীয়টা ছিল ফ্লপ। সাফল্য অলস শিক্ষক, ব্যর্থতাই হল প্রকৃত বন্ধু, দার্শনিক ও পথপ্রদর্শক।

কিন্তু এই ইন্ডাস্ট্রি তো ব্যর্থতা সহ্যই করতে পারে না…

– যেকোনো ইন্ডাস্ট্রির চিত্রটাই তো এমন। আমি এরই মধ্যেই যত ব্যর্থতা দেখেছি যে এটা সামলানোর কায়দাটা শেখা হয়ে গেছে। ফলে আমার মধ্যে কোনো নিরাপত্তা হীনতা নেই। আমি একজন বাস্তববাদী। সব সময় একটা প্ল্যান বি প্রস্তুত রাখি। তাই আমি অভিনয়, গান-বাজনার পাশাপাশি অলংকারের ব্যবসাও করি।

– ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও আস্কমেন অবলম্বনে

https://www.mega888cuci.com