জমাট উত্তেজনার এই কোরিয়ান ছবিগুলো না দেখলেই নয়!

কোরিয়ার বিনোদন জগতের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে দেশটির সিনেমার প্রভাব। পরতে পরতে টুইস্ট এবং কাহিনীর বৈচিত্র্যে দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু সিনেমা হলিউডকেও ছাড়িয়ে রয়েছে। তাদের থ্রিলার, অ্যাকশন ও ভৌতিক ধরনের ছবিগুলো আপনাকে শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত পর্দায় চোখ আটকে রাখতে বাধ্য করবে। এরকমই টান টান উত্তেজনাপূর্ণ সেরা পাঁচটি কোরিয়ান ছবি নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন।

  • ট্রেন টু বুসান (২০১৬)

জম্বি প্রেমী হয়ে থাকলে তো কোনো কথাই নেই, তবে থ্রিলার প্রেমীদের জন্য‌ও ‘ট্রেন টু বুসান’ একটি চমৎকার চলচ্চিত্র। আর বাকি পাঁচটা জম্বি মুভির মতো শুধু জম্বি থেকে রক্ষা পাওয়া এর মূল চিত্র নয়। ছবিটিতে ফুটে উঠেছে বিভিন্ন সর্ম্পকের উদাহরণ। রয়েছে বাবা-মেয়ের সর্ম্পক, স্বামী-স্ত্রীর সর্ম্পক, বন্ধুত্বের সর্ম্পক, প্রেমিক-প্রেমিকার সর্ম্পক।

এই সম্পর্কগুলো বাঁচাতে কিভাবে তাদের কাছের মানুষগুলো প্রাণপণ চেষ্টা করে যায় তা খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন চলচ্চিত্রকার। একটি জম্বি মুভি হ‌ওয়া সত্ত্বেও ‘ট্রেন টু বুসান’ আপনার মনকে কাঁদিয়ে তুলবেই। অনেকের জীবনের অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী অনুভূতি হয়ে থাকবে এই ছবিটি।

  • প্যারাসাইট (২০১৯)

সেই বছরের সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কার জিতে নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার ছবি ‘প্যারাসাইট’। এই প্রথম ইংরেজি ছাড়া অন্য কোনো ভাষার নির্মিত ছবি অস্কারজয়ী হয়েছে, সুতরাং বুঝতেই পারছেন এর বিশেষত্ব।

চার সদস্যের নিম্নবিত্ত কিম পরিবারকে নিয়ে গল্পের শুরু। দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করা পরিবারটির কর্মক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তারা বেকার। কাজের সন্ধানেই কিম পরিবারের ছেলে এক ধনী পার্ক পরিবারের বাড়িতে যায়। তবে হঠাৎ করে তাদের জীবনে চলে এসে বৈচিত্র্যময় পরিবর্তন। এক এক করে কিম পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন পরিচয়ে পার্ক পরিবারের নিয়োজিত কর্মীদের প্রতিস্থাপিত করতে থাকে। এরপর যা হয়, তা দেখতে কোনোভাবেই প্রস্তুত থাকবেনা কেউই।

যারা ভিন্ন ধরনের ছবি দেখতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য ছবিটি পারফেক্ট। আর অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অভিনয়ের তো কোনো জবাবই নেই। ছবিটিতে ভিন্ন মাত্রা এনে দিতে তাদের অগ্রাধিকার‌ই সবচেয়ে বেশি। ছবি শেষে অনেকেরই বাড়ির কর্মীদের নিয়ে ধারণা পাল্টে যাবে। সকলেই সর্তক হয়ে উঠবে।

  • মিরাকেল ইন সেল নং সেভেন

ছয় বছরের একটি ছোট্ট মেয়ে এবং মানসিক ভারসাম্যহীন তার বাবাকে ঘিরেই এর গল্প। বিনা দোষে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বাবা আরেকটি মেয়ের ধর্ষণ ও খুনের মামলায় ফেঁসে যান।

বন্দী করা হয় তাকে কারাগারের সাত নম্বর সেলে। প্রথমদিকে তাকে নিষ্ঠুর অপরাধী ভেবে জেলের কয়েদিরা তার উপর অত্যাচার করে। কিন্তু ধীরে ধীরে সবাই বুঝতে পারে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী লি ইয়ং গু আসলে কত বড় ষড়যন্ত্রের শিকার। তখন কিভাবে তারা ছোট্ট মেয়েটিকে তার বাবার কাছে অর্থাৎ জেলের সাত নম্বর সেলে আনার ব্যবস্থা করে তা বিস্ময়কর।

ছবিটিতে যেরকম দুনিয়ার নিষ্ঠুরতার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে, তেমনি মনুষ্যত্বের বেঁচে থাকার প্রমাণ‌ও রয়েছে। খুব সাদাসিধে গল্প দিয়ে লেখক দর্শকের মন কেড়ে নিয়েছেন।

  • আই স দ্য ডেভিল (২০১০)

না, ভূত বা শয়তানের কোনো ছবি নয়। তবে পিশাচিক আচরণের মানুষ দেখতে পাবেন ঠিক‌ই।

সিনেমাটি এক সাইকোপ্যাথ সিরিয়াল কিলার আর প্রতিশোধের আগুনে জ্বলতে থাকা এক এন‌আইএস এজেন্টের। প্রিয়জনকে হারিয়ে মানুষ যে কতোটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে তা এই ছবিটি না দেখলে বোঝা সম্ভব নয়। সিরিয়াল কিলার জাং কিয়ং চুলের প্রতিটি খুনের মূল কারণ হলো যৌন লালসা ও বিকৃত মানসিকতা।

বরফ শীতল এক রাতে এক নারীকে সাহায্যের আশ্বাস দিয়ে প্রথমে ধর্ষণ ও পরে নির্মমভাবে হত্যা করে। তবে এতেই শেষ নয়, মৃত দেহের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে চরম পৈশাচিকতার প্রমাণ দেয়। ঘটনাচক্রে সেই নারী ছিল এক সিক্রেট এজেন্টের হবু স্ত্রী। তখন কিভাবে সেই সিক্রেট এজেন্ট নিষ্ঠুরভাবে তার প্রতিশোধ নেয় এবং সিরিয়াল কিলারের শেষ পরিণতি কি হয় তা দেখতে কোনোভাবেই প্রস্তুত থাকবেন না।

ছবিতে রক্তপাত ও ভায়োলেন্স, নগ্ন দৃশ্যকে এতটাই খোলামেলা ভাবে দেখানো হয়েছে যে কোরিয়া মিডিয়া রেটিং বোর্ড এর পরিচালককে দুইবার কাটছাঁটের নির্দেশ দেয়। এছাড়াও বেশ অনেকখানি ছেঁটে ফেলার পরেও ‘রেস্ট্রিকটেড’ তকমা এঁটে থাকে এর গায়ে। বলিউডে ছবিটি ‘এক ভিলেন’ নামে রিমেক হয়।

  • ফরগটেন

থ্রিলার গল্পের দৌড়ে হলিউড‌ও কোরিয়াকে টেক্কা দিতে পারেনা। আর কোরিয়ার থ্রিলার মুভির কথা উঠলে, ‘ফরগটেন’ ছবিটি তো উল্লেখ থাকবেই।

ছবিটি যতক্ষণ দেখতে থাকবেন, ততক্ষণ মনে হবে একটি ঘোরের মধ্যে আছেন। টুইস্ট কত প্রকার ও কি কি তার সবকিছু দিয়ে পরিপূর্ণ এই ২০১৭ সালের সেরা থ্রিলার মুভি। শুরুটা হয়েছিল এক পরিবারের খুবই সাধারণ জীবনযাপন নিয়ে। চার সদস্যের পরিবারে জিন সিয়োক ছোট ছেলে। বড় ভাইয়ের সাফল্যে অত্যন্ত গর্বিত সে। কিন্তু বাসা বদলানোর পরপরই তার সবকিছু সন্দেহজনক লাগতে থাকে।

ধীরে ধীরে পরিবারের সদস্যদের আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করে সে। এরপর কি থেকে কি হয়ে যায় তা না দেখলে কল্পনা করাও অসম্ভব। পরিবারের যেই মানুষগুলোকে সে আপন ভাবতো তারা কি আসলেই তার আপন না সবটাই এক মায়াজাল!

https://www.mega888cuci.com