পর্দার চিরসবুজ রমনীরা

বলিউডে বরাবরই পুরুষদেরই দাপট দেখা যায়। সেটা সেই হারানো দিন থেকে শুরু করে আজকের যুগে এসেও সত্য। তবে, পুরুষ শাসিত বলিউডে নিজের মাধূর্য্য, সৌন্দর্য্য, অভিনয় দিয়ে যুগে যুগে লাখো কোটি বলিপ্রেমীদের মন জয় করে নিয়েছেন কিছু অতিমানবীয় সৌন্দর্য্যের অধিকারী কিছু রমনী। ‘আজকি শাম উন সিতারো কি নাম’!

  • মধুবালা

তার আসল নাম ছিল মমতাজ। সম্রাট শাহজাহানের নিকট তার মমতাজ যেমন অমূল্যবান ছিল তেমনি বলিউডের নিকটও মমতাজ (মধুবালা) অমূল্যবান। মাত্র ১৪ বছর বয়সে পারিবারিক আর্থিক অবস্থার উন্নতি সাধনের তাগিদে বলিউড এ পা রাখেন তিনি। তার প্রথম ছবি ছিল ‘নীল কমল’ (রাজ কাপুরেরে বিপরীতে)।

এরপর আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তখনকার ‘নিউজ ডে’ নামক আমেরিকান ম্যাগাজিন তাকে ‘বিগেস্ট স্টার ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ নামে অভিহিত করে। দিলীপ কুমারের সাথে তার মিলামেশা থাকলেও পারিবারিক কারণে তার বিয়ে হয় কিশোর কুমারের সাথে।

তাঁর কিছু উল্লেখযোগ্য ছবি ‘মহল’(১৯৪৯), ‘হাওড়া ব্রিজ’ (১৯৫৮) হলেও বেশিরভাগ বলিপ্রেমী তাকে মনে রাখবে তার আনারকলি চরিত্রের জন্য। ছবির নাম ‘মুঘল-ই-আজম’ (১৯৬০)। দীর্ঘদিন হার্টের সমস্যায় ভুগে ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন ‘ভেনাস কুইন অব ইন্ডিয়ান সিনেমা’ খ্যাত কিংবদন্তিতুল্য এই অভিনেত্রী।

  • রেখা

তার পুরো নাম বনরেখা ঘনশান। ১৯৬৬ সালে শিশু আর্টিস্ট হিসেবে তেলেগু ছবি ‘রানগোলা রাত্নাম’ এর মাধ্যমে রুপালি পর্দায় পা রাখেন। তার ৫০ বছরের অধিক সিনেমাটিক জগতে তিনি ১৮০’র বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। ৮০’র দশকে তার ও অমিতাভ বচ্চনের সম্পর্কের কথা ছিল বলি পাড়ার সবচেয়ে প্রচলিত কথা।

রেখা তিনটি ফিল্মফেয়ার জয় করেন। ২০১০ সালে ভারতের সর্বোচ্চ সম্মাননা পদ্মশ্রীতে ভূষিত হন। তার উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো হল – ঘার (১৯৭৮), মুকাদ্দার কা সিকান্দার (১৯৭৮), সিলসিলা (১৯৮১)। এর বাদে খিলাড়িও কা খিলাড়ি, কই মিল গায়া, ক্রিশ, সুপার নানিও অন্যতম।

  • হেমা মালিনী

তাকে আমরা বলিউডের অলরাউন্ডার বলে আখ্যায়িত করতে পারি। কেননা তিনি একাধারে অভিনেত্রী, লেখক, পরিচালক, প্রযোজক, নাচিয়ে ও রাজনীতিবিদ। তার বলিউড অভিষেক হয় ১৯৬৮ সালে ‘সাপনো কা সওদাগর’ ছবির মাধ্যমে।

তিনি তার ফিল্মি ক্যারিয়ারের প্রায়ই সিংহভাগ ক্ষেত্রেই অভিনয় করেছেন, অমিতাভ বচ্চন, ধর্মেন্দ্র (তার স্বামী), দেব আনন্দ ও রাজেশ খান্নার বিপরীতে। তার উল্লেখযোগ্য কিছু ছবি হল – সিতা অর গিতা (১৯৭২), শোলে (১৯৭৫), সাত্তে পে সাত্তা (১৯৮৪), বাঘবান (২০০৩), বীর-জারা (২০০৭)। তিনি ২০০০ সালে পদ্মশ্রী পদকে ভূষিত হন।

  • বৈজয়ন্তীমালা

তার জন্ম ১৩ আগস্ট, ১৯৩৬ সালে। নায়িকাদের মধ্যে বলিউডে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি স্টেবল স্কিল্ডট্রিক্স ফিল্মোগ্রাফি তারই দখলে। তার নাম শুনলেই আমার কানে ভেসে উঠে ‘বোল রাধা বোল সাংগাম হোগা কি নেহি’, ‘নাজার উসকি’, ‘হার দিল জো পেয়ার কারেগা’র মত ক্লাসিক ব্লকবাস্টার গান।

তিনি দেবদাসের চন্দ্রমুখী চরিত্র ছাড়াও মধুমতী, নাগিন, গঙ্গা যমুনা ও সংগাম-এর মত ছবিতে তাঁর অভিনয় দক্ষতা ফুটিয়ে তুলেন। একবার তো দিলীপ কুমার নিজেই বলে ফেলেছিলেন, ‘কেবলমাত্র বৈজুর সাথে কাজ করতে তিনি নার্ভাস ফিল করেন।’

তিনি ১৯৫৮, ১৯৬১, ১৯৬৪ সালে ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার লাভ করেন। দেবদাস-এর জন্য তাকে ফিল্মফেয়ার সহ-অভিনেত্রীর পুরস্কারে মনোনীত করা হলেও তিনি তা গ্রহনে অনীহা প্রকাশ করেন। কেননা তার মতে ‘চন্দ্রমুখী’ চরিত্রটি পার্শ্বচরিত্র ছিল না!

  • মাধুরী দীক্ষিত

নামের প্রতি সুবিচার করা তাঁর থেকে শেখা দরকার। ১৫ মে ১৯৬৭ সালে জন্মগ্রহণকারী মাধুরী শঙ্কর দীক্ষিত একজন সুপ্রসিদ্ধ ও জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী। অনেক সময় তাঁকে বলিউডের সেরা অভিনেত্রীদের একজন হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৯৮৪ সালে ‘অবোধ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তাঁর অভিষেক হয়।

১৯৮৮ সালে ‘তেজাব’ ছবির মাধ্যমে দর্শক মহলের সর্বত্র বিপুল সাড়া ফেলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর সহজাত সৌন্দর্যচর্চা এবং নৃত্যকলায় সমান দক্ষতা প্রদর্শন করেন। ১৯৮০ এবং ১৯৯০-এর পুরো দশক জুড়ে তিনি হিন্দি সিনেমার নেতৃত্বদানকারী অভিনেত্রী ও শীর্ষস্থানীয় নৃত্যশিল্পী হিসেবে একচ্ছত্র প্রাধান্য ও প্রভাব বিস্তার করেন।

৯০ দশকে তিনি যেমন সালমান খানের বিপরীতে ‘হাম আপকে হে কওন’ ও ‘সাজান’ ছবি করেছেন তেমনি ‘কিং অব রোমান্স’ খ্যাত শাহরুখের সাথে করেছেন ‘আঞ্জাম’ ও ‘দিল তো পাগল হ্যায়’। তিনি বেশকিছু ছবিতে নর্তকী চরিত্রে অংশগ্রহণ করেন ও চলচ্চিত্রে অনেক বাণিজ্যিক সাফল্য বয়ে আনেন। মাধুরী প্রায়শই চলচ্চিত্র নায়িকা হিসেবে গণমাধ্যমসহ প্রচার মাধ্যমের সংবাদ শিরোনামে জায়গা করে নেন।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।