এলটন জন ও নস্টালজিক ৯০

৯০ দশকের শেষভাগেই বলা যায় সময়টাকে। তখন সবে মাত্র কলেজে ভর্তি হয়েছি, নতুন নতুন ইংরেজি গান শোনা শুরু করেছি। গান শোনা হতো অনেক ছোট বয়স থেকেই, কিন্তু স্বাভাবিক ভাবেই বাংলা গান আর কিছু হিন্দি সিনেমার গান শুনে সময় কেটে যেত।

ইংরেজি গান কিছু শোনা হতো, তবে সেটা মোটামুটি না বুঝেই। মানে শুধু মাত্র মিউজিক নির্ভর শুনতাম। যেমন মাইকেল জ্যাকসনের বিখ্যাত গান ‘জাস্ট বিট ইট’ কে আমরা শুনতাম ‘জাস্ট পিরে’। ( আমার ধারণা আরো অনেকেই এভাবে শুনতেন)। সেই হিসেবে কলেজ লাইফ থেকেই মূলত ইংরেজি গান শোনা কারণ তখন গান শুনতাম লিরিক দেখে।

প্রথম ভাব দেখাতে গিয়ে ইংরেজী গান শুনতে গেলেও এক পর্যায়ে ইংরেজি গানের প্রেমেই পড়ে গেলাম। প্রথম কেনা অ্যালবাম সম্ভবত ‘এভারগ্রিন লাভ সং’. প্রথম গানটাই জর্জ মাইকেলের ‘কেয়ারলেস হুইসপার’, এছাড়া ‘নাথিং গনা চেঞ্জ মাই লাভ ফর ইউ, ‘ফাইনাল কাউন্টডাউ, হেলো – এমন আরো কিছু অসাধারণ গান ছিল। তখন বাংলাদেশে সিডি সাউ্ড নামে একটা কোম্পানি ইংরেজি গানের ক্যাসেট বের করতো। প্রতি সপ্তাহে চার বন্ধু মিলে ক্যাসেট কিনে গান মুখস্ত করতাম। আহা, কি দিনগুলোই না ছিল।

এরই মাঝে শুনলাম একটা নতুন গান, ‘ক্যান্ডেল ইন দ্য উইন্টার’। এই গান শোনার পেছনে একটা ইতিহাস আছে। আমাদের এক বন্ধু ছিলেন প্রিন্সেস ডায়ানার বেশ বড় মাপের ভক্ত, এমন ভক্ত যে এখন তার বউ শুনলে তাদের সুখের সংসারে আগুন ধরে যেতে পারে। সংসার ভাঙার সম্ভাবনা থাকার কারণে বন্ধুর নামটা নিলাম না কিন্তু সেই সময়ে ডায়না সংক্রান্ত অনেক ম্যাগাজিন (বাংলা, ইংরেজী আর হিন্দি) তার সংগ্রহে ছিল। ‘ক্যান্ডেল ইন দ্য উইন্টার’ ছিল ডায়ানাকে নিয়ে গাওয়া। গানটা আসলেই চমৎকার ছিল।

গানটা শুনেই গায়কের প্রেমে পড়ে গেলাম। গায়কটার নাম এলটন জন। তাঁর এই অ্যালবামটা পুরো বিশ্বব্যাপী ৩৩ মিলিয়নেরও বেশি কপি বিক্রি হয় এবং বিলবোর্ডের ১০০ তালিকায় সর্বকালের সবচেয়ে বেশি বিক্রিত একক অ্যালবামের তালিকায় এসে পড়ে।

তবে তখনো এলটন জনের বাকি গান বেশি শোনা হয় নি। তখন ইন্টারনেট ছিল না, বাংলাদেশে এলটন জনের গানও সহজলভ্য ছিল না। এরই মাঝে হাতে এল তার আরেকটা গান ‘স্যাক্রিফাইস’. সম্ভবত এটাই এলটন জনের সবচেয়ে বিখ্যাত গান। তবে ব্যক্তিগত ভাবে আমার কাছে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে এলটনের ‘ক্যান ইউ ফিল দ্য লাভ টুনাইট’ গানটা। এটা প্রথম শোনা হয়েছিল ‘দ্য লায়ন কিং’ সিনেমা দেখতে গিয়ে। এই সিনেমাতেই এলটনের আরো দুটো গান ছিল, সেই দু’টোও মোটামুটি ভালো লেগেছে। সাথে খোজ করতাম এলটনের আর কোন গান পাওয়া যায় কিনা।

এরই মাঝে এলটনের একটা গান একটা মিক্সড অ্যালবামে বের হলো। এলবামটার নাম সম্ভবত ‘নাও দ্যাটস হোয়াট আই কল মিউজিক ৩৭ মাঝের লেখাগুলো একটু ছোট করে দেওয়ায় অ্যালবামটা পরিচিত ছিল ‘নাও’ নামেই। ভারত থেকে প্রকাশিত হওয়ায় এলবামটা আমাকে কিনতে হয়েছিল ২৫০ টাকায়, সেটাও ১৯৯৭ কি ১৯৯৮ সালের দিকে। কিন্তু এত দাম দিয়ে কেনার পরেও টাকাটা অনর্থক মনে হয় নি সেই অ্যালবামের ‘সামথিং অ্যাবাউ দ্য ওয়ে ইউ লুক টুনাইট’ গানটা শোনার পর।

খুব বেশি শোনা হয় নি এই ভদ্রলোকের গান। তবে যতটুকুই শুনেছি সেটা আমার কলেজ লাইফটাকে আনন্দঘন করেছে। একাডেমি অ্যাওয়ার্ড জেতা এবং ১৯৮৭, ১৯৯১, ১৯৯৪, ১৯৯৭, ১৯৯৯ আর ২০০০ সালে মোট ছয় বার গ্র্যামি পাওয়া এই গায়কের জন্ম ১৯৪৭ সালের ২৫ মার্চ।

সময় থাকলে ওনার গানগুলো শুনতে পারেন। মন খারাপ থাকলে ভালো হয়ে যাবে আর মন ভালো থাকলে সেটাকে খারাপ করে দিবে নিশ্চিত।

https://www.mega888cuci.com