দেশ্যম, ইতিহাস ছোঁবেন?

কিছু ট্যাকটিক্যাল ইস্যুতে দিদিয়ের দেশ্যমকে অনেকেই পছন্দ করেন না। কিন্তু, সেসবে কিছু যায় আসে না। বেলজিয়ামকে হারিয়ে যে সেই দিদিয়ের দেশ্যমের দলই পেয়ে গেছে ফাইনালের টিকেট।

এই জয়ে তৃতীয়বারের মত বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলো ফ্রান্স। সেই সাথে কোচ হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে পেরে রেকর্ড বইয়ে নাম তুলেছেন ফ্রান্সের দেশ্যম। বিশ্বের চতুর্থ খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে দু’বার বিশ্বকাপের ফাইনালের স্বাদ নিলেন তিনি।

এর আগে জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার-রুডি ফোলার ও ব্রাজিলের মারিও জাগালো খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে দু’বার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেন। সেমিফাইনাল জয়ে তাদেরই কীর্তি স্পর্শ করলেন দেশ্যম। ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রান্স দলের খেলোয়াড় ছিলেন দেশ্যম। এবার কোচ হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেন তিনি।

১৯৭৪ আসরে খেলোয়াড় ও ১৯৯০ সালে কোচ হিসেবে বেকেনবাওয়ার বিশ্বকাপের ফাইনালে ছিলেন। দু’বারই চ্যাম্পিয়নের স্বাদ নিয়েছেন তিনি। বেকেনবাওয়ারের মত ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়নি ফোলারের। ১৯৯০ ও ২০০২ সালে বিশ্বকাপের ফাইনালের স্বাদ নেন ফোলার। কিন্তু খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯০ সালে শিরোপা জিততে পারলেও কোচ হিসেবে ২০০২ সালে জার্মানিকে শিরোপা এনে দিতে পারেননি ফোলার। ঐ আসরে ফোলারের অধীনে রানার্সআপ হয় জার্মানি।

তবে বেকেনবাওয়ারের মত খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে দু’বার ফাইনাল খেলে শিরোপা জয়ের স্বাদ নিয়েছেন জাগালো। ১৯৫৮ সালে খেলোয়াড় হিসেবে এবং ১৯৭০ সালে কোচ হিসেবে ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করেন তিনি। ফলে এতোদিন খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে বেকেনবাওয়ার ও জাগালোই বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করেছিলেন।

তবে এবার তাদের পাশে নাম লেখানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে দেশ্যমের। ১৯৯৮ সালে খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের ট্রফিতে চুমু দিয়েছিলেন দেশ্যম। আগামী ১৫ জুলাই মস্কোতে এবারের বিশ্বকাপের ফাইনাল জিতলেই বিশ্বের তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে বেকেনবাওয়ার-জাগালোর পাশে নিজের নাম তুলবেন দেশ্যম।

ঘরের মাঠে মাত্র দুই বছর আগে ফ্রান্স ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলেছিল। কিন্তু পর্তুগালের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচটিতে অতিরিক্ত সময়ের গোলে হারের দু:সহ স্মৃতি নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা। দেশ্যম স্বীকার করেছেন ঐ ফলাফল এখনো খেলোয়াড়দের মনে গেঁথে আছে।

মঙ্গলবার সেমিফাইনালে জয়ের পরে ফরাসি কোচ বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা এখন আরেকটি ফাইনালে। দুই বছর আগে কি ঘটেছিল এখনো আমার মনে আছে। এবার আমরা ফাইনালে জয়ের জন্যই যাচ্ছি। ইউরোর ফাইনালটি এখনো আমরা কেউ ভুলতে পারিনি।’

এবার তাহলে এক ঢিলে দুই পাখি মারার মিশন দেশ্যমের সামনে!

https://www.mega888cuci.com