বিস্মৃতির অতলে এক কালের হিট ড্যান্সিং কুইন

নব্বই দশকে তাঁকে বলা হত বলিউডের ‘হিট ড্যান্সিং কুইন’। যদিও এখন অবশ্য তাঁর কথা খুব একটা শোনা যায় না বললেই চলে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া ইরফান খানের সিনেমা ‘ব্ল্যাকমেইল’-এ তিনি ‘বেওয়াফা বিউটি’ নামে একটি আইটেম নাম্বার করেন উর্মিলা মাতন্ডকর। এটাকে তখন দেখা হয়েছিল উর্মিলার ‘প্রত্যাবর্তন’ হিসেবে।

অথচ, একটা সময় নাচের গানে কি রকম একচেটিয়ে জনপ্রিয়ই না ছিলেন উর্মিলা। ‘ছাম্মা ছাম্মা’ কিংবা ‘আইয়ে আজায়ে’ গানগুলো নব্বইয়ের শেষভাগেও ছিল ভারত বর্ষের সবচেয়ে হিট পার্টি সং। উর্মিলার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত সিনেমা নি:সন্দেহে ‘রঙ্গিলা’। এই তালিকায় ‘সত্য’, ‘চমৎকার’ কিংবা ‘ভুত’ও থাকবে।

উর্মিলা অবশ্য তাঁর ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন শিশু শিল্পী হিসেবে। সেটা ১৯৭৭ সালের কথা, শিশু শিল্পী হিসেবে তাঁর শুরু হয় ‘কার্ন’ সিনেমা দিয়ে। ১৯৮০ সালে করেন ‘জাকুল’ ও ‘কালযুগ’। জাকুল অবশ্য মারাঠী সিনেমা। পরে মাত্র নয় বছর বয়সে ১৯৮৩ সালে শেখর কাপুরের ‘মাসুম’ সিনেমায় ক্ষুদে উর্মিলার কাজ বেশ প্রশংসিত হয়।

বলিউড বাদেও উর্মিলা অবশ্য তেলেগু, তামিল ও মালায়ালামের মত দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রির সিনেমাও করেছেন। করেছেন মারাঠীও। উর্মিলার মায়ের ভাষাটাই আসলে মারাঠী। বাবা ছিলেন কলেজের প্রভাষক। বোন মমতা মাতন্ডকরও সিনেমায় কাজ করতেন। তবে কখনোই খুব একটা জনপ্রিয়তা পাননি।

খুব কম ভক্তই জানেন যে, উর্মিলা সিনেমায় থিঁতু হওয়ার আগে ছোট পর্দায় কিছুদিন কাজ করেছিলেন। ১৯৮৬ সালে তিনি ‘কথা সাগর’ ও ১৯৮৭ সালে তিনি ‘জিন্দেগি’ নামের দু’টি সিরিয়ালে কাজ করেছিলেন। ফলে, বড় পর্দায় আসার আগে তাঁর প্রস্তুতিপর্বটাকে বেশ মোক্ষমই বলা যায়।

নায়িকা হিসেবে বলিউডে উর্মিলার প্রথম সিনেমা ১৯৯১ সালের বক্স অফিস হিট ‘নারসিমহা’। সাথে ছিলেন সানি দেওল, ডিম্পল কাপাডিয়ারা। পরের বছরই মুক্তি পায় ‘চমৎকার’। এবার বিপরীতে ছিলেন স্বয়ং শাহরুখ খান। যদিও, শাহরুখ তখন আজকের ‘কিং খান’-এর অবস্থানে আসেননি।

১৯৯৫ সালে রাম গোপাল ভার্মা নির্মিত ‘রঙ্গিলা’ সিনেমার জন্য ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছিলেন উর্মিলা। পরে ‘জুদাই’-এ সাপোর্টিং রোলের জন্য ১৯৯৭ সালে, ‘সত্য’ সিনেমায় সেরা অভিনেত্রী ক্যাটাগরীতে ১৯৯৮ সালে, ‘প্যায়ার তুনে ক্যায়া কিয়া’ সিনেমায় নেগেটিভ রোলের জন্য ২০০১  সালে এসে তিনি মনোনয়ন পান।

তবে, পুরস্কারের আক্ষেপ উর্মিলার দূর হয় ২০০৩ সালে। ‘ভুত’ সিনেমার জন্য সেরা অভিনেত্রী হিসেবে তিনি পান ফিল্ম ফেয়ারের সমালোচক পুরস্কার।  এই ছবিটির নির্মাতা ছিলেন রাম গোপাল ভার্মা। আসলে উর্মিলার ক্যারিয়ার জুড়েই আছে রামু’র বড় অবদান।

ওই আমলে রামু-উর্মিলার জুটি বেশ জমজমাট ছিল। এই দুইয়ের জুটিকে এক সাথে দেখা গেছে ১৩ টি ছবিতে।  এর মধ্যে ‘সত্য’, ‘ভুত’ বা ‘রঙ্গিলা’ ছাড়াও আছে ‘কোম্পানি’, ‘মাস্ত’, ‘কৌন’, ‘এক হাসিনা থি’র মত ছবিও আছে। সর্বশেষ তাঁদের ‘আগ’ সিনেমায় এক সাথে জুটি বাঁধতে দেখা গেছে।

সিনেমাটিতে ‘মেহবুবা মেহবুবা’ নামের আইটেম গানে ছিলেন তিনি। সচেতন পাঠকরা নিশ্চয়ই জানেন এটা ছিল ব্লকবাস্টার ‘শোলে’র অনানুষ্ঠানিক রিমেক। ২০০৭ সালে দর্শক-সমালোচকরা খুব বাজে ভাবেই প্রত্যাখ্যান করে সিনেমাটিকে। অজয় দেবগন, অমিতাভ বচ্চন বা দক্ষিণের মোহনলালের মত অভিনেতা থাকার পরও বলিউডের সবচেয়ে বাজে ছবির সংক্ষিপ্ত তালিকা করলে এই ছবিটি আসতে বাধ্য।

নাচটা ভালই পারেন বলেই হয়তো ড্যান্সিং রিয়েলিটি শো-তে বিচারক হিসেবেও দেখা গেছে উর্মিলাকে। তিনি ‘চাক ধুম ধুম’ ও ‘ঝালাক দিখলা জা’-তে বিচারক হিসেবে হট সিটে ছিলেন। এখন অবশ্য এই জাতীয় টেলিভিশন অ্যাপেয়ারেন্সও ছেড়ে দিয়েছেন।

২০১৬ সালে এসে বিয়ে করেন উর্মিলা। স্বামী হলেন মডেল ও ব্যবসায়ী মীর মহসিন আখতার। এই ভদ্রলোককে বলিউড ভক্তদের চেনার কথা। ফারহান আখতারের ‘লাক বাই চান্স’ ছবিতে একটা ছোট চরিত্র করেছিলেন তিনি।

কেন্দ্রীয় চরিত্রে বলিউডে উর্মিলাকে শেষ দেখা যায় গায়ক থেকে নায়ক বনে যাওয়া হিমেশ রেশামিয়ার বিপরীতে ‘কার্জ’ সিনেমায়, ২০০৮ সালে। এটা ছিল ১৯৮০ সালে সুভাষ ঘাই নির্মিত ঋষি কাপুর ও টিনা মুনিমেন ‘কার্জ’ সিনেমার রিমেক। এরপর আর বলিউডে বড় কোনো ছাপ রাখতে পারেননি উর্মিলা। এরপর যা করেছেন, তা হয় মারাঠী ছবি, না হয় ক্যামিও অ্যাপেয়ারেন্স বা আইটেম সং।

টাইমস নাও নিউজ অবলম্বনে

https://www.mega888cuci.com