উপমহাদেশে যে কারণে ক্রিকেটের সাথে রাজনীতি মেলানো হয়

আশিষ নন্দী ঠিক-ই বলেছিলেন। ক্রিকেট খেলাটা আসলে উপমহাদেশের জন্যই, কিন্তু দুর্ঘটনাবশত খেলাটির জনক ব্রিটিশরা। খেলার পুরোটা জুড়েই গৌরবময় অনিশ্চয়তা, প্রতি বলেই ‘কি হয়, কি হয়’ জাতীয় হাজারটা সম্ভাবনা, ডজনখানেক আউট হবার উপায়, সবমিলিয়ে যেন ভারতবর্ষের অধিবাসীদের একেবারে ঘরের খেলা।

এ যেন শাস্ত্রীয় সংগীতেরই অন্য এক মাধ্যম। ভিত্তিটা সেই আদিকালের মতোই আছে কিন্তু প্রতিনিয়তই যেন খেলাটি নতুন কোনো উচ্চতায় পৌঁছুচ্ছে। এই বলে চার হাঁকিয়ে, পরের বলেই আনপ্লেয়েবল ডেলিভারির মুখোমুখি হওয়া, খেলাটির এমন পদে পদে অনিশ্চয়তা যেন অতীতের ভারতীয় অদৃষ্টবাদীদের কথারই প্রতিধ্বনিত করে।

এমন এক দেশে এই খেলাটি জনপ্রিয়তা পেলো, যে দেশের মানুষ আজ অবধি জ্যোতিষশাস্ত্রে বিশ্বাস করে, যাদের কাছে জীবনে গ্রহ-নক্ষত্রের অসীম প্রভাব রয়েছে, যাদের কাছে ‘সবই ভাগ্যের খেলা’ বলে বিবেচিত। তাই, যে খেলাটির ফলাফল অসময়ের বৃষ্টি, পিচের বাজে আচরণ, মুদ্রা নিক্ষেপণে হার কিংবা ক্যাচ ধরতে গিয়ে চোখে সূর্যের আলো পড়ার মতো ঘটনা দ্বারা প্রভাবিত হয়, সে খেলাটির এ দেশে জনপ্রিয়তা পেতেই হতো।

পাঁচদিন তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা খেলেও যদি আপনাকে ড্র মেনে নিতে হয়, তখন তো আপনি স্বীকার করতে বাধ্যই, ‘সবই ভাগ্য!’ চিরায়ত ভারতীয় দর্শনকেই যেন স্মরণ করতে হয় সে সময়, ‘জীবনে যাত্রাপথের সঙ্গে গন্তব্যস্থলে পৌঁছুনোও জরুরি।’

তাই এতে অবাক হবার মতো কোনো ব্যাপার নেই যে, অন্য সব খেলা ছাপিয়ে উপমহাদেশীদের মনে ক্রিকেটটাই সবচেয়ে ভালোভাবে গেড়ে বসেছে। দর্শকমহলে এখানকার ক্রিকেটাররা যে পরিমাণ পূজনীয়, তার কাছাকাছি বোধহয় কেবল আর বলিউড স্টাররাই পৌঁছতে পারেন। যেকোনো রাজনৈতিক সংকটের চেয়েও এখানে ক্রিকেটারদের পারফরমেন্স সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়, কারও দলে অন্তর্ভুক্তি কিংবা বাদ পড়া, পুরো দেশে ঝড় তোলে। এবং আমি বাজি ধরে বলতে পারি, পৃথিবীর আর কোনো খেলা, পৃথিবীর আর কোনো দেশে এতটা হরহামেশা পত্রিকার প্রথম পাতার শিরোনাম করে না।

১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে এমসিসির বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে নামার আগে বাংলাদেশ দল। এটাই বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় ক্রিকেট দল।

কেন করবে না! একজন ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভাসম্পন্ন ব্যাটসম্যানের ব্যাটিং কিংবা স্পিনারের ঘূর্ণিপাকে উল্লসিত হবার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কি-ইবা আছে! উপরোক্ত দুজনই তার দায়িত্ব পালন করছেন, প্রত্যেকেই একটা দলগত খেলায় নিজ নিজ কাজের স্বাক্ষর রাখছেন। এটা কি অনেকটাই ভারতীয়দের সমষ্টির ভাগ্য পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে স্বীয় ভাগ্য লিখে নেবার ঘটনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়!

ভারতীয় উপমহাদেশে ক্রিকেটের আমদানি ঘটে ইংলিশদের হাত ধরে। তারপরে এদেশীয়দের প্রায় শত বছর লেগেছিলো এই খেলাটিকে কব্জা করতে। এবং তারা ক্রিকেট খেলতে শুরু করে, সবচেয়ে অইংরেজীয় পদ্ধতিতেই (ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেই বোধহয়!) আমার মনে পড়ছে, আমার বাবা যেদিন আমায় প্রথমবার টেস্ট ম্যাচ দেখাতে মাঠে নিয়ে গেলেন।

১৯৬৩ সালে মুম্বাইয়ে খেলা সেই ইংল্যান্ড দলটি অবশ্য বর্তমানের চেয়ে বেশ দুর্বল ছিলো। ইন্ডিয়ার ওপেনার বুধি কুনদেরানকে দেখার স্মৃতি আমি আজও ভুলতে পারিনি। মিড উইকেট দিয়ে বিশাল এক ছয় হাঁকিয়ে, পরের বলেই চার মেরে, আবারও যিনি আকাশে তুলে মেরেছিলেন। বল যখন আকাশে ভাসছিলো, তিনি রান নেবার জন্যে দৌড়াচ্ছিলেন। ফিল্ডার ক্যাচ ধরলেন, তখনও তিনি দৌড়াচ্ছিলেন, এবারে অবশ্য দ্রুত প্যাভিলিয়নে পৌঁছতে। এই স্মৃতি আজন্মকালের জন্যে আমার হৃদয়ে বাঁধা পড়ে গেলো।

ভারতীয়দের মাঝে এরকম কুনদেরানরা সবসময়ই ছিলো। তেমনি ছিলো ধূর্ত, পরিশ্রমী, বিদ্রোহী কিংবা নির্লিপ্ত চরিত্রগুলো। এদেশে এমন এক সমাজব্যবস্থা বিদ্যমান, যেখানে মনে করা হয়, প্রত্যেকেরই স্বতন্ত্র জায়গা আছে, এরকম স্বতন্ত্র হবার মূল্য আছে। ক্রিকেট দলের দিকে তাকালেই আপনি অনেকাংশে তা বুঝতে পারবেন।

এ দল কখনো মুসলিমের নেতৃত্বে যেমন খেলেছে, তেমন খেলেছে হিন্দু, পার্সি, খ্রিষ্টান কিংবা শিখ সম্প্রদায়ের কারও নেতৃত্বে। বর্ণ, গোত্র, সংস্কৃতি, খাবার, ঐতিহ্য, রীতিনীতি, নানা ক্ষেত্রেই এ দেশ ভিন্ন হলেও একটা জায়গায় সবাই এক, সেটা ক্রিকেট।

১৯১১ সালে ব্রিটিশ ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দল

 

হ্যা, ব্রিটিশরা আমাদের এখানে ক্রিকেট এনেছিলো। তবে তারা এ ভেবে আনেনি যে একদিন আমরা তাদের বলেকয়ে ক্রিকেটে হারিয়ে দেবো অথবা আমাদের গণ্ডমূর্খ লোকেদের কাছে ক্রিকেটে তাদের পরাজয়ের অকল্পনীয় গল্প নিয়ে তৈরি সিনেমা অস্কার নমিনেশন পেয়ে যাবে। খেলাধুলা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যাবাদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলো।

কেননা, কেবলমাত্র খেলাধুলাই হলো খ্রিস্টীয় পেশিশক্তির ভিক্টোরিয়ান চিন্তাচেতনা, তারুণ্যের তেজোদৃপ্ততা, দূরদেশে আধিপত্য বিরাজ করবার সম্মিলিত রূপ। ইটনের মাঠে পাওয়া কৌশলীভাবে ক্ষমতা লাভের শিক্ষা, এই ভারতবর্ষে তাদের ক্ষমতা দখলকে সহজ করেছে। অতঃপর দুশো বছর তাদের প্রজা হয়ে থেকে, প্রভুর কাছে খেলার নিয়মকানুন শিখে, তাদের হারানোর মধ্যে বেশ এক জাতীয়তাবোধ কাজ করবে, এটাই স্বাভাবিক।

বিজ্ঞজনদের মতে, বাঙালিদের মাঝে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তার প্রধান একটি কারণ হলো, বাঙালি পুরুষদের দিকে ইংরেজদের তোলা ‘মেয়েলিপনা’র অভিযোগকে খারিজ করা। ইংরেজদের আবিষ্কৃত খেলায়, তাদেরকেই হারিয়ে যেন এই অভিযোগ সর্বাংশে মিথ্যে প্রমাণ করা যায়, এ উদ্দেশ্যে কলকাতার মধ্যবিত্ত বাঙালি, নাটোর, কুচবিহার, ময়মনসিংহ এবং আশেপাশের অঞ্চলের জমিদারেরা ক্রিকেট খেলার প্রচলন ঘটায়। একইসাথে ব্রিটিশরা লক্ষ্য করে, ক্রিকেট হতে পারে বাঙালিদের সভ্য করে গড়ে তুলবার এক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার, এদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাই চালু করা হয় ক্রিকেট খেলাটি।

কিন্তু ১৯১০-য়ের দশকের প্রেসিডেন্সি কলেজের এক ঘটনার পরে ক্রিকেটও জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মাধ্যম হিসেবে রূপ নেয়। প্রেসিডেন্সি কলেজ ছিলো ভারতীয়দের ইংরেজি ভাষা শিক্ষার জন্যে সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। অবশ্য ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি বাঙালি ছাত্রদের শারীরিকভাবে শক্তসমর্থ করে গড়ে তুলতে কলেজটিতে জিমনাস্টিক আর ক্রিকেট শিক্ষাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছিলো।

জাতীয়তাবাদী আন্দোলন যখন প্রবল আকার ধারণ করে, ঠিক সে সময়টায়, ১৯১৪ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজের ছাত্ররা লা মারটিনিয়ারি কলেজের কাছে হেরে যায়, যা ছিলো ইউরোপীয় ছেলেদের নিয়ে গড়া। এই হার প্রেসিডেন্সি কলেজের আত্মসম্মানে এতটাই ঘা দিয়ে যায় যে সে বছরের প্রেসিডেন্সি কলেজের ম্যাগাজিনে উল্লেখ করা হয়, ‘ক্ষমার অযোগ্য এ হার!’ একইসাথে জনতার রোষানল তো ছিলোই।

রণজিৎ সিংজি, ছবিটা ১৮৯৭ সালে তোলা

তবে কিছুটা ভিন্ন পথে পার্সিয়ানরা, উপনিবেশিক শাসনের আড়ালে, সামাজিক উন্নয়নের জন্যে ক্রিকেটকে ব্যবহার করতে শুরু করে। আশিষ নন্দীর মতে, ‘এ অঞ্চলের রাজা-মহারাজা কিংবা ধনিক শ্রেনিরা লক্ষ্য করেন, কিছুটা ব্যয়বহুল খেলা হলেও, নিজেদের সামাজিক মর্যাদা আর ক্ষমতা, দুটো বৃদ্ধিতে ক্রিকেটই হতে পারে সবচেয়ে বড় অস্ত্র।’

কৌতূহলজাগানিয়া বিষয়টি হলো, ক্রিকেট কেবল ব্রিটিশ উপনিবেশগুলোতে সীমাবদ্ধ না থেকে, গোটা দেশেই, এমনকি যেসব জায়গায় ব্রিটিশ আধিপত্য তেমন ছিলো না, বরং রাজা-মহারাজাদের সাথে ব্রিটিশদের সুসম্পর্ক ছিলো, সেসব রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। এবং সেখান থেকে যেসব দল উঠে আসে, তারা মোটেই ফেলনা নয়। বরং এখান থেকেই উঠে আসেন কিছু কিংবদন্তিতুল্য ক্রিকেটার, রণজিৎসিংজি তাদেরই একজন।

পৃথিবী যাকে রঞ্জি বলেই চেনে, ‘রান-গেট-সিংজি’ বললেও ভুল কিছু হবে না। ১৮৯৫ সালে যিনি ইংল্যান্ডের হয়ে অভিষিক্ত হন এবং অভিষেকেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শতরানের ইনিংস খেলে ভারতবর্ষে ‘নায়ক’ বনে যান। ভারতবাসীর কাছে তার নায়ক হওয়াটা তো বাঞ্ছনীয়ই ছিলো, অন্তত তৎকালীন প্রেক্ষাপটে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, অস্কার ওয়াইল্ড কিংবা বেঞ্জামিন ডিসর‍্যালিকে যেমন করে ব্রিটেনে হিরো মানা হয়, তেমনি মানা হয় রঞ্জিত সিংজিকেও।

একজন ইংরেজ না হয়েও, কখনোই খ্রিস্টধর্মের কিছু অনুসরণ না করেও, এমনকি নিজেকে ‘ইংলিশ ক্রিকেটার কিন্তু ভারতীয় রাজপুত্র’ হিসেবে আখ্যা দেয়ার পরেও, এ সম্মানের আসনে আসীন হওয়া বেশ গর্বেরই এক ব্যাপার। অ্যাংলো-ওলন্দাজ লেখক ইয়ান বুরুমার পর্যবেক্ষণ: ‘রণজিৎ সিংজি ছিলেন এমন একজন যিনি ইংরেজ ক্রিকেটার হিসেবে ব্যবহার করতেন ভারতীয় রাজপুত্রের মতো, আবার ভারতীয় রাজপুত্র হয়ে আচরণ করতেন ইংরেজ ক্রিকেটারের মতো।’

তবে, কিছুদিন বাদেই পরিষ্কার হয়, ভারতীয় হলেও ইংরেজদের প্রতি রণজিৎ সিংজীর প্রীতিটা মাত্রাতিরিক্তরকমের ছিলো। দারুণ ক্রিকেটার, প্রচণ্ডরকমের অমিতব্যয়ী, অতিমাত্রায় ইংরেজপ্রীতি – রণজিৎ সিংজির চরিত্রে ভালো-মন্দ দুই-ই ছিলো। তার চরিত্রের ব্যাপারে আরও পরিষ্কার ধারণা আপনি পাবেন, যখন জানবেন, একবার শিকারে গিয়ে অন্য আরেক শিকারীর গুলিতে চোখ হারানোর পরও তিনি শিকার চালিয়ে গিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, ওই শিকারীকে তিনি তৎক্ষণাৎ শিকার প্রতিযোগিতার জন্যেও ডেকে নিয়েছিলেন। রণজিৎ সিংজির উদার মনের পরিচয় বোধহয় আপনিও অনুধাবন করতে পারছেন।

মনসুর আলী খান পতৌদি

অথচ, এই মানুষটিই তার প্রজাদের ব্যাপারে সম্পূর্ণমাত্রায় উদাসীন ছিলেন। ভারতবর্ষে তখন চলছে স্মরণকালের ভয়াবহতম খরা, কিন্তু তিনি সেদিকে দৃষ্টি না দিয়ে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ তহবিলে অর্থ দান করেছিলেন। তার রাজ্য দুর্ভিক্ষের সমুদ্রে ডুবে আছে, অথচ তিনি এক ব্রিটিশ ভাইসরয়ের আগমন উপলক্ষে এক মাসের রাজস্ব কেবল আতশবাজি পুড়িয়ে ব্যয় করেন।

রণজিৎ সিংজির ভ্রাতুষ্পুত্র দিলীপ সিংজি এবং নবাব পতৌদিও রঞ্জির দেখানো পথেই ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে আরম্ভ করেছিলেন, তবে ততদিনে ভারতীয়রা প্রশ্ন তুলতে শুরু করে দিয়েছিলো, ‘কেন ইংল্যান্ড ক্রিকেট টিম, ভারত কেন নয়!’

নবাব পতৌদি ১৯৪৬ সালে অবশ্য ভারতের হয়ে খেলতে শুরু করেছিলেন, তবে ততদিনে তার নবাব খেতাবও আর ছিলো না, তার আধিপত্যও গত হয়েছিলো।

যে সময়টায় ভারতবর্ষ ক্রিকেটে এগিয়ে যেতে শুরু করে, সে সময়টায় ব্রিটিশরা আবারও কূটকৌশললের আশ্রয় গ্রহণ করে। ভারতবাসীকে হিন্দু, মুসলিম, পার্সিতে বিভক্ত করে নানা টুর্ণামেন্ট আয়োজন করতে শুরু করে। ভারতীয়দের কাছে তখন তো আর ‘ভারতীয়’ পরিচয় নয়, ওই হিন্দু, মুসলিম পরিচয়টাই মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

সমাজবিজ্ঞানী রিচার্ড ক্যাশম্যানের মতে, ভারতীয়দের জাতীয়তাবাদী চেতনা আইরিশদের মতো অতটা গভীরে প্রোথিত নয়। আইরিশরা তাদের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যম হিসেবে ক্রিকেট এবং অন্যান্য ইংরেজ খেলাগুলোকে বর্জন করে, তার বদলে খেলতে শুরু করে, স্বদেশীয় খেলাগুলো। কিন্তু ভারতে দেখা যায়, ভারতীয়রা রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্রিটিশদের বিরোধিতা করলেও, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্রিটিশ সংস্কৃতি ঠিকই আঁকড়ে ধরে রাখে।

যে সময়টায় কাবাডি অবহেলিত হচ্ছিলো, যে সময়টায় পোলো খেলা নতুনভাবে জেগে উঠছে, তখন ভারতীয় অভিজাত শ্রেণির এক ক্ষুদ্র অংশ ঠিকই অনুধাবন করেন, একমাত্র ক্রিকেটেই আমরা পারি, ইংল্যান্ডকে ছাড়িয়ে যেতে। আজ তাই আমরা দেখতে পাই, আয়ারল্যান্ড যতদিনে টেস্ট স্ট্যাটাস পেলো, ততদিনে ভারত ক্রিকেটে নিজেদের দানব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে।

ভারতবর্ষে রাজতন্ত্রের সময়কালে ক্রিকেট যতটা বিস্তার লাভ করেছিলো, তার চেয়ে অনেকগুণ বেশি প্রসার লাভ করেছে এই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে। আজ আর কেবল ধনিক শ্রেণি কিংবা রাজপুত্ররাই ভারতীয় ক্রিকেটের কেন্দ্রীয় চরিত্র নন, বরং নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণি থেকেও উঠে আসা ক্রিকেটাররা দেবতার আসনে আসীন হচ্ছেন। যদিও ব্রিটিশরা ভারতে ক্রিকেট এনেছিলো, তবে আপনাকে মানতেই হবে, এই খেলাটি এখন ভারতের পরিচায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। শত দেশের মাঝে, ভারতের মাথা উঁচু করেছে।

_______________

 ‘ওপেন’ ম্যাগাজিনের ২০১৮ সালের এপ্রিল সংখ্যায় ‘Cricket: The Nationalist Game’ শিরোনামে লেখাটি লিখেছেন ভারতীয় রাজনীতিবিদ ও লেখক শশী থারুর।

https://www.mega888cuci.com