টাকা থাকলে এসব দেশের নাগরিকত্বও কেনা যায়

যারা বিপুল অর্থের মালিক, তাঁরা আসলে কি করেন? কেউ প্রাইভেট জেট, ইয়ট কিংবা হোটেল কিনে ফেলেন। কেউবা ভিন্ন একটা দেশের নাগরিকত্ব কেনেন। হ্যা, ভুল শুনছেন না। আসলেই বিপুল সম্পদের মালিক হলে, একজন চাইলে কিছু দেশের নাগরিকত্ব কিনে নিতে পারেন।

  • সেন্ট লুসিয়া

ক্যারিবিয়ান এই দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়ার তিনটা উপায় আছে। প্রথমটা হল, সেন্ট লুসিয়ার অর্থনৈতিক খাতে অন্তত এক লাখ ডলার দান করতে হবে। মানে একেকটি নাগরিকত্বের জন্য এক লাখ ডলার। কেউ তিন লাখ ডলার দান করলে তিনি রিয়েল এস্টেট ব্যবসাও করতে পারবেন নাগরিকত্ব পাওয়ার পাশাপাশি। এর বাদে সাড়ে তিন মিলিয়ন ডলার খরচ করা নাগরিকরা কোনো এন্টারপ্রাইজ প্রোজেক্টেরও মালিক বনে যেতে পারেন।

  • ডোমিনিকা

নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য দেশটির ন্যাশনাল ট্রান্সফরমেশন ফান্ডে জমা করতে হবে এক লাখ ডলার। তবে, দুই লাখ ডলার খরচ করে চার জনের পরিবারের নাগরিকত্বও পাওয়া যায়। রিয়েল এস্টেট ব্যবসার জন্য ডোনেট করতে হবে দুই লাখ ডলার।

  • অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা

নাগরিকত্ব ও রিয়েল এস্টেট বা যেকোনো ব্যবসার জন্য খরচ করতে হবে চার লাখ ডলার। আর শুধু নাগরিকত্বের জন্য ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডে এক লাখ ডলার জমা করলেই চলবে।

  • সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস

একেকটি নাগরিকত্ব পেতে খরচ হবে দেড় লাখ ডলার। তবে, একজনের জায়গায় দু’জন হলে এর সাথে মাত্র ২৫ হাজার ডলার যোগ করলেই চলবে। আর তৃতীয়জনের ক্ষেত্রে খরচ আসবে মাত্র ১০ হাজার ডলার।

  • গ্রেনাডা

নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে গ্রেনাডার ন্যাশনাল ট্রান্সফরমেশন ফান্ডে দেড় লাখ ডলার জমা করতে হবে। আর রিয়েল এস্টেট ব্যবসার জন্য দিতে হবে সাড়ে তিন লাখ ডলার।

  • ভানুয়াতু

এখানে নাগরিকত্ব পেতে লাগবে এক লাখ ৫৫ হাজার ডলার। এর সাথে শর্ত হল, মোট সম্পদের মূল্যমান কমপক্ষে আড়াই লাখ ডলার হতে হবে।

  • মলদোভা

দেশটির পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডে অফেরতযোগ্য এক লাখ ইউরো দিতে হবে। এর সাথে এজেন্ট ফি ৩৫ হাজার ডলার, সরকারি ফি পাঁচ হাজার ইউরো ও অন্যান্য খাতে আরো ছয় হাজার তিনশ ইউরো খরচ হবে।

  • কম্বোডিয়া

কম্বোডিয়ার উন্নয়নে প্রায় তিন লাখ ডলার বিনিয়োগ করতে হবে। এরপর সরকারের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। কেউ চাইলে সরাসরি আড়াই লাখ ডলার সরকারকে ডোনেট করেও নাগরিকত্ব কিনে নিতে পারেন।

  • মন্টেনেগ্রো

এখানে অঞ্চল ভেদে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য খরচের পরিমান ভিন্ন। দক্ষিণাঞ্চলের নাগরিকত্ব পেতে গেলে কোনো সরকারী উন্নয়ন প্রকল্পে সাড়ে চার লাখ ইউরো বিনিয়োগ করতে হবে। যদিও উত্তরাঞ্চলের জন্য এর পরিমানটা মাত্র আড়াই লাখ ডলার।

  • বুলগেরিয়া

বুলগেরিয়ার নাগরিকত্ব পেতে পাচ লাখ ৯৩ হাজার ডলার বিনিয়োগ করতে হয়। একই সাথে সরকারের কাছে পাঁচ বছরের বন্ড সই দিতে হয়। এক বছর বাদে একই পরিমান অর্থ পুনরায় বিনিয়োগ করতে হয়। পাঁচ বছর পর সরকার সেই বিনিয়োগ ফিরিয়ে দেয়। যদিও, নাগরিকত্ব বিনিয়োগের দ্বিতীয় বছর শেষেই দিয়ে দেওয়া হয়।

  • কানাডা

কানাডায় নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য কেবল আট লাখ ডলার বিনিয়োগ করলেই চলে না, আরো অনেক শর্ত পূরন করতে হয়। কিছু নির্দিষ্ট খাতে বিনিয়োগের মেয়াদ কমপক্ষে পাঁচ বছর হতে হবে। আবার বিনিয়োগের আগে ওই ব্যক্তি আদৌ বিনিয়োগের ব্যাপারে যোগ্য কি না, সেটা যাচাইয়ের জন্য পূর্ব অভিজ্ঞতা দেখা হবে। মানে এখানে বিনিয়োগ করতে হলে আগে বিনিয়োগের সফল অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এখানেই শেষ নয়, ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমান কমপক্ষে ১.৬ মিলিয়ন ডলার হতে হবে।

  • তুরস্ক

তুরস্কের নাগরিকত্ব পেতে হলে কমপক্ষে এক মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের জমি কিনতে হবে। কিংবা চাইলে তুরস্কের ব্যাংকে তিন মিলিয়ান ডলার দিয়েও নাগরিকত্ব কেনা যায়। আরেকটা উপায় হল, সরকারের কাছে বন্ড সই করে তিন মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ করা যায়। সেক্ষেত্রে, কমপক্ষে ১০০ জন বেকারকে চাকরী দেওয়া হবে, এই নিশ্চয়তা দিতে হবে।

  • মাল্টা

মাল্টায় নাগরিকত্ব পেতে এক মিলিয়ন ডলার খরচ করতে হয়। এই অর্থ দিতে হয় ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ফান্ডে।

  • সাইপ্রাস

রিয়েল এস্টেটে কমপক্ষে ১.৭ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে হয়। রিয়েল এস্টেট ছাড়াও শুধু সাইপ্রাসেই করা যাবে এমন ব্যবসায় একই পরিমান অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়।

– বিজনেস ইনসাইডার অবলম্বনে

https://www.mega888cuci.com