রাখী সাওয়ান্ত: বিতর্কের সাথে বসবাস

রাখী সাওয়ান্তকে চাইলে কেউ ভালবাসতে পারে, কেউ ঘৃণা করতে পারে। চাইলে আপনি তাকে অবজ্ঞাও করতে পারেন। কিন্তু, কোনো ভাবেই এই নারীকে আপনি ভুলতে পারবেন না। কারণ, তিনি নিজেই সেই সুযোগ আপনাকে দেবেন না। নিত্য নতুন বিতর্কে জড়ানো আর স্যোশাল মিডিয়ায় উদ্ভট ও বিচিত্র সব কাণ্ডকীর্তি ঘটানোর সুবাদে তিনি প্রায় রোজই মুখরোচক সব খবরের জন্ম দেন ভারতীয় গণমাধ্যমে।

রাখী সাওয়ান্ত আসলে কে? রাখীর আসল নাম নিরু ভেদা। জন্ম ১৯৭৮ সালের ২৫ নভেম্বর। তিনি জয়া ভেদার প্রথম ঘরের সন্তান। জয়া পরে বিয়ে করেন আনন্দ সাওয়ান্তকে। জয়া সন্তানদের দ্বিতীয় স্বামীর নামই দেন। আনন্দ ছিলেন ওরলি পুলিশ স্টেশনের কনস্টেবল।

তিনি নিরুর বিনোদন জগতে নাম লেখানোর চূড়ান্ত বিরোধী ছিলেন। যদিও, নিরু বা একালের রাখীর পরিবারের আরো দুই সদস্য বিনোদন জগতের সদস্য। তাঁর ভাই রাকেশ সাওয়ান্ত হলেন পরিচালক, আর বোন উষা সাওয়ান্ত হলেন সাবেক অভিনেত্রী।

রাখীর বলিউডে অভিষেক হয় আইটেম গার্ল হিসেবে। সেটা ২০০০ সালের ঘটনা। গোবিন্দর সাথে একটা আইটেম গানে ‘জরু কা গোলাম’ সিনেমায় দেখা যায় তাঁকে। তখন অবশ্য রাখীর নাম ছিল রুহি সাওয়ান্ত।

২০১৬ সালে ‘এক কাহানি জুলি কি’ নামের একটি হিন্দি সিনেমায় কেন্দ্রীয়  চরিত্রে দেখা যায় তাঁকে। যদিও, থ্রিলারধর্মী এই সিনেমাটি একদমই ব্যবসা করতে পারেনি। রাখী হিন্দি ছাড়াও কান্নাড়া, তামিল, তেলেগু, মারাঠি ও ওড়িয়া সিনেমাতেও কাজ করেছেন। যদিও, পর্দায় নয়, পর্দার বাইরের জীবনই তাঁকে খবরের শিরোনাম করেছে বারবার।

বলিউডে আসার আগে রাখী কি করতেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে চমকে যেতে হত। তাঁকে এর আগে দেখা গিয়েছিল বলিউডের এক কালের নায়িকা টিনা মুনিম ও ব্যবসায়ী অনিল আম্বানির বিয়েতে। সেখানে তিনি খাবার পরিবেশনকারী দলের একজন ছিলেন।

এই জীবনে রাখী কি না করেন নি! বলিউডের আইটেম সং যেমন করেছেন, তেমনি রিয়েলিটি শো করেছেন, অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেছেন। এমনকি গানও গেয়েছেন। ২০০৭ সালে বের হয় তাঁর একক অ্যালবাম ‘সুপারগার্ল’।

২০০৯ সালে ইমাজিন টিভিতে ‘রাখী কা সয়াম্বার’ নামে একটি রিয়েলিটি শো-তে দেখা যায় তাঁকে। সেখানে নিজের জন্য সঙ্গী হিসেবে তিনি বেছে নেন কানাডিয়ান ব্যবসায়ী ইলেশ পারুজানওয়ালাকে। যদিও, পরে তাঁর সাথে রাখীর ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।

এখানেই শেষ নয়। রাখীর নিজে একটা রাজনৈতিক দলও গঠন করেছিলেন। জয় শাহকে প্রধান করে সেই দলের নাম ছিল ‘রাষ্ট্রীয় আম পার্টি’। এই রাজনৈতিক দল ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনও করে। যদিও নির্বাচনের পর রাখী রিপাবলিকান পার্টি অব ইন্ডিয়ায় (আরপিআই) যোগ দেন।

রাখী সাওয়ান্তের তাঁর ‘সাহসী’ বক্তব্যের জন্য বেশ জনপ্রিয়। যদিও, তাঁর বক্তব্যগুলো আদৌ সাহসী না বোকামি, সেটা নির্ধারণের দায়িত্ব পাঠক-দর্শকদের ওপরই ছেড়ে দেওয়া যাক। একবার খবর বের হল – ‘সানি লিওনের সাথে কাজ করতে আগ্রহী আমির খান’। এর প্রেক্ষিতে রাখী বলেন, ‘আমির খান সানি লিওনের সাথে…? শোনো, একটা ভাল খবর আমার কাছেও আছে। তোমাদের রাখী সাওয়ান্ত খুব দ্রুতই পর্নস্টার হতে যাচ্ছে। আমি সত্যি পর্নস্টার হতে চাই।’

যদিও, পরে নিজের বক্তব্যের বিরোধীতা নিজেই করেন। বলেন, ‘সানি লিওনের সাথে প্রতিযোগীতা করার জন্য আমি পর্নস্টার হতে চাই না!’ আসলে রাখী তাঁর জীবনে এমন ‘লাগামহীন’ কত কথা বলেছেন তাঁর কোনো শেষ নেই।

তিনি সিলিং ফ্যানের বিরোধী। কারণ তাঁর দাবী সিলিং ফ্যানই মেয়েদের আত্মহত্যার বড় কারণ। একবার বলেছিলেন, ‘যদি আপনার মেয়েকে ভালবেসে থাকেন, তাহলে ঘরে সিলিং ফ্যান রাখবেন না। এর পরিবর্তে এসি বা টেবিল ফ্যান রাখুন।

একবার রাখীর জন্মদিনের পার্টিতে তাঁকে জোর করে চুমু খেয়েছিলেন গায়ক মিকা সিং। সে নিয়ে অনেক জল ঘোলাও হয়। অনেকে দাবী করেন এর পুরোটাই সাজানো নাটক। এর পেছনে অবশ্য রাখীর একটা কথাই দায়ী। রাখী বলেছিলেন, ‘কঙ্গনা রনৌত অনেক বেশি প্রচারণা চায়। ওর উচিৎ মিকাকে চুম খাওয়া। তাহলেই ও জনপ্রিয় হয়ে যাবে!’

 

তাহলে রাখীও কি জনপ্রিয়তার জন্যই চুমুর নাটক করেছিলেন!

আরো পড়ুন

ইন্ডিয়া টিভি, নিউজ১৮টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে

https://www.mega888cuci.com