মানুষ যেন গণিতের মাঝে আনন্দ খুঁজে পায়: চমক হাসান

চমক হাসান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তড়িৎকৌশলে স্নাতক এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে গবেষণা এবং উন্নয়ন প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন। কাজের পাশাপাশি গণিতের প্রতি ভালোবাসার টানেই লিখে যাচ্ছেন গণিতের উপর দারূণ কিছু বই। তারই ধারাবাহিকতায় এ বইমেলায় থাকছে, ‘নিমিখ পানেঃ ক্যালকুলাসের পথে পরিভ্রমন’ আসছে। এমন সময়ে তিনি মুখোমুখি হয়েছেন অলিগলি.কমের।

দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরলেন, দেশে এসে কি কি করলেন?

আমি দেশে আসলে মূলত পরিবারকেই সময় দেই বেশিরভাগ। আমার চাচারা, আমরা একই বিল্ডিং এ থাকি। তো দেশে আসলে সারাক্ষণ উনাদেরকেই সময় দেওয়া হয়। এবার আসার পর সবার সঙ্গে পিকনিকেও গেলাম। মাঝখানে আমার ভার্সিটিতেও (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়) একবার যাওয়া হয়েছিল।

কোনো মজার ঘটনা?

ফেসবুকে গান করার কারণে পরিচিতি কিছুটা বেড়েছে। রাস্তাঘাটে মাঝেমধ্যে দু একজন চেনে, সেলফি তুলতে চায়।

আপনি অনেকের কাছে অংক ভাইয়া নামে পরিচিত, শুরুর গল্পটা কোথায়?

আমি গণিতকে খুব বেশি ভালোবাসি। গণিতের মধ্যে আমি আনন্দ খুঁজে পাই৷ আর আনন্দ ব্যাপারটা একা উদযাপন করার চেয়ে অনেককে নিয়ে উদ্যাপন করাটা বেশি উপভোগ করা যায়। এখন উপভোগ করার লোক কই পাবো? বলতে পারেন গণিত সবাই মিলে উপভোগ করতেই লোক জড় করছি আর কি।

আপনার নতুন বই, ‘নিমিখ পানেঃ ক্যালকুলাসের পথে পরিভ্রমন’বইটি সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন…

আমার মনে হয়, ক্যালকুলাস খুবই চমৎকার একটি ব্যাপার। খুব সুন্দর এবং এটি খুব সহজে বুঝানো সম্ভব। ক্যালকুলাস তো আর একদিনেই এই রূপে আসে নি। এর জন্য অনেক অনেক বছর লেগেছে। ক্যালকুলাসের ধারণা কিভাবে আস্তে আস্তে উন্নত হলো, কিভাবে আজকের এই অবস্থানে এসে পৌঁছাল, সে বিষয়গুলোই আমি প্রতিটি চ্যাপ্টারে অল্প অল্প করে বলতে চেয়েছি। আমার মনে হয় যখন একজন এই ইতিহাসগুলো জানবে, তখন তার মাঝে শেখার জন্য এক ধরণের আগ্রহ সৃষ্টি হয়। সেই আগ্রহ সৃষ্টি করতেই বইটা লেখা। এই বইটার দুটি খন্ড হবে। এবারের মেলায় প্রথম খণ্ডটি আসছে।

আপনার প্রকাশিত বইগুলোর মাঝে কোন বইটি লিখে আপনি বেশি আনন্দ পেয়েছেন?

বই লেখার যে আনন্দ এটা একেকটাতে একেক রকম। তবে, ‘হাসিখুশি গণিত’ নামে আমি যেই বইটি লিখি সেই বইটি আমার অনেক প্রিয়। ইউটিউবে আমার ‘গণিতের রঙে’ নামক একটা সিরিজ ছিল।সেখান থেকেই এই বইটা লেখা। আমার এই বইটার জন্য একটু আলাদা ভালো লাগা কাজ করে, তার কারণ হচ্ছে আমার মূলত গণিত শেখানোর জন্য কোনো আগ্রহ নেই। যদিও আমাকে গণিতের শিক্ষক হিসেবেই অনেকে চেনে। আমার মূল উদ্দেশ্যটা ছিল গণিতের আনন্দটা মানুষের কাছে ছড়ানো। শেখানো আর আনন্দ ছড়ানোর মধ্যে আমি পার্থক্য খুঁজে পাই৷ একটা মানুষকে যদি আমি শেখানোর বদলে আনন্দ পাইয়ে দিতে পারি তবে মানুষটা শেখার মধ্যেই আটকে থাকবে না। তখন একটা ধারাবাহিকতা তৈরী হয়। আগ্রহ সৃষ্টি হবে। আমি মূলত চেয়েছি, মানুষ যেন গণিতের মাঝে আনন্দ খুঁজে পায়।

গণিত নিয়ে আরও যারা লিখালিখি করছে তাদের মধ্যে কার বই একটু আকর্ষণীয় মনে হয়?

– সৌমিত্র চক্রবর্তী। ও আমার বন্ধু। ওর একটা বই আছে। ‘প্রাণের মাঝে গণিত বাজে’। আমার মনে হয় এটা বাংলায় লেখা সবচেয়ে সুন্দর গণিত বই।

আপনার পরিবারের অনেকেই সাহিত্যের সঙ্গে যুক্ত আছেন। আপনারও সেদিকে কোনো ইচ্ছা রয়েছে কি ?

– সত্যি বলতে আমার উপন্যাসের দিকে ঝোঁক রয়েছে অনেকটা। ছোটবেলা থেকেই কিছু না কিছু লিখতাম। আমার নতুন কিছু চেষ্টা করতে ভালো লাগে। আমি নিজেকে এখনও অতোটা যোগ্য বলে মনে করি না। হয়তো নিয়মিত উপন্যাস লিখবো না, তবে একটা দুটো বের হতে পারে।

বর্তমান লেখকদের মধ্যে কার লেখা সবচেয়ে ভালো লাগে?

– এটা খুব কঠিন প্রশ্ন, বর্তমান সাহিত্য থেকে আমি অনেকটাই দূরে। বর্তমানে যারা লিখেন তাদের অনেকের লেখাই আমি পড়িনি। এটা আমার ব্যর্থতা। তবে বুয়েটের এক ছোট ভাই আছে আমার, সুহান রিজওয়ান। ওর একটা বই পড়েছিলাম সাক্ষী ছিল শিরস্ত্রাণ। এ বছর ওর আরেকটি বই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে পদতলে চমকায় মাটি। যার লেখায় স্বকীয়তা আছে তাদের লেখাই মূলত ভালো লাগে।

পুরোনোদের মধ্যে?

– পুরোনোদের মধ্যে শহীদুল জহিরের গদ্য আমায় খুব টানে। এছাড়া তারাশংকর, মানিক বন্দোপাধ্যায়, বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, হুমায়ূন আহমেদের লেখার প্রবাহ খুব ভালো লাগতো। কবিতার মধ্যে জীবনানন্দ দাস খুব পছন্দের কবি।

পাঠকদের মাঝে অনেকেই ব্যক্তি চমক হাসানকে অনুসরণ করেন। মানুষ হিসেবে একজন মানুষের কোন তিনটি গুন থাকা চাই?

– কঠিন প্রশ্ন। প্রথমত, আমার মনে হয় মানুষের ভেতর বাহিরটা এক থাকা উচিত। অর্থাৎ কপটতা থেকে দূরে থাকা। দ্বিতীয় হচ্ছে, ভালো লাগার কিছু জায়গা থাকা উচিত। যেটা নিয়ে একজন সময় ব্যয় করতে পারে। আর তৃতীয়ত, অন্যকে শ্রদ্ধা করতে পারা। এই জিনিসটা আমার কাছে খুব জরুরী।

https://www.mega888cuci.com