সাবধান, ভাইজানকে খ্যাপাবেন না!

বলা হয়, সালমান খান হলেন বলিউডের ‘ভাই’। মানে বলিউডে রীতিমত মাফিয়াদের মত ক্ষমতা আছে তাঁর হাতে। তিনি পছন্দ হলে কাউকে যেমন সুযোগ দিতে কার্পণ্য করেন না, তেমন কেবল তাঁর সাথে গোলমালের কারণেই অনেককে বড় মাশুলও গুণতে হয়েছে। কেউই তাই না পারতে সালমান খানকে খ্যাপাতে যায় না।

  • সঞ্জয় লিলা বানসালী

২০১০ সালে বানসালীর ছবি ‘গুজারিশ’ দেখে সালমান বলেছিলেন, ‘কোনো ‍কুকুরও গিয়ে এই ছবি দেখবে না। বানসালী পুরনো বন্ধুর এই আচরণে কষ্ট পান। তিনি নীরবতা ভেঙে বলেছিলেন, ‘যদি একজন পুরনো আর বিশ্বস্ত বন্ধু এমন বলেন, তাহলে আমার মনে হয় এই বিনোদন জগতে আমার আর কিছু করার নেই।’ এরপর আর কখনোই এক সাথে তাঁরা সিনেমা করেননি।

  • রণবীর কাপুর

সালমান খানের সাথে কাপুর পরিবারের প্রতিভাবান এই অভিনেতার সম্পর্কটা অনেকদিন হল ভাল যাচ্ছে না। কারণটা পরিস্কার। অল্প কিছুদের জন্য হলেও সালমানের এক কালের প্রেমিকা ক্যাটরিনা কাইফকে ডেট করেছিলেন রণবীর। এর জের ধরে, সালমান খান চলে যান সঞ্জয় দত্তর কাছে। বায়োপিক ‘সাঞ্জু’-তে রণবীরকে না নেওয়ার জন্যও সুপারিশ করে আসেন তিনি। যদিও, সঞ্জয় সালমানের কথা কানে নেননি। এর প্রভাব সালমান-সঞ্জয়ের সম্পর্কেও প্রভাব ফেলেছে।

  • হিমেশ রেশামিয়া

সালমান খানই হিমেশ রেশামিয়াকে প্রথম ব্রেক দেন। যখন হিমেশ গায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তা পান, তখন তিনি হিমেশকে নিজের সিনেমায় গাইতে বললে তিনি বেঁকে বসেন, প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। এরপর দু’জনের সম্পর্কের অবনতি হয়। সালমানও আর কখনো তাঁকে প্রস্তাব দেননি। ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা হারাতে থাকেন হিমেশ। বলা হল, নায়ক হতে গিয়ে এখন গায়ক হিসেবেও নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন হিমেশ।

  • অরিজিৎ সিং

একটা পুরস্কার অনুষ্ঠানে পুরস্কার নিতে মঞ্চে আসতে দেরী করেছিলেন অরিজিৎ। সালমান খান ছিলেন সঞ্চালক। অরিজিৎ মঞ্চে এসে বলেন, ‘আপনাদের লম্বা অনুষ্ঠান দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম।’ সালমান এই কথাটাকে সহজভাবে নেননি। অনুষ্ঠান শেষে অরিজিৎ সালমান খানের কাছে বিষয়টা খুলে বলতে আসলেও তিনি কর্ণপাত করেননি।

  • বিবেক ওবেরয়

রীতিমত একটা সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে সালমান খানের বিরুদ্ধে বলেছিলেন বিবেক ওবেরয়। তখন ঐশ্বরিয়া রায়ের সাথে সম্পর্ক ছিল বিবেকের। তিনি বলেছিলেন, তাদের সম্পর্কে অ্যাশের সাবেক প্রেমিক সালমান বাঁধার সৃষ্টি করছেন। এরপর ইন্ডাস্ট্রি থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করেন বিবেক। এরপর অনেকবার সালমান খানের কাছে ক্ষমা চাইলেও এখনো দু’জনের মধ্যে সম্পর্কের জট খোলেনি। বিবেক এখন বলিউডে নেই বললেই চলে।

  • ঐশ্বরিয়া রায়

২০০০-এর শুরুতে তাদের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে, ঐশ্বরিয়া সরে দাঁড়ালে সালমান মেনে নিতে পারেননি। তিনি শারীরিক ভাবেও ঐশ্বরিয়াকে আক্রমণ করেন বলে শোনা যায়। ‘চালতে চালতে’র সেটে গিয়ে অ্যাশকে টেনে হিঁচড়ে বের করে আনেন। তখন শাহরুখ খান আটকাতে গিয়েছিলেন। পরে ছবিটা থেকে অ্যাশ বাদ পড়েন, যোগ হন রানী মুখার্জী।

  • হৃতিক রোশন

‘গুজারিশ’ সিনেমা নিয়ে মন্তব্যের কারণে হৃতিকের সাথেও সম্পর্কের অবনতি হয় সালমানের। সালমান বলেছিলেন, ‘আরে সিনেমায় দেখলাম ওর ওপর মাছি উড়ছে, কিন্তু থিয়েটারে তো সিনেমা দেখতে কোনো মশাও গেল না।’ হৃতিক অবশ্য সালমানের মন্তব্যে হেসে উড়িয়ে দিয়ে বলেছিলেন, আগামী সাক্ষাতেই তিনি ভাইজানকে জড়িয়ে ধরবেন।

  • অনুরাগ কাশ্যপ

২০০২ সালের হিট সিনেমা ‘তেরে নাম’। তবে খুব কম লোকই জানেন যে, সতিশ কৌশিক নয় সিনেমাটি পরিচালনার দায়িত্বভার প্রথমে ছিল অনুরাগ কাশ্যপের ওপর। অনুরাগ মনে করতেন এই চরিত্রটির জন্য সালমান আদর্শ নন। শরীরে কিছু পরিবর্তন আনার জন্যও তিনি ভাইজানকে বুকের পশম রাখার জন্য বলেন। সালমান সেই পরামর্শ গ্রহণ তো দূরের কথা, সরাসরি প্রযোজককে অভিযোগ করে বসেন। প্রযোজকের কাছ থেকে অনুরাগ একটা ফোন পান। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে অনুরাগকে বলা হয়, ‘শালা! তুই সালমানকে পরামর্শ দিস!’ এর পর থেকে অনুরাগও সালমানের দিকে তাকান না।

– বলিবাইটস অবলম্বনে

https://www.mega888cuci.com