বিত্তশালীদের যত ভুতুড়ে কীর্তিকলাপ

অর্থ দিয়ে কি সুখ কেনা যায়? কেউ বলে যায়, অধিকাংশই বলে যায় না। কেউ বলেন অর্থই সকল সুখের মূল, অনেকের দাবী – অর্থই সকল অনর্থের কারণ। তবে কেবল, কেবল বিপুল অর্থবিত্ত থাকার সুবাদেই অনেক ধনীরা ভুতুড়ে সব কীর্তিকলাপ করেন, যা সাধারণ মানুষ ভাবতেও পারেন না। তেমনই কিছু ঘটনা নিয়ে আমাদের এই আয়োজন।

  • লিওনা হেমস্লি

লোকে বলতো তিনি আমেরিকান এই ব্যবসায়ী নাকি দুষ্ট আর নীচ প্রকৃতির। যাই হোক, তিনি তাঁর পোষা কুকুর পুচকে খুব ভালবাসনেত।  মৃত্যুর সময় নিজের সম্পত্তির ১২ মিলিয়ন ডলার তিনি এই কুকুরের নামে উইল করে যান। যেখানে তাঁর চার নাতি-নাতনির দু’জনকে কিছুই দেননি। তাঁর কুকুরের দেখভালের দায়িত্বে থাকা কার্ল লেকিচ জানান, বাৎসরিক পুচের পেছনে এক লাখ ডলার খরচ হয়!

  • জোকেলিন ওয়াইল্ডেনস্টেইন

জোকেলিন এক বিলিওনারকে বিয়ে করে অল্প ক’দিন পরই ডিভোর্স দিয়ে দেন। খাবার, ফোন বিল, ভ্রমণ বাদে বিচ্ছেদ থেকে পাওয়া বাকি অর্থটা তিনি ব্যয় করেন প্লাস্টিক সার্জারির পেছনে। তিনি নিজের চেহারাটা সিংহ’র মত করতে চেয়েছিলেন। আদৌ হয়েছে কি?

  • রবার্ট ডার্স্ট

বাবার বিপুল ধনসম্পত্তির মালিক বনে যাওয়া ডার্স্টের বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ ওঠে। কিন্তু, পুলিশ কোনো মোক্ষম প্রমাণ পায়নি। ২০০০ সালে আবারো মামলাটা চালু করা হয়, আর কাকতালীয় ভাবে তখনই তাঁর বাড়িতে এক বন্ধুর লাশ পাওয়া যায়। এবারো কোনো প্রমান মিললো না। তবে, শোনা যায় তিনি ‘সিরিয়ার ডগ কিলার’ও ছিলেন। বন্ধু ও স্ত্রী বাদে আরো দু’জন মানুষকেও খুন করেন তিনি।

  • প্রিন্স আল ওয়ালিদ বিন তালাল

সৌদি রাজপরিবারের সদস্য ও ব্যবসায়ী ওয়ালিদ বামনদের একটি গোত্রকে কিনে নিয়েছেন। শুধু  তাই নয়, তিনি এদের দিয়ে তিনি বোওলিং এর মত মিজেট টসিং নামের উদ্ভট এক প্রতিযোগীতারও আয়োজন করে থাকেন।

  • বব পার্সন্স

গোড্যাডি’র প্রধান নির্বাহী বব পার্সন্স একবার আফ্রিকা ভ্রমণে গিয়েছিলেন। সেখানে শিকারে গিয়ে এক বন্য হাতি মেরে ফেলেন। এক ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন তিনি যেখানে মানুষদের এই মৃত প্রাণির মাংস রান্না করে খেতে দেখা যায়। বব অবশ্য দাবী করেন, কৃষকদের শস্য ক্ষেত বাঁচাতেই তিনি হাতি মেরেছিলেন।

  • রবার্ট ক্লার্ক গ্রাহাম

সবচেয়ে ভুতুড়ে কাজটা সম্ভবত তিনিই করেছিলেন। তিনি একটা শুক্রাণু ব্যাংক খোলেন। কেবল নোবেল বিজয়ী, অলিম্পিক অ্যাথলেট বা অন্য কোনো শাখার জিনিয়াসদের শুক্রাণু সংরক্ষণ করা হত। ক্লার্কের দাবী ছিল এতে করে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিচক্ষণ ও সুস্বাস্থের অধিকারী হবে। যদিও, তাঁর মৃত্যুর পর এই বিশেষ ব্যাংকটি বন্ধ হয়ে যায়।

  • ইঙভার ক্যাম্পার্ড

আইকা’র প্রতিষ্ঠাতা ক্যাম্পার্ড খুব কিপটে ছিলেন। না পারতে পয়সা খরচ করতে চাইতেন না তিনি। তিনি একবার স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন যে তিনি রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার চুরি করে খেতেন। শুধু তাই নয়, হোটেল থেকে টয়লেট্রিজ সামগ্রীও চুরি করতেন।

  • হাওয়ার্ড হিউজেস

হাওয়ার্ড এয়ারপ্লেন ম্যানুফ্যাকচার করে বিপুল অর্থের মালিক বনে যান। একবার ব্রেভারলি হিলে একটা বিমান দুর্ঘটনার পর তিনি নিজেকে ব্যক্তিগত থিয়েটারে আটকে রাখেন। সেখানে কোনো রকম বাথরুম ব্যবহার না করেই মাসের পর মাস কাটান। বোতলের মধ্যে মলমুত্র ত্যাগ করতেন সেই সময়। কোনো রকম গোসলও করতেন না।

  • ক্লাইভ পালমার

পালমার জুরাসিক পার্ক সিনেমার বড় ভক্ত ছিলেন। তিনি ডিজনি ওয়ার্ল্ডের বড় রোবটগুলো দেখে পছন্দ করে ফেলেন। তাই একটা ডায়নোসরের রোবট কিনে ফেরেন নিজের গলফ কোর্সের জন্য। তিনি এতটাই সিনেমাভক্ত ছিলেন যে টাইটানিকের একটা রেপ্লিকাও বানিয়ে ফেলেন।

  • বিডজিনা ইভানিশভিলি

জর্জিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিডজিনা ব্যক্তিগত জীবনে বিজনেস টাইকুন হওয়ার সুবাদে ব্যাপক ধন সম্পদের মালিক। তিনি কাজ দিয়ে ঘেরা বিশাল একটা ম্যানশন বানিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি কেবল পেঙ্গুইনদের থাকার জন্য একটা বিশেষ ধরণের চিড়িয়াখানাও বানান।

– এন্টারটেলস অবলম্বনে

https://www.mega888cuci.com