ছোট পর্দার বড় তারকা

‘তুমি দূরে দূরে আর থেকোনা, এই চোখে চেয়ে দেখোনা’ – বছর কয়েক আগে ইমরান ও পূজার কণ্ঠে এই গানটি বেশ সাড়া ফেলেছিল। এই গানের মিউজিক ভিডিওতে ভালোবাসার মানুষকে ঘৃণা করার চেয়ে মৃত্যুকে বেছে নিয়ে সেই প্রেমিকটি দর্শকমহলে দারুণভাবে আলোচিত হয়েছিলেন।

দূরে দূরে মিউজিক ভিডিওর সেই মডেল এই মুহুর্তে টেলিভিশন নাটকে বহুমাত্রিক চরিত্রে নিজেকে উপস্থাপন করে চলেছেন। অভিনেতা হিসেবে নিজেকে অনন্য পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছেন, ফুলমতি টেলিফিল্মের পাগল থেকে বুকের বাঁ পাশের ব্যর্থ প্রেমিক চরিত্র পেরিয়ে দর্শকদের কাছে হয়ে উঠেছেন রহস্যময় আস্থাভাজন অভিনেতা। তিনি এই মুহুর্তের টেলিভিশন জগতের অন্যতম সেরা জনপ্রিয় অভিনেতা আফরান নিশো।

মিডিয়াজগতে পদচারণা সেই ২০০৩ সাল থেকেই,অমিতাভ রেজার হাত ধরে বিজ্ঞাপন চিত্রে কাজ শুরু। প্রথম নাটক গাজী রাকায়েতের ‘ঘরছাড়া’। সমসাময়িকরা নাটকে, চলচ্চিত্রে জনপ্রিয় হয়ে গেলেও তিনি যেন ব্রাত্য থেকে যাচ্ছেন। ২০০৭ সালে একটেলের বিজ্ঞাপন করে আলোচনায় এলেও মূলত বেশি পরিচিতি এসেছে প্রায় অর্ধযুগ পরে ‘দূরে দূরে’ মিউজিক ভিডিও দিয়ে। এর মাঝে সংখ্যার দিক থেকে অনেক নাটকই করেছিলেন যেমন সবুজ নক্ষত্র, ধূপছায়া, মানব জমিন, রুমালী, কায়াকর, ইডিয়ট, লাভ পন্ডিত অন্যতম।

মিউজিক ভিডিওর সাফল্যের পরপরই নাট্যঙ্গনে হয়ে ওঠেন অন্যতম ব্যস্ত অভিনেতা। মিজানুর রহমান আরিয়ানের ‘ট্র‍্যাম্পকার্ড’ থেকে সম্বোধন তিন প্রকার, এক হাজার টাকা, দুলছে পেন্ডুলাম, বিয়ে পাগল, লাইফ অ্যান্ড ফিওনা, লোটাকম্বল, জোকার, লেটস ফ্লাই-সহ বহু নাটক করে ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছিলেন নাট্যজগতের প্রতিশ্রুতিশীল অভিনেতা।

ব্যক্তিজীবনে কিংবদন্তি অভিনেতা হুমায়ূন ফরিদীকে আদর্শ মনে চলা এই অভিনেতা অত্যন্ত আলোচনায় আসেন ২০১৬ সালে। এই বছর নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে প্রচুর প্রশংসিত হয়েছিলেন। সুমন আনোয়ারের ‘ফুলমতি’ টেলিফিল্মে গ্রাম্য পাগল চরিত্রে অভিনয় করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। বিশেষ করে এই চরিত্রকে সঠিক ভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য যা যা করা প্রয়োজন, সবই করেছিলেন।

এছাড়া ভিন্নধর্মী সাই-ফাই জনরার টেলিফিল্ম ‘আয়না রহস্য’ দিয়ে নিশো’র জনপ্রিয়তা আরো বেড়ে যায়। স্বপ্নকুহক, কালারফুল, প্রতীক্ষা, সাহেব মেমসাহেব, যোগ বিয়োগ, তুমি না থাকলে, ভূতের ভ্যালেন্টাইন সবগুলো নাটকই গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। একই বছরে অনেকগুলো ভালো ভালো নাটকে অভিনয়ের সুবাদে প্রথমবারের মত টিভি নাটকের শীর্ষ অভিনেতা হিসেবে হয়ে উঠেন। গত বছর প্রচারিত নাটকগুলোর মধ্যে উচ্চতর হিসাববিজ্ঞান, যেই তুমি হরণ করো, ডিভোর্স, জীবনসঙ্গী, সোলমেইট অন্যতম। ‘সমর্পন’ নাটকে রাজাকার চরিত্রে অভিনয় করে চমকপ্রদ করেছেন। ক্যারিয়ারে স্বৈরাচার কিংবা প্রেমিকা ও ট্যাটু সিরিজ ও অন্যতম উল্লেখযোগ্য নাটক।

২০১৮ সালে এসে নিজের ক্যারিয়ার আরো বর্ণিল করেছেন। বছরের সবচেয়ে জনপ্রিয় নাটক ‘বুকের বাঁ পাশে’ থেকে প্রশংসিত নাটক ‘ফেরার কেউ নেই’-তে অভিনয় করে বেশ আলোচিত হয়েছেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ‘হোম টিউটর ও লালাই’ নাটকটি। এছাড়া শাড়ী, ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প, লায়লা তুমি কি আমায় মিস করো, সব গল্প রুপকথা হয় না, অনুভবে, শোক হউক শক্তি, তিনি আমাদের বকর ভাই, ছেলেরাও কাঁদে অন্যতম।

ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে সবাইকে ছাপিয়ে তিনি এই বছরের সবচেয়ে আলোচিত অভিনেতা। সময়ের জনপ্রিয়তায় বহু চলচ্চিত্রের অফার ও পাচ্ছেন। তবে এই মুহুর্তে চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন না। সাম্প্রতিক সময়ে নাটক থেকে সিনেমার জগতে নাম লেখানোর জোয়ারের মাঝেও তিনি নিজেকে নাটকেই থিতু করেছেন।

‘যোগ বিয়োগ’ নাটকের জন্য সমালোচক বিভাগে মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার পেয়েছিলেন। এর ঠিক পরের বছরেই পেয়েছেন আকাঙ্ক্ষিত দর্শক জরিপে সেরা অভিনেতার পুরস্কার। মেহজাবীনের সঙ্গে জুটি এই মুহুর্তে বেশ জনপ্রিয়। অভিনেত্রী তিশা ক্যারিয়ারে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তানজিন তিশার সঙ্গেও বহু নাটক করে যাচ্ছেন। নির্মাতা মিজানুর রহমান আরিয়ান, মাবরুর রশিদ বান্নাহ’র সঙ্গে যেমন কাজ করছেন তেমনি আশফাক নিপুণ, সুমন আনোয়ারের নাটকেও নিজেকে তুলে ধরছেন। তাই নাটক নির্বাচনে ভুল হলেও এদের রসায়নে নিজেকে খুব ভালোভাবেই সামলে যাচ্ছেন।

নিশোর জন্ম ১৯৮০ সালের আট ডিসেম্বর। টাঙাইলের ভূয়াপুরের ছেলে হলেও তাঁর পড়াশোনা ঢাকাতেই। ধানমণ্ডি গভর্মেন্ট বয়েজ স্কুল ও ঢাকা কলেজের গণ্ডী পেড়িয়ে তিনি উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে। ব্যক্তিজীবনে বিয়ে করেছেন অনেক আগেই, সেই ২০১১ সালে। নিন্দুকদের মুখ কুলুপ এঁটে স্ত্রী, সন্তান নিয়ে বেশ ভালো আছেন।

https://www.mega888cuci.com