তুমি সেই পূর্ণতা আমার অনুভবে

তিনি প্রথম দর্শকের নজরে আসেন লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার হয়ে, তৃতীয় আসরে, ২০০৭ সালে। তারপর দর্শক তাকে পায় জননন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের চলচ্চিত্র ‘আমার আছে জল’-এ। সে ছবি তাকে প্রশংসিত করে। তবে তাঁর দ্বিতীয় ছবি ছিল সময়ের সেরা তারকা শাকিব খানের বিপরীতে, ছবির নাম ‘আমার প্রাণের প্রিয়া’।

এ ছবির গানগুলো বেশ জনপ্রিয় হয়ে পড়ে, পাশাপাশি ছবিটি তাকে এনে দেয় সিনেমার প্ল্যাটফর্ম। সিনেমার চমৎকার প্ল্যাটফর্ম পেয়েও তিনি ছোটপর্দায় কাজ করেছেন, আবার মাঝে মাঝে সিনেমায় দেখা দিয়ে আলোচনায় থেকেছেন, থাকছেন।

যার কথা বলছি তিনি কে আর নিশ্চয়ই বলতে হবে না! তিনি বিদ্যা সিনহা সাহা মীম। ২০০৭ সালে লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার হয়ে শোবিজে তিনি পা রাখার সিঁড়ি পেয়ে যান।

তার সমসাময়িক নায়িকাদের মধ্যে তার উচ্চতা, শারীরিক কাঠামো যেকোন দর্শকের বুকে কাঁপন ধরাতে যথেষ্ঠ। মীমকে পাশের বাড়ির মেয়ের চরিত্রে যেমন মানায় তেমনি ‘স্পাইসি’ কোন আইটেম গানেও চমৎকার মানায়।

কিংবা নায়কের সাথে আবেদনময়ী রোমান্টিক গানে যখন তাকে দেখা দর্শকের চোখের পলক যেন পড়তে ভুল হয়। মীমকে নিয়ে রচিত হয়েছে গান, সে গানের মডেলও হয়েছেন  মীম। এ সৌভাগ্য ক’জনার হয়?

আবেদনময়ী মীম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়ে যান ২০১৪ সালেই, ক্যারিয়ারে বয়স যখন মাত্র ছয় বছর চলছে। প্রয়াত নির্মাতা খালিদ মাহমুদ মিঠুর ‘জোনাকির আলো’ মিমকে এনে দেয় এ বিরল সম্মান। তারও পূর্বে ‘আমার আছে জল’ ছবির জন্য ২০০৮ সালে তার ঝুলিতে এসে যায় মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার, সমালোচকদের রায়ে।

মীম বাণিজ্যিক ছবির জন্য একজন যথার্থ অভিনেত্রী। কেন যেন তাকে যেভাবে পাওয়ার কথা ছিল সেভাবে পাচ্ছেনা দর্শক। মীম সিনেমা দিয়ে শুরু করলেও মাঝে চুটিয়ে ছোটপর্দায় কাজ করেছেন। নাটক, টেলিছবি, বিজ্ঞাপনে মীমকে নিয়মিত দেখা গেছে। সিনেমায় ব্যাটে বলে মিললেই শুধু কাজ করেছেন।

মীম কয়েকটি আলোচিত কাজ করেছেন ছোটপর্দায়। প্রায় সকল জনপ্রিয় অভিনেতার বিপরীতে তাকে দেখা গেছে ছোটপর্দায়। তিনি যেসব বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন তার প্রায় সবগুলোই দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। গ্রামীণফোনের বিজ্ঞাপনে দ্বৈত চরিত্রে মডেল হয়ে মীম নিজের মডেলিং ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যুক্ত করেন।

মিমের আরেকটি পরিচয় আছে। তিনি একজন লেখিকা। ২০১২ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম গ্রন্থ ‘শ্রাবণের বৃষ্টিতে ভেজা’। এরপর প্রকাশিত হয় ‘পূর্ণতা’। অর্থাৎ, বেশকিছু পরিচয়ে মীমকে পাওয়া যায় – অভিনেত্রী, মডেল, লেখিকা।

যেকোন অ্যাওয়ার্ড শো পূর্ণতা পায় না মীমকে ছাড়া। মীম যদি কোন মঞ্চে পারফর্ম করেন তবে তা আলোকিত হয় পূর্ণাঙ্গভাবে। ধারালো ফিগারের মীমের পারফরম্যান্স তুলনীয় হয় বলিউডের টানটান ফিগারের নায়িকাদের সঙ্গে।

মীম অভিনয় করেছেন ওপার বাংলা, অর্থাৎ কলকাতায়। সোহাম, জিৎ, ওমের বিপরীতে অভিনয় করে নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। দেশে তিনি কাজ করেছেন শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের বিপরীতে। তিনি আরো কাজ করেছেন আরিফিন শুভ, ইমন, বাপ্পি প্রমুখ নায়কের বিপরীতে। বাপ্পি-মীম জুটিও অনেকে পছন্দ করেছেন। তবে দর্শকের অন্যতম প্রত্যাশিত জুটি শাকিব খান – মীম, যে জুটির রয়েছে মাত্র দুটো ছবি। দর্শকের অতৃপ্তিটা সেখানেই।

মিম বর্তমানে কাজ করছেন ‘সাপলুডু’ চলচ্চিত্রে। এ ছবিটি নিয়ে সচেতন দর্শক বেশ আশাবাদী। ছোটপর্দার সফল পরিচালক গোলাম সোহরাব দোদুলের এ ছবি মিমকে নতুন করে চেনাবে এ প্রত্যাশা অনেকের। আরিফিন শুভ’র বিপরীতে ‘তারকাঁটা’ ছবিতে কাজ করে মীম আলোচিত হয়েছিলেন, এ ছবিটির মাধ্যমে সেই শুভকেই পাচ্ছেন মীম তার বিপরীতে।

বিদ্যা সিনহা মিম যে কাজই করেছেন দর্শককে তৃপ্তি দিয়েছেন এতটুকু হলেও। নব্বই দশকের গোড়ার দিকে রাজশাহীতে বীরেন্দ্র নাথ সাহা ও ছবি সাহা’র কোল আলো করে জন্ম নেয়া মায়াবী কন্যাশিশুটিই যে সুন্দরী হয়ে দর্শকের মন কেড়ে নিবে কে জানতো! পরিবারের বড় মেয়েটি আজ কত যে যুবকের চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছে তার হিসেব কষা বড্ড কঠিন। অপরূপ সৌন্দর্যে আজ হাজার কোটি জোড়া চোখ পলকহীন।

https://www.mega888cuci.com