স্মৃতিতে বিশ্বকাপ: ইতিহাস কাঁপানো যত উদযাপন

বিশ্বের ক্রীড়া প্রতিযোগীতাগুলোর মধ্যে বিশ্বকাপ ফুটবল অন্যতম, বলতে গেলে শীর্ষস্থানীয় একটি আয়োজন, একটি উৎসব। বিশ্বকাপ নিয়ে যে উন্মাদনা তা অন্য প্রতিযোগীতা নিয়ে হয় না বললেই চলে। গোলের খেলা ফুটবল, গোল দিয়ে প্রত্যেক গোলদাতা চায় বিশ্বকাপে করা তার গোলটিকে অন্য সবার চেয়ে আলাদা করে রাখতে। তাই তো তারা বৈচিত্র্যময় উদযাপনে মেতে ওঠে। বিশ্বকাপ বলে কথা, গোল করার কৃতিত্ব যেমন অনন্য গোল উদযাপনও তেমনি হতে হয় অনন্য।

  • রজার মিলা

ক্যামেরুন বনাম কলম্বিয়া (ইতালি বিশ্বকাপ, ১৯৯০)

১৯৯০ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের উদযাপন মানেই চোখের কোণে ভেসে ওঠে ক্যামেরুনের রজার মিলার সেই বিখ্যাত নৃত্য। কলম্বিয়ার সঙ্গে গোল করেই দৌড়ে কর্ণারের পতাকা ধরে তার কোমর দুলিয়ে নাচানাচি অন্যরকম ভালোলাগার পরশ দিয়ে যায়।

৩৮ বছরের রজার মিলার ৪টি গোলের সুবাদে আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় ক্যামেরুন, কিন্তু এসবের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছিল গোল শেষে করা তার আনন্দোৎসব।

অনেকের কাছে তার উদযাপন বিরক্তিকর লাগলেও বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চ কৃতজ্ঞ থাকবে তার কাছে এ অভূতপূর্ব আনন্দময় মুহূর্ত উপহার দেয়ার জন্য।

  • মার্কো তারদেল্লি

ইতালি বনাম পশ্চিম জার্মানি (স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনাল, ১৯৮২)

ইতালি ফাইনালে খেলেছিল পশ্চিম জার্মানির বিরুদ্ধে, ৩-১ গোলে ম্যাচ জয়ের পাশাপাশি শিরোপাও জিতে নেয় পাওলো রসির ইতালি। তবে ফাইনালে একজনের উদযাপন সবাইকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তিনি হলেন মার্কো তারদেল্লি। ইতালির হয়ে দ্বিতীয় গোল করার পর দুটো হাতকে মুষ্টিবদ্ধ করে এমন এক দৌড় তিনি দিয়েছিলেন যেন তা অনন্তকালের। এ যেন এক অবিশ্বাস্য ঘটনা ছিল তার জন্য, নিজের গোলটাকে নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যেন।

ইংলিশ কমেন্টেটর ক্রুনস তো বলেই বসেছিলেন, ‘মার্কো তারদেল্লি বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করলে যেভাবে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে হয় সেভাবেই করছেন।’ রজার মিলার উদযাপন যেমন আলোচিত তেমনি স্মরণীয় মার্কো তারদেল্লির সে আনন্দঘন মুহূর্ত।

  • পাপা বুউবা ড্যুপ

সেনেগাল বনাম ফ্রান্স (জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপ, ২০০২)

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের মুখোমুখি আফ্রিকার সেনেগাল। কে জানতো প্রথম ম্যাচেই হারের মুখ দেখবে ফ্রান্স। সেনেগালের ১৯ নম্বর জার্সি পরিহিত পাপা বুউবা ড্যুপ গোল করেই ছুট লাগালেন কর্ণারের দিকে। জার্সিটা খুলে মাটিতে ফেললেন, সতীর্থদের নিয়ে সৃষ্টবৃত্তের মাঝে জার্সি রেখে শুরু করলেন নৃত্য। গোল উদযাপন এভাবেই করতে হয়, তার এ উদযাপনটিও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

  • জুলিয়াস আঘাহোয়া

নাইজেরিয়া বনাম সুইডেন (জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপ, ২০০২)

উদযাপনের সময় অ্যাথলেটদের মতো শারিরীক কসরত দেখালে তা সবসময় আকর্ষণীয় হয়। এমন একটি উদযাপনের সাক্ষী হয়েছিল বিশ্বকাপ, ২০০২ সালে। নাইজেরিয়ার জুলিয়াস আঘাহোয়া প্রায় সকল কসরত দেখিয়েছিলেন সুইডেনের সাথে গোল করার পরে। সে টুর্নামেন্টে এই একটিমাত্র গোলই করতে পেরেছিল নাইজেরিয়া, তাই স্মরণীয় হয়ে আছে এ গোল ও উদযাপন।

  • বেবেতো

ব্রাজিল বনাম হল্যান্ড (আমেরিকা বিশ্বকাপ, ১৯৯৪)

হল্যান্ডের সাথে ম্যাচে ব্রাজিলের বেবেতো গোল করার পর তার সদ্য জন্ম নেয়া শিশুর জন্য অদ্ভূত সুন্দর উদযাপন করেছিলেন। বাচ্চাদের কোলে নিয়ে দোলানোর মতো করে যে ভঙ্গিমা তিনি দেখিয়েছিলেন তা আজো বিশেষ কিছু বিশ্বকাপের জন্য। ব্রাজিলের ষষ্ঠ সর্বোচ্চ গোলদাতা বেবেতো সে বিশ্বকাপে ৩টি গোল করেছিলেন, ব্রাজিলের চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ে রেখেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

  • ফ্যাবিও গ্রোসো

ইতালি বনাম জার্মানি (জার্মানি বিশ্বকাপ, ২০০৬)

আরেকটি ইতালিও উৎসব, আরেকটি পরমানন্দের গল্প। ২০০৬ সালে স্বাগতিক জার্মানির বিপক্ষে সেমি ফাইনালে ফ্যাবিও গ্রোসোর গোলের পর উচ্ছ্বাসের মাত্রাটা মনে করিয়ে দিচ্ছিল চব্বিশ বছর পূর্বের মার্কো তারদেল্লিকে।

আন্দ্রে পিরলো কর্নার থেকে বল পেয়ে শট নিতে পারছিলেন না বলে গ্রোসোকে পাস করলেন, তাতেই গ্রোসো কোন সময় নষ্ট না করে আচমকা শট নিয়ে বসলেন। তারপরই শুরু হলো মাথা নাড়তে নাড়তে হাত দুটো অনেকটা টার্ডেলির মতো সামনে রেখে অ্যাথলেটদের মতো দৌড়। তিনিও যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না গোল করে বসেছেন। প্রতিপক্ষ একই, সেই জার্মানি।

  • পাবলো আর্মেরো

কলম্বিয়া বনাম গ্রীস (ব্রাজিল বিশ্বকাপ, ২০১৪)

কলম্বিয়ার জন্য ২০১৪ বিশ্বকাপ ছিল স্বপ্নের মতো। কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের সাথে হেরে তাদের বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়েছিল।

টুর্নামেন্টে দেশের হয়ে প্রথম গোল করার পর পাবলো আর্মেরো বাকি সবার মতো একটি দৌড় লাগালেও কি মনে করে সবাইকে থামিয়ে দিলেন। তারপর সতীর্থদের নিয়ে শুরু করলেন দলীয় নৃত্য। কলম্বিয়ার স্বপ্নের বিশ্বকাপে তাদের এ দলীয় উৎসবটিও স্মরণীয় হয়ে আছে সবার কাছে।

– নাইন্টি মিনিট অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।