কেমন হবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল?

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলটাকে মোটামুটি ব্যালান্সডই বলা যায়। কারণ, ‘কোর গ্রুপ’টা মোটামুটি নিশ্চিত। তামিম ইকবাল, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোহাম্মদ মিথুন, সাব্বির রহমান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মেহেদী হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মুর্তজা, রুবেল হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান – এই নাম কয়টা মোটামুটি নিশ্চিত।

এর বাইরে আছেন ইমরুল কায়েস। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের দু’টিতেই সেঞ্চুরি করার পরও তার কপাল যে পুড়ছে – সেটা মোটামুটি নিশ্চিত। টপ অর্ডারে তামিমের সাথে লিটন দাস কিংবা সৌম্যকেই বেশি পছন্দ বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টের। এই হিসেবে দলে এনামুল হক বিজয়েরও ফেরার কোনো সুযোগ নেই।

কয়েকটা ব্যাপারে এখনো অধিনায়ক, নির্বাচক ও বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। প্রথম সমস্যাটা হল মিডল অর্ডারে। এটা হয়েছে ইংলিশ কন্ডিশনের ওপর। উপমহাদেশীয় কন্ডিশন হলে হয়তো সাকিবের সাথে একাদশে দ্বিতীয় স্পিনার হিসেবে মেহেদী হাসান মিরাজের খেলাটা নিশ্চিত ছিল।

কিন্তু, ইংল্যান্ড বলেই কিছুটা দুশ্চিন্তা আছে। সেক্ষেত্রে হয়তো তাকে প্রথম কয়েকটা ম্যাচ দেখা হবে। কার্যকর হলে তো ভালই, না হলে হয়তো বাড়তি একজন পেসার খেলানো হতে পারে। আবার একটা বিকল্প ভাবনাও আছে। এমন কাউকে পেলে কেমন হয়, যার ব্যাটিংটা মিরাজের চেয়ে ভাল, পার্ট টাইম অফ স্পিনেও মন্দ নয়? – এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আলোচনায় এসেছেন মোসাদ্দেক। চোখের সমস্যার কারণে কয়েকটা সিরিজ দলের বাইরে থাকার পরও তাই তিনি আলোচনায় আছেন।

তবে, মোসাদ্দেকের চেয়েও বেশি আলোচনায় আছেন আসলে ইয়াসির আলী রাব্বি। ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেকদিন হল ধারাবাহীক পারফরম করে যাওয়া এই ব্যাটসম্যানের মূল শক্তির জায়গা হল মিডল অর্ডারে পরিস্থিতি বুঝে ব্যাট করতে পারা। আর টিম ম্যানেজমেন্টের অভিমত, ইংল্যান্ডে মোসাদ্দেকের চেয়ে ইয়াসির বেশ প্রভাব ফেলতে পারবেন।

এবার আসা যাক পেস বোলিং লাইন আপে। মাশরাফির সাথে মুস্তাফিজ ও রুবেল – মোটামুটি কার্যকর একটা বিভাগ। এর সাথে ব্যাক আপ হিসেবে কে থাকবেন সেটাই এখন প্রশ্ন। দু’টো নাম আছে – হয় তাসকিন না হয় শফিউল। তাসকিনের সমস্যা হল সর্বশেষ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী হলেও তিনি এখনো ইনজুরি থেকে পুনর্বাসন শেষ করে ফিরতে পারেননি।

আর তাঁর বিরুদ্ধে সব সময় যে অভিযোগ, গতির সাথে আপোষ করতে না পেরে লাইন লেন্থ হারিয়ে ফেলেন প্রায়ই, যার সুবাদে প্রতিপক্ষ বিস্তর রান বের করে ফেলে। সেখান থেকেই আসলে শফিউলের নামটা চলে এসেছে। এখানে মূলত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর পারফরম্যান্স ও ব্রিটিশ কন্ডিশনে তাঁর বোলিংয়ে মাথায় রাখা হয়েছে।

তবে, এসব জল্পনা-কল্পনার অবসান শিগগিরই হবে। ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির বেঁধে দেওয়া ডেডলাইন অনুযায়ী আগামী ২৩ এপ্রিলের মধ্যেই সবগুলো দলের স্কোয়াড জানিয়ে দিতে হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) হয়তো ততদিন অপেক্ষা করবে। আগামী ১৮ এপ্রিল নাগাদ দল ঘোষণা হয়ে যাওয়ার কথা।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সম্ভাব্য দল: তামিম ইকবাল, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোহাম্মদ মিথুন (ব্যাক আপ উইকেটরক্ষক), সাব্বির রহমান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মেহেদী হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), রুবেল হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ/শফিউল ইসলাম ও ইয়াসির আলী রাব্বি/মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

https://www.mega888cuci.com