মাত্রাতিরিক্ত যৌনতা: নিষিদ্ধ কলকাতার বাংলা ছবি

ভারতে অনেক রকম ছবি হয়, অনেক ভাষার ছবি হয়। সেখানে হিন্দি, তামিল, তেলেগু, মালায়ালাম বা কান্নাড়া ছবির যেমন কদর আছে, তেমনি পিছিয়ে নেই কলকাতার বাংলা ছবিও। সেই উত্তম-সুচিত্রার যুগ থেকে ‍শুরু করে টলিউড ইন্ডাস্ট্রি হাজারো কালজয়ী ছবি উপহার দিয়েছে। বিস্তর সাহসও দেখিয়েছে, কখনো গল্পের প্লট দিয়ে ট্যাবু ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে, কখনো কিছু দৃশ্য দিয়ে।

তবে, যৌনতার প্রসঙ্গে বরাবরই উপমহাদেশ বেশ কৃপণ। সমাজে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, বা পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখা যাবে না – এমনটা বোঝা মাত্রই টলিউডের সেন্সর বোর্ড আটকে দিয়েছে বেশ কিছু সিনেমা। বলা যায়, মাত্রাতিরিক্ত যৌনতার দায়ে ছবিগুলো নিষিদ্ধই হয়েছে। তেমনই কিছু নিষিদ্ধ বাংলা ছবি নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন।

  • বিবর (২০০৬)

তানিষ্ঠা চট্টোপাধ্যায় ও সুব্রত দত্ত অভিনীত এই সিনেমাটি পরিচালনা করেন সুব্রত সেন। ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত সমরেশ বসুর বিতর্কিত উপন্যাস ‘কলকাতা’ অবলম্বনে নির্মিত হয় এই সিনেমা। ছবিটির জন্য তানিষ্ঠা চট্টোপাধ্যায় ও সুব্রত দত্ত বিএফজেএ’র সেরা অভিনেত্রী ও সেরা অভিনেতার পুরস্কার জয় করেন।

  • গাণ্ড (২০১০)

কৌশিক মুখার্জী পরিচালিত ছবিটি মুক্তির আগে বেশ হাইপ তুলেছিল। যদিও, সাদাকালো ফরম্যাটে দেখানো ছবিটি মুক্তির পর হতাশ করে। মাত্রাতিরিক্ত রগরগে দৃশ্যের জন্য ছবিটি নিষিদ্ধ করা হয়। ২০১২ সাল আগ পর্যন্ত ছবিটি ভারতে দেখানোই সম্ভব হয়নি। যদিও, ছবির র‌্যাপ মিউজিকগুলো প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

  • ছত্রাক (২০১১)

ভারতীয় বাংলা ড্রামা হলেও এর নির্মানে ছিলেন শ্রীলঙ্কান পরিচালক ভিমুক্তি জয়াসুন্দ্রা। ছবিটি ২০১১ সালের কান ফেস্টিভ্যালেও দেখানো হয়। অভিনয়ে ছিলেন পাউলি দাম ও সুদীপ মুখোপাধ্যায়। কানের পর টরেন্টো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ও প্যাসিফিক মেরিডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সিনেমাটি দেখানো হলেও প্রেক্ষাগৃহে কখনো মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি। ছবি মুক্তির আগেই একটা রগরগে ভিডিও লিক হওয়ায় পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়। ফলে, আজীবনের জন্য আটকে যায় সিনেমাটি।

  • থ্রি অন আ বেড (২০১২)

রাজদ্বীপ পাল ও শর্মিষ্ঠা মৈতির ছবি। কান্নাড়া নাটক ‘হায়াভাদানা’ অবলম্বনে নির্মিত এই শর্ট ফিল্মটিতে ত্রিভুজ ভালবাসার গল্প দেখানো হয়েছে। এটা ভারতের প্রথম পলিয়ামোরিক চলচ্চিত্র। এক নারীর দুই প্রেমিকের সাথে লিভ-ইন বাঙালি সমাজের মেনে নেওয়ার কথা নয়।

  • কসমিক সেক্স (২০১৩)

ছবিটির জন্য ঋ সেন সিনেফ্যান ফেস্টিভ্যালে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছিলেন। নি:সন্দেহে ছবিটির বিষয়বস্তুও ছিল যথেষ্ট সাহসী। তবে, যৌনতা নিয়ে এতটা সাহস সেন্সর বোর্ডের পছন্দ হয়নি।

https://www.mega888cuci.com