বাংলার কিংকং: সর্বকালের সেরা কমেডি!

বাংলার কিংকং – বেশ কয়েক বছর আগে নির্মিত এই সুমহান ঢাকাই মুভিটি আমি কিভাবে এতদিন না দেখে থাকতে পারলাম ভেবে আজকাল আমার হৃদয় মাঝেমাঝেই ছাড়খাড় হয়ে যায়।

সম্প্রতি ব্যক্তিগত কারণে আমার মন প্রায়াশই বেজার হয়ে থাকে। বিষয়টা লক্ষ্য করে আমার অকালপক্ক কলেজ পড়ুয়া ভাতিজাটি পেনড্রাইভে এই মুভিটি সরবরাহ করে ৩২ পাটি দন্ত বিকশিত করে বলে, ‘দেখে নিও চাচ্চু। ঢালিউডের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা কমেডি মুভি..বাংলার কিংকং…ব্যাপক বিনোদন!’

যদিও উইকিপিডিয়াতে এই মুভিটিকে ‘অ্যাকশন’ জনরার বলা হয়েছে তবে মুভিটি দেখে আমিও আমার ভাতিজার সাথে ঐক্যমতে পৌঁছেছি। যারা হলিউডের অরিজিন্যাল কিংকংয়ের ভক্ত তাদের হয়তো বাংলার কিংকংয়ের বেহাল দশায় বালতি ভর্তি কান্না আসতে পারে।

কান্নাটা আসবে এই ভেবে যে, এই মহাপরাক্রমশীল প্রাণীটিকে তার চেয়েও ওজনদার একজনকে মুভিটিতে মাঝেমাঝেই বহন করতে হয়েছে। আর তিনি হলেন- ‘মুনমুন’! কারণ এই মুভির নায়িকা যে বাংলাদেশের অন্যতম দশাশই নায়িকা মুনমুন!

এই তথ্যটা জানলে অবশ্য পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীরা প্রাণী নির্যাতনের অভিযোগে জাতিসংঘ ভবন ঘেরাও করতো। তবে ঢাকাই মুভির খবর বাইরে খুব একটা রটে না বলে পরিচালক ইফতেখার জাহান এ যাত্রা বেঁচে গেছেন!  মুভিটিতে অদ্ভূতদর্শন সাপ সহ কতিপয় কিম্ভূতকিমাকার মানুষ-অমানুষ প্রাণীকূলের কথা আমার অনেকদিন ইয়াদ থাকবে।

মুভিতে কিংকংয়ের মুখোশটা….আহা! কি বলবো? নিদারুন গেটআপ, মেকআপে অরিজিন্যাল কিংকং ফেইল! উপরি হিসেবে আছে মুনমুনের ভূমিকম্প সম উদ্বাহু নৃত্য। এক্কেবারে মাইন্ড ব্লোয়িং। হৃদয় কাঁপানো, ভুবন দোলানো।

নেট ঘেঁটে বাংলার কিংকং বিষয়ক অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে মুভিটির পরিচালক ইফতেখার জাহান সাহেবের একটা সাক্ষাৎকার চোখে পড়লো। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, হলিউডের বিখ্যাত ‘কিংকং’ মুভির সাফল্যে অনুপ্রানিত হয়ে তিনি বাংলার কিংকং তৈরী করেন। ইফতেখার জাহান বলেন, ‘পুরো ছবিতে অনেক কম্পিউটার-প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। গরিলার পোশাক এনেছি যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এ ছাড়া সেখান থেকে আনা বেশ কিছু সফটওয়্যারও ব্যবহার করেছি।’

তিনি জানিয়েছেন, হলিউডের কিংকং ছবির গল্পের আদলেই বাংলার কিংকং ছবিটি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে আমি মুভির প্রযুক্তি দেখিয়া টাসকি খাইয়া কিছুদিন প্রাগ্রৈতিহাসিক হইয়া গেছিলাম। এক কথায় ‘ভয়াবহ’!

বনে এক অভিযাত্রী দলের নারী সদস্যকে গরিলা ধরে নিয়ে যায়। একসময় গরিলার হাত থেকে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। সঙ্গে বন্দী করে আনা হয় গরিলাটিকে। কিন্তু শহরে এই গরিলাকে আটকে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এই হলো সংক্ষেপে বাংলার কিংকংয়ের গল্প। মহান এই মুভির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মুনমুন, ড্যানি সিডাক, শামীম, আফজাল শরীফ, কাজী হায়াৎ প্রমুখ।

  • সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরন:

এই মুভি দেখার অব্যাবহিত পর কিছুদিন আপনি সাময়িক স্মৃতিভ্রষ্টে আক্রান্ত হতে পারেন! অতএব নিজ দ্বায়িত্বে মুভিটি দেখবেন।

https://www.mega888cuci.com