লিডার: দুর্বল নির্মাণের রাজনৈতিক উত্তেজনাপূর্ণ চলচ্চিত্র

নব্বই দশকে আমাদের দেশে যথেষ্ট পরিমাণে রাজনৈতিক ছবি হলেও একবিংশ শতাব্দীতে এসে সেই গতি কমে গিয়েছে। ডিজিটাল যুগে ‘দেশা’, ‘রাজনীতি’ এবং ‘দহন’ ছাড়া আমাদের তেমন ভালোমানের রাজনৈতিক ছবিও নেই। অথচ নব্বই দশকের ছবিগুলোর মূল ভাবনা যদি দেখি তাহলে সেই গল্প নিয়ে এখনকার সময়ে ছবি বানানোর চিন্তা করাও অসম্ভব! ছয় বছর পর ‘লিডার’ মুক্তি পেয়ে সেই অসম্ভব চিন্তার একটি উদাহরণ তৈরী করলো মাত্র।

শূণ্য প্রত্যাশা নিয়েই ছবিটি দেখতে গিয়েছিলাম। তেমন বেশি কিছু নিয়ে বের হয়ে আসতে পারিনি। প্রাপ্তির খাতাটাও তাই শূণ্যই বলা যায়। সবমিলিয়ে বলবো ছবিটিতে অতিরিক্ত পরিমাণে পরীক্ষা নিরিক্ষা চালানো হয়েছে। এর কারণে ভালো গল্প হওয়ার সত্ত্বেও মহা-দূর্বল নির্মাণে ছবিটি মানের দিক থেকে অনেকখানি পিছিয়ে গিয়েছে। আমি ১০-এ ৪ দেবো ছবিটিকে।

  • নামকরণ

মানুষ জন্মগতভাবে রাজনৈতিক জীব – এরিস্টোটলের বিখ্যাত এই উক্তি দিয়ে ছবির শুরু হয়। ছবির মূল প্রেক্ষাপট সুন্দরগাঁও নামক এক অঞ্চলের নেতৃত্ব নিয়ে, যেখানে ক্ষমতার প্রভাবে যোগ্য নেতৃত্ব পদে পদে প্রভাবিত হয়। বায়ুপ্রবাহের সাথে সাথে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন হয়।

গল্পের মূল ভাবনা অনুসারে নামকরণটি মানানসই লেগেছে, যদিও যুৎসই করে এক্ষেত্রে বাংলা নাম রাখা যেতো।

  • কাহিনী, চিত্রনাট্য ও সংলাপ

ছবির কাহিনী এবং চিত্রনাট্যের গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন পরিচালক দিলশাদুল হক শিমুল নিজেই। গল্পে দেখা যায়, সুন্দরগাঁও নামক এক অঞ্চল ব্যাপক পরিমানে চোরাচালান এবং মাদক সরবরাহের জন্য কুখ্যাত। এলাকায় আসলাম ভাইয়ের (সোহেল খান) ছায়াতলে থেকে এই চোরাচালানের কারবার সামাল দেয় বদরুল (ফেরদৌস) এবং তার বাহিনী। ধীরে ধীরে এই বদরুলবাহিনী অতিরিক্ত বেপরোয়া হয়ে উঠলে চোরাচালান থেকে তারা ধীরে ধীরে সন্ত্রাসবাদ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।

অন্যদিকে ঐ অঞ্চলের এক স্বাধৗনচেতা সাংবাদিকের মেয়ে শিউলি আখতার (মৌসুমৗ) একটি বিশেষ কারণে সরকারমহলের লোকদের নিকট বিচার দাবি করে, কিন্তু সুবিচার পায় না। পরবর্তীতে তিনি সিদ্ধান্ত নেন আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াবেন, কারণ তিনি চাননা এই অঞ্চলে আর কারো প্রতি অবিচার হোক।

এদিকে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে বদরুলবাহিনী সফলভাবে বিচরণ করা শুরু করলে পরবর্তীতে এবাহিনীর প্রধান বদরুলকে ক্ষমতার লোভ পেয়ে বসে। সে সামনের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াতে চায়। সে উপলক্ষে শুরু করে দেন ইমেজ ক্লিনের ব্যবস্থাপনা। জমে ওঠে বদরুল-শিউলি স্নায়ুযুদ্ধ।

তবে ছোট ছোট কয়েকটি জায়গায় বদরুলবাহিনী অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল করে বসে, সেগুলো না হয় সাসপেন্স হিসেবেই থাক। যার দরুণ এই ভুলগুলোর বিপরীতে তাদের বড় প্রাশ্চিত্ব পালন করতে হয়।

সবমিলিয়ে বললে এটি বাণিজ্যিক ছবির জন্য একটি যথাপযুক্ত গল্প ছিল। ঘটনাগুলি পর্যায়ক্রমে হওয়ায় এবং এর পাশাপাশি ব্যাকগ্রাউন্ড ভয়েসের মাধ্যমে ছবির শুরুর দিকটা বিশ্লেষণ করায় মূল বিষয়বস্তু কি সেটা ভালোভাবেই বোঝা যাচ্ছিল। পাশাপাশি বেশকিছু পাওয়ারফুল ডায়ালগ পাওয়া গেছে ছবিতে যা পলিটিক্যাল থ্রিলার জনরার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এ অংশ ১০০-তে ৮০ পাবে।

  • পরিচালনা এবং অভিনয়

এটি পরিচালক দিলশাদুল হক শিমুলের প্রথম ছবি। আর প্রথম কাজেই রাজনীতির মতো একটি জনরা বাছাই করা আমাদের ইন্ডাস্ট্রির প্রেক্ষাপটে বেশ সাহসী পদক্ষেপ।

তবে আফসোস, প্রথম কাজ হিসেবে তার পরিচালনা আপ টু দ্য মার্ক না। গল্প লেখা এবং পর্দায় উপস্থাপনার মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ দেখা গেছে। অল্পকথায় যদি বলি, উপস্থাপনার দিক থেকে এছবি ভারি দূর্বল! অনেক বেশি সামঞ্জস্যহীন, অগোছালো।

অভিনয়ে এছবিতে সবচেয়ে বেশি স্ক্রিণটাইম পেয়েছেন ফেরদৌস, ছবির গল্পও অনেকখানি তার ওপর ফোকাস করা। ডিজিটাল যুগে এসে ফেরদৌস নায়ক চরিত্রের পাশাপাশি এন্টি হিরো কিংবা ভিলেনের রোল হরহামেশাই করছেন, কিন্তু “লিডার” ছবিতে তাকে এক ভিন্নরকম চরিত্রে পেলাম। ‘বদরুল’ নামক এই চরিত্রটিতে তিনি যে অভিনয়, এক্সপ্রেশন, অ্যাটিচিউট, বডি ল্যাংগুয়েজ দেখিয়েছেন। তার এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারের কোনো ছবিতে এতটা ভিন্নতা পাইনি। ভিন্নরকম কাজ হিসেবে এচরিত্রটির আলাদা কদর প্রাপ্য।

সত্যি কথা বলতে, শিউলি চরিত্রে থাকা মৌসুমী বড়পর্দার তুলনায় ছবির পোস্টারগুলোতে বেশি জায়গা পেয়েছেন। তার এন্ট্রিতে হলে থাকা গুটিকয়েক দর্শক শিষ মেরেছেন, হাততালি দিয়েছেন। মনে হচ্ছিল, এই হাতেগোনা কিছু দর্শক হয়তো মৌসুমীর অভিনয় দেখার জন্যই আগ্রহ নিয়ে হলে এসেছেন। তবে চরিত্রের দৈর্ঘ্য কম হওয়ায় অভিনয় দেখানোর সুযোগ তেমন একটা পাননি। তবুও সন্তোষজনক অভিনয়দক্ষতা দেখিয়েছেন।

পুলিশ ইন্সপেক্টর ওমর সানীর পর্দায় ব্যপ্তি আরো কম। অবশ্য ধর-পাকড়ের কাজ ছাড়া গল্পে তার চরিত্রটির আলাদাভাবে তেমন কিছু করার ছিল না। এছবিতে তাকে বেশ চিকন দেখাচ্ছে। ফিটনেস ঠিকঠাক থাকায় পুলিশ অফিসারের চরিত্রে তাকে বেমানান লাগেনি। হিরোইজম দেখানোর পাশাপাশি অভিনয়টাও ভালো করেছেন। তার এবং ফেরদৌসের একসাথে পর্দায় থাকা সিনগুলো ছবির উত্তেজনা বাড়িয়েছে। তাদের মধ্যকার পুলিশ-সন্ত্রাসী দ্বন্দ্ব সীমিত সময়ের জন্য বেশ জমে উঠেছিল।

ছবিতে সৌরভ নামে নতুন একটি ছেলেকে অভিনয় করতে দেখলাম, ছোট হলেও তার চরিত্রটি এছবিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ক্লাইম্যাক্সের শেষ টুইস্টটি তো তিনিই দিলেন। তবে ‘মাশাআল্লাহ’ গানের মাধ্যমে পর্দায় তার হুট করে এন্ট্রি মারাত্মক বেমানান ছিল।

নিঝুম রুবিনার চরিত্রটিও অনেকটা সৌরভের মতো, ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। তবে চরিত্রে তার ডায়ালগ ডেলিভারি কম। খুশি হোক, দুঃখ হোক, অবাক হোক, ভয় পাওয়া হোক, সকল ক্ষেত্রে তার ওই চোখ বড়বড় করে এক্সপ্রেশন দেওয়া আমার একদমই পছন্দ হয়নি।

শহীদুল আলম সাচ্চু, সোহেল খান, আহমেদ শরীফ এবং নাদের চৌধুরী, এই চারজনকে নেতা হিসেবে আলাদা আলাদা চরিত্রে পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সোহেল খান এবং আহমেদ শরীফ কে অনেকদিন পর বড়পর্দায় দেখলাম। আহমেদ শরীফের এন্ট্রিতেও গুটিকয়েক দর্শক গলার আওয়াজ তুলেছেন। বোঝা যাচ্ছিল দর্শক সেই নব্বই দশকের আহমেদ শরীফকে এখনো মনে রেখেছেন।

এর পাশাপাশি মরহুম সিরাজ হায়দারকেও দেখে ভালোলাগলো। বরাবরের মতো এবারও তিনি ‘পুলিশ ইন্সপেক্টর স্পেশালিস্ট’! এখন হয়তো আমাদের কাছে বিষয়টা একঘেয়েমি লাগছে, তবে এটি আর বেশিদিন থাকবে না। খুব শীঘ্রই আমরা তাকে মিস করতে শুরু করবো।

এ অংশ পাবে ১০০ তে ৬০।

  • কারিগরি

এছবিটির কাজ শুরু হয় প্রায় ৬ বছর আগে, ২০১৩ সালে। যদি ৬ বছর আগের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করি, তবে সে অনুসারে বলা যায় এছবির কারিগরি দিকটি এক ধরনের এক্সপেরিমেন্ট। সিনেমাটোগ্রাফি, সাউন্ড ডিজাইনিং, এডিটিংসহ সব জায়গাতেই পরীক্ষা-নিরিক্ষা চালানো হয়েছে। কিন্তু যদি আমরা ২০১৯ এ দাড়িয়ে এছবিটি দেখি, তাহলে এছবির কারিগরি দৈন্যতা খুবই প্রকট!

এছবির প্রায় ৯৯% শট অর্থাৎ সিনেমাটোগ্রাফ দেখানো হয়েছে হ্যান্ডিক্যামের মাধ্যমে। যার ফলে ছবির পুরো ক্যানভাসটিই ছিল কাপাকাপি তে ভরা। অনেকে হয়তো আমার সাথে দ্বিমত পোষণ করবে, তাদের মতে এই হ্যান্ডিক্যাম দিয়ে শ্যুটের মধ্যেও আলাদা শিল্প/সৌন্দর্য চর্চা রয়েছে। পরিচালক মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী এমন শট হরহামেশাই ব্যবহার করেন। সেক্ষেত্রে আমি বলবো, দর্শক হিসেবে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য কিংবা প্রামাণ্যচিত্রের ক্ষেত্রেই এমন সিনেমাটোগ্রাফি আশা করা যায়। কখনোই দুই/আড়াই ঘণ্টার পূর্নদৈর্ঘ্য ছবির ক্ষেত্রে না। চোখের জন্য সেটা অন্তত পীড়াদায়ক, যেমনটা আজ হলো।

ছবির ডাবিংয়ে মহামারী আকারের সমস্যা আছে। বস্তুত, আদৌ এছবির ডাবিং হয়েছে কিনা তা সঠিক বুঝতে পারিনি। খুব সম্ভবত সবার ন্যাচারাল ভয়েসটাই রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু দিনশেষে যদি আশপাশের আওয়াজের কারণে আপনি ডায়ালগ-ই ঠিকঠাক শুনতে না পান, সবাক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বানিয়ে কি লাভ?

ছবির প্রথমার্ধে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের কাজ দারুণ হয়েছে। গল্পের মধ্যে আলাদা জোশ আনছিল ছবির মিউজিক। কিন্তু দ্বিতৗয়ার্ধে এটিও খেই হারিয়ে ফেললো, একই মিউজিক বারবার পুনরাবৃত্তি হয়েছে এই সময়টাতে। আর ছবির ক্লাইম্যাক্সে এসে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবে রবীন্দ্রসংগীতের ব্যবহার চরম বাজে নিরিক্ষা ছিল। ঐরকম সিচ্যুয়েশনের সাথে আর যাই হোক, কোনভাবেই রবীন্দ্রসঙ্গীত যায়না।

সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা হলো এছবির সম্পাদনা অর্থাৎ, এডিটিং। এমন নিম্নমানের এডিট আজকাল এফডিসির স্বল্পবাজেটের ছবিতেও তেমন চোখে পড়ে না। সিনেমাটোগ্রাফি, ডাবিং এবং বিজিএম এ যে সৌন্দর্য উঁকি মারছিল, সম্পাদনার কাজ সেটা নিভিয়ে দিয়েছে। সম্পাদনার ক্ষেত্রে এখানে একটা ডার্ক টোন রাখা উচিত ছিল।

পুরো ছবিটি বাংলাদেশের ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশালসহ বিভিন্ন জায়গায় শ্যুট করা হয়েছে। লোকেশনের ক্ষেত্রে কয়েকটা জায়গায় টিম ‘লিডার’-এর সাহসিকতা বেশ চোখে লেগেছে। যেমনঃ জর্জকোটের ছাদে উঠে শ্যুট করা কিংবা গণভবনের আশেপাশের রেস্ট্রিকটেড রাস্তায় শ্যুট করা। এসব জায়গায় প্রবেশ সাধারণের জন্য নিষিদ্ধ। সেসব জায়গা ক্যামেরাবন্দী হয়েছে দেখে ভালোলাগলো।

এ অংশ পাবে ১০০ তে পাবে ৫।

  • বিনোদন এবং সামাজিক বার্তা

কাহিনীর আখ্যান শৈলী সুন্দর হওয়ায় ছবির গল্প শুরুর দিকে যথেষ্ট উপভোগ্য ছিল। ওমর সানী-ফেরদৌস দ্বন্দ্ব, ফেরদৌস অর্থাৎ বদরুল এবং তার বাহিনীর কার্যক্রম, বড় বড় নেতাদেরকে বিভিন্ন কৌশলে আপন করে নেওয়া, কেউ অপমান করলে তাকে ছাড় না দেওয়া, সাথে উত্তেজনা জাগানো ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। সবমিলিয়ে ছবির প্রথমার্ধ মোটামুটি উপভোগ্য।

ছবির দ্বিতৗয়ার্ধে বিনোদনের তুলনায় সামাজিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা ছিল বেশি। এছবির মাধ্যমে তরুণ সমাজকে মাদক থেকে নিজেদের বিরত রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাদকদ্রব্য হয়তো সাময়িক আনন্দ দেয়, কিন্তু জীবনের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতিসাধন করে। সেইসাথে বলা হয়েছে, সৎচরিত্র বুকে ধারণ করে মানুষের ভালো চিন্তা করাই প্রকৃত লিডারের বৈশিষ্ট্য।

ছবিতে মোট গান রয়েছে পাঁচটি। তবে কোনো গানই ছবিতে সম্পূর্ণ ব্যবহৃত হয়নি। গল্পের প্রয়োজনে খণ্ডাকারে গানগুলো এসেছে। গানগুলি গল্পের সাথে মানানসই হওয়ায় শুনতে খারাপ লাগেনি।

এ অংশ পাবে ১০০ তে পাবে ৫০।

  • ছবিটি কেন দেখবেন

মৌসুমী এবং ওমর সানীর অন্ধভক্তরা চাইলে ছবিটি একবার দেখে আসতে পারেন। ফেরদৌস ভক্তদের এছবি অনেক ভালোলাগবে। এছবি বারবার দেখার মতো না হলেও, একবার অন্তত দেখাই যায়।

  • একনজরে

জনরা: ক্রাইম পলিটিক্যাল থ্রিলার

পরিচালক: দিলশাদুল হক শিমুল

প্রযোজনা: স্টুডিও অফ সিক্সথ সেন্স

অভিনয়ঃ ফেরদৌস (বদরুল), মৌসুমী (শিউলি আখতার নাদিয়া), ওমর সানী (পুলিশ ইন্সপেক্টর), নিঝুম রুবিনা (মিতা), সৌরভ (মিতা’র প্রেমিক), শহীদুল আলম সাচ্চু (নেতা), আহমেদ শরীফ (শরীফ ভাই), সোহেল খান (আসলাম), সিরাজ হায়দার (পুলিশ ইন্সপেক্টর) নাদের চৌধুরী (বিশেষ চরিত্র), বাপ্পারাজ (অতিথি চরিত্র) প্রমুখ।

https://www.mega888cuci.com