খুন আর বল টেম্পারিং এক নয়!

আমাদের দেশে খুন-খারাবি বা বড় ধরণের মামলার আসামীর ক্ষেত্রে এমন দেখা যায়। আদালত থেকে বের হওয়ার সময় চারপাশে ঘিরে থাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। কোনো রকমে তাকে ঘিরে দ্রুত পায়ে ঢুকে যায় পুলিশের ভ্যানে।

তবে, কোনো স্বনামধন্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে এমন কখনো হয়নি। ক্রিকেটার তো দূরের কথা। পার্শবর্তী দেশ ভারত, বা গোটা উপমহাদেশেও ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। এই যে ভারতের সাবেক অধিনায়ক আজহারউদ্দিন আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ হলেন, তাঁর ক্ষেত্রে এমন হয়নি। বরং তিনি বীরদর্পে হাত নাড়তে নাড়তে বের হয়েছেন। হয়নি অজয় জাদেজা, শ্রীশান্থ বা মনোজ প্রভাকরদের ক্ষেত্রেও।

পাকিস্তানে ফিক্সিং কিংবা স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে নিষিদ্ধ হওয়ার অনেক নজীর আছে। সেলিম মালিক কিংবা আতাউর রহমানরা আজীবন নিষিদ্ধ হয়েছেন বটে, কিন্তু এমন টানাহেঁচড়ার মধ্যে পড়েননি। স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য মোহাম্মদ আমির, সালমান বাট, মোহাম্মদ আসিফদের জেলও পর্যন্ত খাটতে হয়েছেন, কিন্তু তাদের এমন ছবি বা ভিডিও কখনো দেখা যায়নি।

দক্ষিণ আফ্রিকার দৃশ্যটাও একই রকম। সাবেক কিংবদন্তি অধিনায়ক হ্যান্সি ক্রনিয়ে আজীবন নিষিদ্ধ হলেও দক্ষিণ আফ্রিকানরা তাঁকে কখনো ঘৃণার চোখেই দেখতে পারেননি। অথচ, সেই দক্ষিণ আফ্রিকাতেই এবার তেমনই এক যাচ্ছেতাই দৃশ্যের দেখা মিললো।

আর সেটার শিকার হলেন স্টিভেন স্মিথ। স্টিভেন স্মিথ যে বল টেম্পারিংয়ের সাথে জড়িত ছিলেন, সেটা তার স্বীকারোক্তিতেই প্রমাণিত। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) অনুসন্ধান করে দেখেছে বল টেম্পারিংয়ের মূল হোতা ডেভিড ওয়ার্নার। তিনি ক্যামেরন ব্যানক্রফটকে নিয়ে পরিকল্পনা করেছেন, স্মিথ তাতে সায় দিয়েছেন।

এদিক থেকে স্টিভেন স্মিথ নি:সন্দেহে দোষী। একই সাথে এটাও সত্যি যে, বল টেম্পারিংয়ের সাজা মোটে পাঁচ রান কর্তন। সেখান থেকে এগিয়ে গিয়ে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি এই সদ্য সাবেক হয়ে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ককে এক টেস্টের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল। আর সিএ আরেক ধাপ এগিয়ে, নিজেদের সম্মান ধরে রাখতেই কি না এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে দিল স্টিভেন স্মিথকে।

সাম্প্রতিক সময়ে সামান্য ফর্মহীনতায় ভুগলেও বলে দেওয়া যায় নি:সন্দেহে ব্যাটসম্যান হিসেবে স্মিথ সময়ের সেরাদের একজন। তাঁকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করাটাই বরং ‘অতিরঞ্জিত’ শাস্তি। এরপর আবার তাঁকে জোহানেসবার্গের বিমানবন্দরে এমন পুলিশ দিয়ে টানাহেচড়া করা কেন।

অনেকে হয়তো যুক্তি দেবেন, নিরাপত্তার স্বার্থেই এমন করা হয়েছে। আচ্ছা এই নিরাপত্তা কাদের থেকে? মিডিয়া বা সমর্থক? ওদের তো চাইলেই বিমানবন্দরে বা টিম হোটেলে ঢোকা নিষিদ্ধ করে দেওয়া যেতো। তাহলে কাদের? নাশকতার ভয়? তাই যদি হয় স্মিথের শরীরে বুলেট প্রুফ জ্যাকেট থাকবে না কেন!

হয়তো দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার বা ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকার (সিএসএ) কাছে এর চেয়েও বড় কোনো যুক্তি থাকবে। তারপরও এই দৃশ্যের ভিডিও দেখাটা একজন ক্রিকেট ভক্তের কাছে দৃষ্টি সুখকর নয়। বল টেম্পারিং তো আর খুনের মত কোনো অপরাধ নয়।

বল টেম্পারিং ইস্যুতে গত ক’দিন ধরে অনেকেই একটা কথা বলে আসছেন যে, এই ঘটনায় আগামী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের ওপর, ক্রিকেট সমর্থকদের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে। স্মিথের সাথে এমন আচরণও কি একইরকম প্রভাব ফেলবে না?

https://www.mega888cuci.com