এক্সট্র্যাকশন-ব্যাচেলর পয়েন্ট ও দর্শকের ‘স্ট্যান্ডার্ড’

‘এক্সট্রাকশন’ নামে একটা সিনেমা নেটফ্লিক্সে এসছে। এরপর দিন কয়েক বাংলাদেশের মানুষজন’কে দেখলাম এই নিয়ে বিশাল মাতামাতি করছে।

আমি সত্যিই খুব অবাক হয়েছি এই ভেবে- এতো মানুষ ইংরেজি সিনেমা দেখে বাংলাদেশে! আমার সত্যি’ই জানা ছিল না!

এখন যেহেতু মাতামাতি খানিকটা কমেছে; তাই ভাবলাম এই নিয়ে লেখা যাক।

আগেই জানিয়ে রাখি- আমি সিনেমাটা দেখিনি। এই সিনেমা নিয়ে কোন কিছু লেখাও আমার উদ্দেশ্য না। আমি বরং আমাদের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেই থাকতে চাইছি।

১৭ বছর অর্থাৎ জীবনের প্রায় অর্ধেক ইউরোপের নানান দেশে থেকে আমি উপলব্ধি করেছি- যতই আমি নিজেকে ইউরোপিয়ান মনে করি; কোন ফায়দা নেই। আমি এক জীবনে কখনোই ইউরোপিয়ান হতে পারব না। আর ইউরোপিয়ানরাও কোন দিন আমাকে ওদের কাছের মানুষ মনে করবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াই আমি। আমি যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াই, সেখানে আমার মতো দেখতে, অর্থাৎ গায়ের রঙ কালো এমন সহকর্মী কেবল আমি একজন’ই। প্রতিনিয়ত বুঝতে পারি কিংবা আমাকে বুঝিয়ে দেয়া হয় – তুমি কিন্তু আমাদের মতো নও! সে আমি উঠতে-বসতে বুঝতে পারি!

যা হোক, সেটা ভিন্ন আলোচনা।

দিন কয়েক আগে গায়ক এবং অভিনেতা জন কবির তার এক ফেসবুক পেইজে স্ট্যাটাস দিয়েছে – ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট দেখা জাতি যখন এক্সট্রাকশন ভালো হয় নাই বলে স্ট্যাটাস দেয়!’

তিনি কেন এই স্ট্যাটাস দিয়েছেন; সেটা আমার পক্ষে জানা মোটেই সম্ভব না। আমি তাকে ভালো করে চিনিও না। তবে তার এই স্ট্যাটাস পড়ে ব্যাচেলর পয়েন্টের সকল সদস্যরা কষ্ট পেয়েছে সেটা বুঝতে পারছি।

অভিনেতা, নির্মাতা এবং ছোট ভাই পলাশকে যেহেতু আমি ব্যক্তিগত ভাবে চিনি এবং খুব ভালো করে জানি; তাই তাঁর ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে ব্যাপারটা জানতে পারলাম। সে জন কবিরের ওই স্ট্যাটাসের স্ক্রিন শট শেয়ার করে তার ক্ষোভ জানিয়ে লিখেছে – ‘এক্সট্রাকশন ভালো কিংবা খারাপ, সেটা মূল্যায়ন করতে গিয়ে কেন আপনি আমাদের দেশের একটি জনপ্রিয় সিরিজ’কে অবমূল্যায়ন করলেন?’

ওই স্ট্যাটাস দেখার পর আমি আসলে বোঝার চেষ্টা করেছি – ব্যাপারটা আসলে কি। যেহেতু আমি এক্সট্রাকশন মুভিটা দেখিনি এবং দেখার কোন ইচ্ছাও নেই; তাই অন্য যারা এই নিয়ে লিখছে; সেটা দেখে কিংবা পড়ে বোঝার চেষ্টা করছিলাম।

তবে পলাশের ওই স্ট্যাটাসে গিয়ে তাৎক্ষনিক ভাবেই জানিয়ে এসেছি – ‘তুমি কেন এতে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে? তার যা মনে হয়ছে, সে সেটা লিখেছে। যে কেউ, যে কোন মতামত প্রকাশ করার অধিকার রাখে। তবে, তার লেখা পড়ে তো পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে- সে ব্যাচেলর পয়েন্ট দেখে। নইলে মতামত দিলো কি করে? অর্থাৎ, তোমাদের নাটক কিন্তু সে উপেক্ষা করতে পারছে না!’

এখনেই মুল বিষয়টা আসলে।

যা হোক – একাত্তর টেলিভিশনের সঞ্চালক মিথিলা ফারজানার লেখা কিংবা অন্যান্য অনেকের লেখা পড়ে বুঝতে পারলাম- ইংরেজি ওই ছবিতে অল্প কিছু যেই বাংলা ভাষা ব্যাবহার করা হয়েছে, সেটা বাংলাদেশি বাংলার সাথে যায় না। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে তারা কি করে এমন ভাষা ব্যাবহার করলো; এই নিয়ে অনেকের মাঝে’ই এক ধরনের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

যে কেউ যে কোন প্রতিক্রিয়া রেখাতে পারে। মতামত প্রকাশ করতেই পারে। আমি অন্তত এই নিয়ে সমস্যা দেখতে পাচ্ছি না। মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা সবার’ই আছে। সেটা যদি গঠন মূলক হয়, তাহলে তো আরও ভালো।

আমার মনে আছে, বছর কয়েক আগে আমি সরোয়ার (ফারুকী) ভাইয়ের নাটকে ব্যাবহার করা ভাষা নিয়ে পত্রিকায় বেশ কয়েকটা কলাম লিখেছিলাম।

আপনাদের জানিয়ে রাখি সরোয়ার ভাই এবং আমি – আমরা একই এলাকার মানুষ। ঢাকার নাখাল পাড়ায় আমাদের পাশাপাশি বাসা। উনি আমাদের পাশের বাসার বাড়িওয়ালার ছেলে। খুব স্বাভাবিক ভাবে- উনাদের পরিবারের লোকজনদের যেমন আমরা চিনি; উনারাও আমাদের চেনেন। একদমই পাশাপাশি বাসা আমাদের।

আমি সমাজ বিজ্ঞানের ছাত্র এবং শিক্ষক। বছর পাঁচ কিংবা ছয়েক আগে আমি যা লিখেছিলাম সেটার মুল কথা দাঁড়ায়- উনি নাটকে যেই ভাষা ব্যাবহার করেন; সেটা আসলে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আমার বলার মুল বিষয় ছিল- যেই ভাষা ব্যাবহার করা হচ্ছে, সেটা করা যেতে’ই পারে। কিন্তু ওই ভাষাটাকে যেন আদর্শ ভাষা হিসেবে ব্যবহার করা না হয়।

সরোয়ার ভাইও লিখেই তার মতামত জানিয়েছিল। উনার ভাষ্য হচ্ছে – সমাজে যদি এমন ভাষা প্রচলিত থাকে; তাহলে সেটা দেখাতে ক্ষতি কি।

অনেক পরে এসে আমি আসলে নিজেই উপলব্ধি করতে পেরেছি – নাটক বা সিনেমা তো সমাজের প্রতিচ্ছবি। সমাজে যা যা ঘটে, তার সব কিছু’ই নাটক-সিনেমায় দেখানো যেতে পারে। এটাই স্বাভাবিক। বরং সেটা যদি না দেখানো হয় কিংবা কোথাও যদি জোর করে এইসব দেখানো বন্ধ করা হয়; সেটাই বরং খারাপ।

পলাশ এবং তাঁদের গ্রুপের সদস্যরা একটা নাটক বানিয়েছে। নাটকের নাম ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’! আমি যতটুকু বুঝতে পেরেছি- এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছেলেপেলেরা দেশের নানান জায়গা থেকে এসে ঢাকাতে একটা ব্যাচেলর ফ্ল্যাটে এক সঙ্গে থাকছে। সেখানে ঘটে যাওয়া তাঁদের ঘটনা কিংবা কাজ-কর্ম নিয়েই এই নাটক।

নাটকের প্রেক্ষাপটটাই তো ব্যাচেলরদের নিয়ে।

আমার মনে আছে আজ থেকে প্রায় ২৩ বছর আগে গত শতাব্দীতে আমি যখন ঢাকা থেকে সিলেটের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গেলাম ; তখন আমরা চার-পাঁচ জন ঢাকা থেকে যাওয়া বন্ধু-বান্ধবরা সিলেটের এয়ারপোর্ট রোডের মজুমদারি বা মজুমদারবাড়িতে একটা ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতাম। সেখানে আমারা বন্ধু বান্ধবরা যেই ভাষায় কথা বলতাম কিংবা যা যা চিন্তা করতাম- বিশ্বাস করেন; পলাশরা ওদের ব্যাচেলর পয়েন্ট নাটকে যা দেখায় তার চাইতেও অনেক বেশি এক্সট্রিম!

আমি নিজে ব্যক্তিগত ভাবে জীবনেও কোন দিন কোন প্রকার গালি ব্যাবহার করেছি বলে আমার অন্তত জানা নেই। আমার কাছের বন্ধু বান্ধবরাও সেটা বলতে পারবে না। এমনকি আমি জীবনে একটা সিগারেটও খাইনি। তার মানে তো এই না; আমার বন্ধু বান্ধবরা এইসব ভাষা ব্যবহার করতো না আমাদের ফ্রেন্ড সার্কেলে! অবশ্যই করতো। এবং খুব বেশিই করতো। শুধু কি সিগারেট! আরও কতো সব চিন্তা এসে আমাদের মাথায় ভর করতো!

আজ থেকে ২৩ বছর আগে সিলেটের মতো একটা শহরেই যদি আমরা এসব করে বেড়াতাম; অদ্ভুত সব ভাষায় কথা বলতাম; ২৩ বছর পরে এসে ঢাকার প্রেক্ষাপটে এখনকার ছেলেপেলেরা নিশ্চয় এই চাইতে অনেক বেশি’ই এইসব নিয়ে চিন্তা করবে, এটাই স্বাভাবিক।

তাহলে, নাটকে সেটা দেখাতে ক্ষতি কি?

ব্যাচেলর পয়েন্ট নাটকের নাম দেখেই তো বুঝে নেয়া যায় – এখানে ব্যাচেলরদের কাণ্ডকারখানা দেখানো হচ্ছে।

সেদিন গায়ক তাহসান লাইভে এসছে খুব ভালো একটা কারণে। করোনায় গরীব মানুষদের যাতে সাহায্য করা যায়, তাই তার গানের ক্যাসেট কিংবা সিডি নিলামে উঠিয়েছেন। তো লাইভে আলোচনা হচ্ছে- সেখানে জন কবিরও উপস্থিত হয়েছে। আমি ঠিক ওই মুহূর্তে নিউজ ২৪ এ লাইভ টকশো’তে কথা বলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি এই দুইজন লাইভে কথা বলছে। ভাবলাম একটু শুনি। তো তাহসান , জনকে জিজ্ঞেস করছে – তুই এই বাচ্চা বাচ্চা ছেলেদের পেছনে লাগলি কেন? এইসব স্ট্যাটাস দেয়ার দরকার কি?

এরপর জন বলছে – আরে আমি কি বুঝাইতে চাইছিলাম, তুই তো বুঝেছিস।

তাহসান বলছে – বুঝলাম তো। দরকার কি। তোর সমাচলনা করতে হয় তো আমাকে কর। একই লেভেলে সমালচনা কর। ওদের করার কি দরকার।

আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না। এই দুজন আসলে কি বোঝাতে চেয়েছে।

তাহসান কী বুঝাতে চাইছে – পলাশরা বাচ্চা তাই ওদের লেভেল আলাদা? নাকি পলাশদের লেভেল কিংবা স্ট্যান্ডার্ড খুব’ই নিচু প্রকৃতির? তাই সমালোচনা করতে হলে উঁচু লেভেলের, কিংবা একই লেভেলের (জন কিংবা তাহসানসম) সমালোচনা করা উচিত।

আমি সত্যিই বুঝতে পারিনি। তবে কেন যেন মনে হলো ব্যাচেলর পয়েন্ট কিংবা এর সদস্যদের খানিকটা খাটো করে দেখা হচ্ছে।

পলাশ এবং আমি; আমরা একই পরিবেশে বড় হয়েছি। পলাশরা আমাদের বাসার নিচ তলায় ভাড়া থাকতো। প্রায় ২২ বছর ওরা আমাদের ঢাকার বাসার নিচ তলায় ভাড়া থেকেছে। আমরা একই সঙ্গে বড় হয়েছি। একই পরিবেশে বড় হয়েছি। আমরা বাড়িওয়ালা ছিলাম। ওরা ভাড়াটে। কিন্তু সেটা কখনোই বুঝা যেত না। ও যেমন আমার পরিবারের সবাইকে চেনে-জানে। আমিও ঠিক তেমনি ওর বাবা-মা, বোন, মামাদের সবাইকে চিনি-জানি।

এইবার দেশে গিয়েও আমরা অনেকটা সময় এক সঙ্গে কাটিয়েছি। আমাকে যারা চেনেন কিংবা জানেন; তারা ভালো করেই জানেন – আমার খুব কাছের মানুষও যদি ভুল করে কিংবা এমন কিছু করে, যেটা সমালোচনার দাবী রাখে; আমি অতি অবশ্যই সমালোচনা করবো। এমনকি আমার সব চাইতে ভালোবাসার মানুষটাও যদি এমন কিছু করে; আমি সেটার সমালোচনা করবো। এবং আমি মনে করি – তারাও সেটা আমার বেলায় করতে পারে। মতামত প্রকাশ করার অধিকার সবার’ই আছে।

জন কবির কিংবা অন্যান্য যারাই নাটক কিংবা সিনেমা নিয়ে সমালোচনা করছে; সেটা তারা করতেই পারে। সেটা তাদের ব্যাপার। মতামত প্রকাশ করার অধিকার সবারই আছে।

পলাশ’কে ব্যক্তিগত ভাবে চিনি বলে নয়; আমি একদম নির্মোহ ভাবে দেখার চেষ্টা করেছি ব্যাচেলর পয়েন্ট। আমার মনে হয়েছে- নাটকটার মাঝে এক ধরনের আবেদন আছে। ওরা চমৎকার ভাবে ব্যাচেলর জীবনটাকে ফুটিয়ে তুলেছে। ভাষার ব্যাবহার কিংবা ঘন ঘন সিগারেট খাওয়া; এসব নিয়ে হয়ত সমালোচনা হচ্ছে। সেটা হতেই পারে। যে কোন কিছুর সমালোচনা হতেই পারে।

আমার বরং তাদের কাছে প্রশ্ন -আপনারা আপনাদের ফ্রেন্ড সার্কেলের সাথে আসলে কিভাবে কথা বলেন?

-আপনারা যখন হোস্টেলে ছিলেন কিংবা মেস বাড়িতে ব্যাচেলর ছিলেন; তখন আপনারা কোন বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা করতেন?

তো, এই বিষয় গুলো নাটকে দেখালে সমস্যা কোথায়?

বছর ছয় কিংবা সাত আগে আমি যখন সরোয়ার ভাই’র নাটকের ভাষা নিয়ে কলাম লিখেছিলাম, তখন আমার মনে হয়েছিলো- আমিই হয়ত ঠিক।

পরে আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। সমাজে যা যা ঘটে, যদি একটা ক্ষুদ্র বিষয়ও হয়; নাটক, সিনেমায় সেটা দেখানোর দাবী রাখে। নইলে বরং সমাজটা হিপোক্রেসিতে ভরে যায়। যেমনটা আমাদের সমাজে হচ্ছে।

আমরা ভাব করছি – সমাজকে কোথাও কোন অসঙ্গতি নেই। সব কিছুই খুব ভালো ভাবে চলছে। সবাই খুব নম্র-ভদ্র। কেউ গালি দেয় না। কেউ গালাগাল ব্যাবহার করে না। কেউ সিগারেট খায় না!

আসলে কি তাই?

পলাশ, তুমি আমাকে খুব ভালো করে চেন। আমি খুবই নরম স্বভাবের মানুষ। ছোট বেলা থেকে নিশ্চয় আমাকে এমন’ই দেখে এসছ। জীবনে কোন দিন একটা বাজে ভাষা আমার মুখ দিয়ে বের হয়নি। গালাগাল দেয়া কোন ভাষা আমি আমার চিন্তা’তেও আনি না। জীবনে কোন দিন সিগারেটও খাইনি। কিন্তু তাই বলে তো সমাজে এইসব নেই; সেটা বলা যাবে না। বন্ধুরা যখন আমরা এক হই, তখন সবাই তো এইসব ভাষাতেই কথা বলে, গান গায়, সিগারেট খায়; আরও কতো কি! পলাশ, তুমি কি আমাকে তোমাদের দলে নিবে?

না হয় নিজেকে ভাঙলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে আর ভালো লাগছে না। শিক্ষকতা-গবেষণা অনেক তো হলো। করোনা ভাইরাস এসে সব কিছু কেমন বদলে দিচ্ছে! এইবার না হয় তোমাদের দলে যোগ দিয়ে নিজেকে ভাঙবো। সমাজে যা প্রচলিত সেটা দেখাতে গিয়ে যদি সিগারেট খেতে হয়; তো সিগারেট খাব। যদি গাল দিতে হয়, সেটাই দিব। আমার অন্যদের মতো ‘স্ট্যান্ডার্ড’ কিংবা ‘লেভেলের’ দরকার নেই। যারা বাংলাদেশে থেকে নিজেদের ইউরোপিয়ান কিংবা আমেরিকান ভাবে, আমার তাদের জন্য করুণা হয়। আমি ১৭ বছর ইউরোপে থেকেও ইউরোপিয়ান হতে পারলাম না!

নেবে আমাকে তোমাদের দলে?

https://www.mega888cuci.com