আরিফিন শুভ’র সেরা ৫

২০১৮ সালটা ছিল আরিফিন শুভ’র ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে সময়। দু’টি ছবি মুক্তি পেলেও কোনোটিই ২০/২৫ দিনের বেশি হলে চলেনি। আশা করি তিনি ২০১৯ সালে এসে ঘুরে দাঁড়াবেন, তার ব্যবসাসফল ছবি এ ইন্ডাস্ট্রিকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে। আমাদের এবারের আয়োজন শুভ’র ক্যারিয়ারের সেরা পাঁচ ছবি নিয়ে। আশা করি, সামনে এই তালিকাটা আরো লম্বা হবে।

  • কিস্তিমাত (২০১৪)

ছবিটি পবিত্র ঈদ উল আযহায় মুক্তি পায়। আশিকুর রহমান পরিচালিত অ্যাকশন-কমেডি জনরার এছবিটি এক‌টি দিক থেকে অনন্য হয়ে থাকবে। বাংলাদেশী ছবিতে প্রথমবারের মতো ড্রোন ক্যামেরার ব্যবহার শুরু হয় এ ছবির মাধ্যমে। ছবিতে আরিফিন শুভ, আঁচল আখি, মিশা সওদাগর, টাইগার রবিসহ আরো অনেকে ছিলেন।

ছবির প্রথমার্ধ কিছুটা তেলেগু ছবি ‘গাব্বার সিং’ থেকে ইন্সপায়ার্ড, যদিও ঐ ছবিটিও শতভাগ মৌলিক না। এটা নিয়ে অবশ্য পরবর্তীতে আশিকুর রহমান সরাসরি দুঃখ প্রকাশ করেন, তিনি তখন বুঝতে পারেননি যে গল্পকার তাঁকে নকল গল্প ধরিয়েছেন। ঈদে শাকিব খানের ৩ ছবির সাথে ক্ল্যাশে পড়ায় শুরুর দিকে তেমন সুবিধা করতে পারেনি, তবে আশিকুর রহমানের স্মার্ট মেকিং এর কারণে ধীরে ধীরে ছবিটির হাইপ তৈরী হয় এবং ব্যবসাসফল হয়।

  • নিয়তি (২০১৬)

রোম্যান্টিক-ড্রামা জনরার এছবিতে আরিফিন শুভ এবং ফাল্গুনী জলি দুজনই বেশ ভালো অভিনয় করেছেন; তবে সাপোর্টিং কাস্টদের দূর্বল অভিনয় হতাশাজনক। জাজ মাল্টিমিডিয়া এবং এসকে মুভিজ প্রযোজিত এছবিটি পরিচালনা করেছেন জাকির হোসেন রাজু। ছবিটি ‘দ্য নোটবুক’ নামক এক জনপ্রিয় উপন্যাস অবলম্বনে তৈরী। একই উপন্যাস অবলম্বনে এর আগে ইংরেজী এবং হিন্দি ছবিও হয়েছে। ছবিটি ১২ আগস্ট, ২০১৬ সালে মুক্তি পায় এবং অ্যাভারেজ ব্যবসা করে।

  • মুসাফির (২০১৬)

এটিও পরিচালনা করেছেন আশিকুর রহমান; আমার দেখা অন্যতম সেরা বাংলা এ্যাকশন-থ্রিলার ছবি। ছবিতে আরিফিন শুভ দারুণ পারফরমেন্স দিয়েছেন, তাঁর মানানসই বডি ফিটনেস ছবিটিকে আরো আকর্ষণীয় করেছে। এছাড়া আশিকুর রহমান এবং তার টিমের কারিগরি দিক থেকে আরো বেশি পরিণত মেকিং পাওয়া গেছে। ছবির অন্যতম দূর্বল দিক ছিল নবাগতা মারজান জেনিফার অভিনয়। এছাড়াও ছবিতে অভিনয় করেছেন প্রসুন আজাদ, মিশা সওদাগর, টাইগার রবি, মাসুম পারভেজ রুবেল, শিমুল খান, সিন্ডি রোলিংসহ আরো অনেকে। ছবিটি ২২ এপ্রিল, ২০১৬ সালে মুক্তি পায় এবং এভারেজ ব্যবসা করে। তবে ছবিটি যদি মুক্তির দ্বিতীয় দিনেই পাইরেসি না হতো, তবে আমার মতে ছবিটি ব্যবসাসফল হতে পারতো।

  • ছুঁয়ে দিলে মন (২০১৫)

ছোটপর্দার জনপ্রিয় পরিচালক শিহাব শাহীনের প্রথম ছবি এটি। ছবির গল্পটি দারুণ, রম-কম জনরার জন্য পারফেক্ট। সাথে ছিল সিলেটের নৈসর্গিক সৌন্দর্য! ‘তবে ভালোবাসা দাও’ কিংবা ‘শুন্য থেকে আসে’ গান দু’টি এখনো বেশ জনপ্রিয়। ছবিতে মিশা সওদাগর এবং ইরেশ যাকেরের পারফরমেন্স আমাকে রীতিমতো চমকে দিয়েছে। আরো অভিনয় করেছেন জাকিয়া বারি মম, আলীরাজ, সুষমা সরকারসহ আরো অনেকে। ছবিটি মুক্তি পায় ৪ এপ্রিল, ২০১৫ সালে এবং ব্যবসাসফল হয়।

  • ঢাকা অ্যাটাক (২০১৭)

ছবিটি মুক্তির আগেই ভিন্নধর্মী প্রমোশনের কারণে সবার নজর কেড়েছিল। অনেক বেশি হাইপ ছিল ছবিটি নিয়ে, ট্রেইলারেও আভাস পাওয়া গিয়েছিল দারুণ কিছু হবে। ছবিটি প্রথম দিন দেখার জন্য শ্যামলী হলে আমার দু’দিন আগে থেকে টিকেট বুক করতে হয়েছিল, এখনো স্পষ্ট মনে আছে। ৬ অক্টোবর, ২০১৭ সালে ছবিটি মুক্তি পায়। অ্যাকশন-থ্রিলার জনরার এছবিটি পরিচালনা করেছেন দীপংকর দীপন, যিনি এর আগে ভারতের জনপ্রিয় পরিচালক অনুরাগ কশ্যপের সাথে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন।

ছবিতে আরিফিন শুভ, এবিএম সুমন, শতাব্দী ওয়াদুদ এবং কাজী নওশাবা আহমেদ দূর্দান্ত পারফরমেন্স দিয়েছেন; মাহিয়া মাহী যে ক্যারেক্টারটি প্লে করেছিলেন সেটা নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়েছিল, অনেকের মতে চরিত্রটি ঠিকঠাকভাবে লেখা হয়নি। তবে আসল ধামাকাটি দিয়েছেন এ ছবির ভিলেন তাসকিন রহমান। এছবির মাধ্যমে আমরা এক ভিন্নধর্মী স্মার্ট ভিলেন কে খুজেঁ পাই, যার মধ্যে ভিলেনের পাশাপাশি নায়কোচিত ভাবটিও থাকবে। ছবিটি নুক্তির পর টানা ১০০ দিনেরও বেশি চলেছে এবং ব্লকবাস্টার হয়।

আরিফিন শুভ’র সেরা ছবির তালিকা করলে এতে কারো কারো বিবেচনায় ‘অস্তিত্ব’ কিংবা ‘তারকাটা’ও জায়গা করে নিতে পারে।

https://www.mega888cuci.com