অমিতাভ বচ্চন যেন লখনৌ’র সুগন্ধী বিরিয়ানি!

সদ্য মুক্তি পাওয়া বলিউড ছবি ঝাঁ-চকচকে প্রিন্টে বাংলাদেশে বসে দেখে ফেলা ক’দিন আগেও ছিল অসম্ভব। এখন ওটিটি প্ল্যাটফরমের যুগে অবশ্য এসব অপেক্ষার বালাই অনেকটাই কমে এসেছে। আর লকডাউন কালে বিনোদনজগতটাই এখন অনেকটা অনলাইনভিত্তিক হয়ে গেছে। সেই সুবাদে মুক্তি সাথে সাথেই অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর সুবাদে ‘গুলাবো সিতাবো’ দেখে ফেলা গেল।

ছবিটা খুবই মিষ্টি। সুন্দর একটা সময় কাটানোর জন্য দারুণ একটা ছবি। খুব দর্শনীয় ছবি, দর্শক মাত্রই এর প্রতিটা ফ্রেম দেখে মুগ্ধ হবেন। ছবির ধরণের সাথে মিল রেখে কি তুখোড় কালার গ্রেডিংয়েও শতভাগ নম্বর পেয়ে গেছেন নির্মাতারা। সিনেম্যাটোগ্রাফি, স্টোরিটেলিং, সেট – সব মিলিয়ে দর্শক মনোরম এক ভাল লাগায় ভাসবেন ছবিটি দেখে।

তবে, এত কিছুর পরও এটা পুরোপুরি অমিতাভ বচ্চনের ছবি। লোভী মির্জার চরিত্রে তিনি অবিশ্বাস্য অভিনয় করেছেন। ছবিতে মির্জার বয়স ৭৮। বাস্তবে অমিতাভের বয়সও তেমনই। তার ওপর মুখের ওপর ভারি মেক আপ লাগিয়েছেন। এত কিছুর পরও তিনি নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অভিনয়টাই করেছেন সুজিত সরকারের নির্দেশনায়।

ক্যারিয়ারের প্রথম যুগে অমিতাভ বচ্চন নির্দিষ্ট একটা ঘরানার নায়ক হিসেবেই জনপ্রিয় ছিলেন। তিনি ছিলেন মূলত অ্যাঙরি হিরো। এটাই ছিল অমিতাভের সেলিং পয়েন্ট। যদিও, কালক্রমে বুড়ো বেলায় নিজের সেই পরিচয়ের পুরোটাই ভেঙে ফেলেছেন তিনি। বরং এখন তিনি আগের চেয়ে অনেক বেশি সব্যসাচি।

লখনৌর পুরনো এক প্রাসাদ (হাভেলি) ‘ফাতিমা মহল’-এ আবর্তিত হয়েছে ছবির গল্প। ফাতিমা মহলের ফাতিমা ওরফে বেগমের স্বামী হলেন এই মির্জা। মির্জা তাঁর স্ত্রী’র চেয়ে ১৫ বছরের ছোট। বিরাট এক প্রাসাদের মালিকানা পাওয়ার জন্য নানারকম ছলচাতুরি করেন মির্জা। আর সেসব আটকাতে সদা ব্যস্ত থাকেন বাঙকে-সহ বাড়ির বাকি ভাড়াটেরা।

ছবিতে সময়ের অন্যতম সেরা অভিনেতা আয়ুষ্মান খোড়ানার সাথে প্রথমবারের মত জুটি বেঁধেছেন অমিতাভ। বাঙকে’র চরিত্রটা করেছেন আয়ুষ্মান। তবে, দু’জনের অভিজ্ঞতার পার্থক্যটা ছিল পরিস্কার। অমিতাভ ও আয়ুষ্মান – এই দারুণ দুই অভিনেতার মধ্যকার অদৃশ্য যুদ্ধটা বিগ বি-ই জিতে গেছেন।

সেই তুলনায় আয়ুষ্মানকে বরং সহকারী অভিনেতা মনে হয়েছে। যদি বলি, অমিতাভ ছিলেন লখনৌ’র সুগন্ধী বিরিয়ানি, তবে বলতেই আয়ুষ্মান ছিলেন স্রেফ সালাদ। এটাও ঠিক যে, চরিত্র ও গল্পের স্বার্থেই বড় কিছু করার সুযোগ আয়ুষ্মানের ছিল না।

ছবির সহকারী চরিত্রগুলো বেশ মানানসই ছিল। সবাই প্লটের প্রয়োজনটা বুঝে নিয়ে নিজেদের সেরা কাজটা করেছেন। বিজয় রাজ, বৃজেন্দ্র কালা কিংবা সৃষ্টি শ্রীবাস্তবরা পাশ মার্ক পেয়েছেন। তবে, সকল আলোটা কেড়েছেন অমিতাভ। এমনি এমনি তো আর তিনি বলিউডের শাহেনশাহ বনে যাননি।

https://www.mega888cuci.com