পুরনো বলিউড পোস্টারের স্বর্গরাজ্য

‘সে কি! আপনি ভি.সাথারামকে চেনেন!’ উচ্ছ্বাসভরা কণ্ঠ নিয়ে বলে উঠলো ক্ষুদে গড়নের খলিম। দোকানের অপরারেটর। বয়স ১৪-১৫ হবে। ‘সে কি দারুণ এক ব্যক্তিত্ব!’ হাত নেড়ে বললো, ‘আপনার ওর ছবিগুলো দেখা উচিৎ।’

এই বলে দৌঁড়ে গেল। এক গাদা পোস্টারের স্তুপ থেকে চারটা টেনে বের করলো। ‘এগুলো কিনে ফেলুন, দারুণ কালেকশন।’

হ্যা সত্যিই পোস্টারটা অসাধারণ। লেখা ছিল – ‘দো আঁখে, বারাহ হাত’। এটাই প্রথম ভারতীয় সিনেমা হিসেবে পরিচিতি পায় গোল্ডেন গ্লোবে।

খলিম বুঝলো, খদ্দেরের পোস্টারটা পছন্ হয়েছে। তখন সে আরকেটা বের করে দেখালো, ‘এটাও হয়তো আপনার পছন্দ হবে!’

হ্যা সে ঠিকই বলছে। ১৯৮৩ সালের বলিউড থ্রিলার ‘কওন? ক্যায়সে’।

‘তোমাদের কাছে ববির কোনো পোস্টার নেই?’ খদ্দেরের জিজ্ঞাসা। বলি হল ঋষি কাপুরের বলিউড কাঁপানো সিনেমা। সেই পোস্টার খলিমের কাছে থাকবে না, তা কি হয়। খলিমের মুখে তাই হাসি। মিনিট খানেকের মধ্যে সেই ছবির পোস্টারও বের করে দিল।

‘এগুলোর দাম কেমন?’, খদ্দের জানতে চাইলো। অধিকাংশের দাম ৩০০ রুপির মত। এগুলো আসে নানা রকম প্রিন্টার্স ও স্টুডিও’র ওয়ারহাউজ থেকে।

‘আচ্ছা অমিতাভ বচ্চনের কি খবর? ওর কিছু নেই?’ এটা বলেই যেন ওই ক্রেতা রীতিমত বোকা বনে গেলেন। অমিতাভের পোস্টার নেওয়ার জন্য খলিম যেন রীতিমত বান্ডিল খুলে বসলো। কি নেই সেখানে। ১৯৭১ সালের ‘সংযোগ’ কিংবা ‘ডন’। আবার মোটা চশমা চোখে, নেহেরু জ্যাকেটের বিগ বি’কেও দেখা যাবে!

ডনের পোস্টারটা আড়াইশো রূপির মত দাম। খদ্দের এবার আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না। কিনে ফেললেন পুরনো এই পোস্টার।

এই বিবরণ শুনে জায়গাটা কোথায়, সেটা জানার নিশ্চয়ই আগ্রহ হচ্ছে পাঠকদের। পোস্টারের এই দোকানগুলো (একটা নয় দু’টো দোকান) হল মুম্বাইয়ের চোর বাজারের মাটন স্ট্রিট বলতে এক জায়গায়। সেখানে দিস্তার পর দিস্তা পুরনো পোস্টার জমা করা আছে। সেই পোস্টারের বান্ডিল প্রায় ছয় ফুট লম্বা।

পোস্টারের এই দোকানটা রীতিমত একটা গুপ্তধনের মত। কি নেই সেখানে! হাতে রং করা পোস্টে, লবি কার্ড, ছবি সব আছে। আছে আমেরিকান ছবির ভারতীয় পোস্টারও। আছে ভিনদেশি বেশ অনেক সিনেমার পোস্টার। এমনকি চার্লি চ্যাপলিনের ভারতীয় পোস্টারও চোখে পড়লো।

এখানে গেলে একেবারে খালি হাতে ফেরা মুশকিল। দোকান দু’টোর পুরো ঠিকানা – পোস্টার স্টাফ, ১১৩ মাটন স্ট্রিট, মুম্বাই ও এ-১ কর্ণার, ৯৯ মাটন স্ট্রিট, মুম্বাই। সিনেমাপ্রেমীরা মুম্বাই গেলে এই দোকান দু’টোতে অবশ্যই ঢুঁ মারবেন!

– এশিয়া অবসিকিউরা লবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।