আলিস ইন ক্রিকেট ওয়ান্ডারল্যান্ড

‘হ্যাটট্রিক করা যায় না, হয়ে যায় ভাই’ – সংবাদ সম্মেলনে এসেই বললেন। চমকে দেওয়ার মত একটা কথা। আসলে এর চেয়ে বেশি কিই বা বলতে পারেন আলিস আল ইসলাম। তাঁর জন্য এই হ্যাটট্রিকটা যে রূপকথার চেয়েও বেশি রোমাঞ্চকর।

আলিস আল ইসলাম আসলে কে? – ম্যাচ শুরু হওয়ার পর দেশের ক্রিকেট সমর্থকরা তো বটেই ক্রিকেট সাংবাদিকদের কাছেও এই নামটা ছিল অপরিচিত। বাংলা আর ইংরেজিতে গুগল করে কিছুর ছবি-স্ট্যাটহীন প্রোফাইল বাদে আর কিছু আসলো না। ম্যাচ শেষে এখন একই গুগল সার্চে শত শত লিংক আর তথ্যের ভাণ্ডার।

জীবন এভাবেই পাল্টে যায়। রূপকথার গল্পতেও এত সহজে জীবন পাল্টায় না!

এর আগে আলিসের জীবনের সর্বোচ্চ ক্রিকেট অভিজ্ঞতা হল প্রথম বিভাগ ক্রিকেট। সেখান থেকে সুযোগ মিলেছিল ঢাকা ডায়নামাইটসের নেটে। ওই নেটে দেখেই প্রথম ডান হাতি এই অফস্পিনারকে পছন্দ হয় ঢাকার কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনের। এরপর থেকে তিনি আছেন দলের সাথেই।

প্রথম বিভাগের ক্রিকেট থেকে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) – পার্থক্যটা আকাশ আর পাতালের। হঠাৎ করে নেমে ২৬ হাজার দর্শক পূর্ণ গ্যালারিতে তুখোড় পারফরম্যান্স করা সহজ ব্যাপার নয়। সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করেছেন আলিস।

আবার গেল বারের চ্যাম্পিয়ন ফেবারিট রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে। সেখানে শুধু নিজেকে প্রমাণই নয়, রীতিমত হ্যাটট্রিক করে বসেছেন অ্যালিস ইসলাম| অভিষেক টি-টোয়েন্টিতেই হ্যাটট্রিকের নজীর বিপিএলে তো বটেই, ক্রিকেটের ইতিহাসেই আর দ্বিতীয়টি নেই। চার ওভারে ২৬ রান দিয়ে পেয়েছেন চার উইকেট।

তার অনন্য বোলিংয়ে ঢাকা ডায়নামাইটস হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর জিতেছে দুই রানের ব্যবধানে। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও উঠেছে অ্যালিসের হাতেই। ম্যাচেও অসংখ্যবার নানান রঙবদল দেখেছেন অ্যালিস।

প্রথম ওভারে দিলেন সাত রান। ঠিক তার পরের ওভারেই পরপর দুই বলে দক্ষিণ আফ্রিুকার রাইলি রুশো আর বাংলাদেশের মোহাম্মদ মিঠুনের তোলা সহজ দুটি ক্যাচ পড়লো। এই জুটি ঢাকা ডায়নামাইটসের কাছ থেকে ম্যাচটা নিয়েই গেছেন প্রায়। তবে, বিধাতা ম্যাচটা তাঁর জন্য অন্য ভাবেই লিখে রেখেছিলেন।

নিজের তৃতীয় ওভারে মিঠুন, মাশরাফী আর ফরহাদ রেজাকে টানা তিন বলে ফিরিয়ে বিপিএল অভিষেকেই হ্যাটট্রিক! শেষ ওভারে রংপুরের জয়ের জন্য দরকার ১৪ রান। শফিউল প্রথম দুই বলে চার মেরে সমীকরণটা সহজ করে দিলেন। কিন্তু নার্ভ ধরে রাখলেন আলিস। দলকে জেতালেন দুই রানে। এক ম্যাচে এত নাটক! এত রোমাঞ্চ!

অথচ, একদিন আগেও সকালে জানতেন না এই ম্যাচে খেলতে যাচ্ছেন তিনি। বললেন, ‘গতকাল সন্ধ্যায় জানতে পারি খেলব। স্যার (খালেদ মাহমুদ সুজন) আমাকে ডেকে বলেন শারীরীক ও মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাকতে। আমি প্রস্তুতই ছিলাম। এতো বড় স্টেডিয়ামে, এতো বড় টুর্নামেন্টে প্রথম খেলা নার্ভাসেরই বিষয়। আমি প্রথমে নার্ভাসই ছিলাম, তবে তারপরও ভালো হয়েছে।’

ভাল হয়েছে বললে ভুল হবে, আসলে খুব ভালর চেয়েও বেশি কিছু হয়েছে। রহস্যটা কি? আলিসের ভাষায়, ‘আসলে এটা আমার বিপিএলে প্রথম ম্যাচ। খোলাসা করে বলতে গেলে স্টেডিয়ামেই এটা আমার প্রথম ম্যাচ। আমি আসলে অনেক নার্ভাস ছিলাম। তবে ক্যাচ দুটি ড্রপ করার পর টিমমেটটা অনেক সাপোর্ট করেছে আমাকে, কোচ সাপোর্ট করেছেন। সবাই আসলে অনেক সাহস দিয়েছেন। তাতে আমার মনে হয়েছে যে, ভালো জায়গায় বলটা করতে পারি তাহলে ভালো কিছু হতে পারে। আমি শুধু ভালো জায়াগায় বল করতে চেয়েছি।’

আলিসের বাড়ি সাভারের বলিয়ারপুর। প্রথম ক্রিকেট খেলা শুরু করেন কলাবাগান গ্রিন ক্রিসেন্ট ক্লাবের হয়ে। সেখান থেকে জায়গা হয় দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেটে। সেখান থেকে প্রথম বিভাগ, ঢাকা ডায়নামাইটসের নেট বোলার, সেখান থেকে সরাসরি বিপিএলের মঞ্চ। জীবন কখনো কখনো এমন করে রূপকথার গল্পকেও ছাড়িয়ে যায়!

https://www.mega888cuci.com