সম্রাট নয়, একজন অধিনায়ক আকবর!

আকবর আলী – বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই ছেলেটা সম্পর্কে শুনতাম ছেলেটার অধিনায়কীয় গুন খুবই ভালো।’

সত্যি বলতে এই বিশ্বকাপের আগে আকবর আলীর খেলা সম্পর্কে সেভাবে জানতাম না। আমি কেন, হয়তো কেউই খুব একটা জানেতা না।

তবে, ঊনিশ দলের স্টার বলতে তৌহিদ হৃদয় নামের ছেলেটাকেই চিনতাম। আর চিনবই না কেন, আর একটা সেঞ্চুরি করলেই তৌহিদ হৃদয় ছেলেটা অনুর্ধ ঊনিশের হয়ে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ড করবে। সারা বিশ্বকাপে ভালো খেলে আজকে শুন্য রানে এমন সময় আউট হয়ে গেলেন যখন চোখ রাঙানি দিচ্ছে হেরে যাওয়া। তবে দলে তখনো একজন ব্যাটসম্যান আছেন – যার নাম আকবর আলী।

একটা ছেলে এই বয়সেই এতোটা স্থিরতা রেখে কিভাবে কঠিন সময়ে দলকে বিশ্বকাপের ফাইনালের মতো ম্যাচে মাথা ঠান্ডা রাখতে হয়; সেটা নিজের চোখেই দেখতে পারলাম, আর মুগ্ধ হলাম। সত্যি বলতে নিজের চোখকেও বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না, কিভাবে… কিভাবে… কিভাবে সম্ভব এই ম্যাচিউরিটি!

একটা বিশ্বকাপে অনেকগুলো প্রাপ্তির মাঝেও এটা মনে সবচেয়ে গভীর প্রাপ্তি বললেও অতুক্তি করা হবে না। বাংলাদেশি কোন ব্যাটসম্যান কিংবা অধিনায়কের এতোটা দায়িত্বশীলতা, ব্যাতিক্রমী ভাবে মাথা ঠান্ডা রেখে দলকে জয়ের বন্দরে পৌছে কয়জনেই বা দিতে পারে বলুন?

আকবর আলী পেরেছেন। তাঁর ব্যাটে ভর করে, ৪২ রানের এক কার্যকর ও অপরাজিত ইনিংসে ভর করে সম্ভব হল বাংলাদেশের বিশ্বজয়!

একবার রাকিবুল একটা বাইরে বেড়িয়ে যাওয়া বলে খোঁচা দিয়েছিলেন, তখন তখনই আকবর আলি দৌড়ে এসে বুঝিয়ে গেলেন এটা আর করিস না, আমাদের উপর পুরো দেশ তাকিয়ে আছে।’

একজন টেল এন্ডার ব্যাটসম্যান কে কিভাবে প্রতিপক্ষের ভালো বোলাদের হাত থেকে বাঁচিয়ে পার্টনারশীপ করতে হয় সেটা দেখিয়ে দিলেন। ম্যাচ শেষে যখন হাত কাপটা পেলেন তখন সেটা সতীর্থদের দিয়ে নিজে পেছনে চলে গেলেন। দলের উইকেট কিপার সব সময় উইকেটের পেছনেই থাকতে হয় সেটা হয়তো প্রতিকী ভাবে বুঝিয়েও দিলেন।

পৃথিবীতে এমনই একজন ঠাণ্ডা মাথার উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ছিলেন। যিনি নিজের দেশকে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন, শুধু বিশ্বকাপ নয় সেরা তিনটা আইসিসি ইভেন্টের শিরোপা তিনি জিতেছিলেন অধিনায়ক হিসেবে।

আমাদের আকবর আলীও এনে দিলেন, হোক না সেটা ছোটদের বিশ্বকাপ। একদিন তিনি বড়দের বিশ্বকাপও এনে দিবেন, এই স্বপ্ন যে তিনি নিজ হাতে ১৮ কোটি বাংলাদেশির বুকে পুঁতে দিলেন।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।