এই কাণ্ডজ্ঞানহীনতার শেষ কোথায়!

ওয়ানডেতে অজিত আগারকারের প্রায় ৩০০’র কাছাকাছি উইকেট। তারপরও তিনি কখনো নিজের সময়ের সেরা কিংবা নিদেনপক্ষে ভারতের সেরাও ছিলেন না। পরিসংখ্যান যে সব সময় সত্যি কথা বলে না এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলেন তিনি। এই মিডিয়াম পেসার ক্যারিয়ারে যত উইকেট পেয়েছেন অধিকাংশই ছিল স্লগ ওভারে তুলে মারতে গিয়ে ব্যাটসম্যানদের বিলিয়ে দেওয়া উইকেট, টেল এন্ডারদের স্বস্তা উইকেট।

সে কারণেই কি না ক্রিকেট বিশ্বের বাকি পেসারদের জন্যও পরিসংখ্যান ব্যাপারটাকে তামাশা মনে করলেন অজিত আগারকার। ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো’র স্টুডিওতে বসে বললেন, ‘রশিদ খান ও গুলবাদি নাইব শেষের দিকে মাশরাফিকে বেধড়ক পিটিয়েছেন। যদি তার দলে থাকার কারণ এটা হয় যে সে দলকে একত্র করে রাখে এবং মেন্টরের ভূমিকা পালন করে, আমি এই বিষয়ে নিশ্চিত নই। আমি সবসময় বিশ্বাস করে এসেছি, আপনি দলের নেতা হলে আপনাকে অবশ্যই দলের অন্যতম সেরা পারফরমার হতে হবে। মাশরাফির এমন পারফরম্যান্স এটা সমর্থন করে না।’

সাথে থাকা শাহরিয়ার নাফিস অবশ্য তখনই বিরোধীতা করে বলেছেন, ‘একটা ব্যাপারে আমি অজিতের সাথে দ্বিমত পোষন করছি। গত কয়েক বছর ধরে বল হাতে বাংলাদেশের সেরা পারফরমারের নাম মাশরাফি। এমন না যে সে দলের মেন্টর হিসেবেই দলে আছে। নিজের পারফরম্যান্স দিয়েই সে দলে আছে।’

নাফিস যা বলেছেন, সেটাই একটু ভেঙে বলি এবার।

মাশরাফি অবশ্যই দলকে একত্র করে রেখে মেন্টরের ভূমিকাটা অন্য যে কারো চেয়ে ভাল জানেন। এর মানে এই নয় যে তিনি পারফরমার নন। আগের ম্যাচেই যেদিন শ্রীলঙ্কাকে বাংলাদেশ ১৩৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হারানোর দিনও শ্রীলঙ্কার টপ অর্ডার গুড়িয়ে দেওয়ার কাজটা মাশরাফিই করেছেন।

আগে মাশরাফি কবে কি করেছেন, সেই হিসেবে না যাই। বর্তমানেই থাকি। ওয়ানডেতে মাশরাফির বোলিং র‌্যাংকিং এখন ২০।  এই হিসেবে বাংলাদেশিদের মধ্যে এগিয়ে আছেন কেবল একজন – মুস্তাফিজুর রহমান (১৬)।  চলতি এশিয়া কাপে খেলা পেসারদের মধ্যে র‌্যাংকিংয়ের দিকে থেকে এই দু’জনের চেয়ে আর মাত্র দু’জনই এগিয়ে আছেন। তারা হলেন – ভারতের জাসপ্রিত বুমরাহ (১) ও পাকিস্তানের হাসান আলী (৩)।

না, মাশরাফির জন্য এই র‌্যাংকিংয়ের ২০-এ থাকাটা বড় কোনো ব্যাপার নয়। একটা সময় তিনি র‌্যাংকিংয়ের সেরা ১০-এও ছিলেন। কিন্তু, ব্যাপার হল এখনো র‌্যাংকিংয়ে মাশরাফির পেছনে আছেন – পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ আমির (২৯), ভারতের পেসার ভূবনেশ্বর কুমার (৩০) ও শ্রীলঙ্কার সুরঙ্গ লাকমল (২৮)। এমনকি আমাদের সাকিব আল হাসানও বোলিং র‌্যাংকিংও মাশরাফির চেয়ে পেছনে (২৬)।

ব্যাপার হল মিডিয়ার সাথে জড়িত থাকাটায় যেমন গ্ল্যামার আছে, তেমনি বিশাল দায়িত্ববোধ থাকাটাও জরুরী। সাংবাদিক, অ্যানালিস্ট বা ধারাভাষ্যকাররা যদি নিজেরাই ভুল জেনে কথা বলতে বা লিখতে বসেন তাহলে সাধারণ দর্শকদের কাছে ভুল বার্তাটাই পৌঁছাবে। দায়িত্ববোধের এমন ঘাটতি দেখালে একসময় গ্ল্যামারটাও থাকবে না। আশা করি অজিত আগারকারের মত মানুষগুলো এই বিষয়টা বুঝবেন।

https://www.mega888cuci.com