‘ইয়াহিয়া খানের ছবি টাঙ্গাই থুইছি, প্রতিদিন একবার কইরা থু মারি’

‘ইয়াহিয়া খানের ছবি টাঙ্গাই থুইছি, প্রতিদিন একবার কইরা থু মারি। থু মাইরা কাঁচ টারে সাফ করি’

দৃশ্যটা ছিল অনেকটা এমন – মুক্তিযুদ্ধের সময়। উত্তাল ১৯৭১ সালের ঢাকা। একটা গলির কোনায় একটা টং দোকান। গলির ভেতর দিয়ে হঠাৎ বের হয়ে গেল পাকিস্তানি আর্মিদের কয়েকটা ট্রাক। ঠিক এরপরই আবুল হায়াতের সাথে আলাপচারিতায় কথাগুলো বলেছিলেন সালেহ আহমেদ। কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের কালজয়ী সিনেমা ‘আগুনের পরশমণি’র এই দৃশ্যটা একাধারে খুবই বিদ্রুপাত্মক ও প্রতিবাদী। ডায়লোগটা বলে চিরকালের জন্য বাংলাদেশের দর্শকদের মনে ঠাঁই করে নিয়েছিলেন সালেহ আহমেদ।

নব্বইয়ের দশকে সালেহ আহমেদ বাংলাদেশের বিনোদন জগতের বেশ পরিচিত মুখ ছিলেন। তিনি খুবই ‘আন্ডাররেটেড’ হলেও সব্যসাচী অভিনেতা ছিলেন। তার কমিক টাইমিং ও ডায়লোগ থ্রোয়িংয়ের দক্ষতা ছিল অসামান্য। সামান্য একটা সংলাপও তাঁর কণ্ঠে অনন্য হয়ে উঠতো। সংলাপ বলা, এক্সপ্রেশন দেওয়া – অভিনয় করার মহাযঞ্জে যে ছোট ছোট অসংখ্য ডিটেইলিংয়ের দরকার হয় সেটা তাঁর কাজ দেখলে বোঝা যায়।

সালেহ আহমেদের ক্যারিয়ারে হুমায়ূন আহমেদের বিশাল একটা ভূমিকা আছে। হুমায়ূনকে তাঁর নীতি নির্ধারক বললেও বেশি বলা হবে না। একটা সময় হুমায়ূনের নাটক ও সিনেমায় নিয়মিত মুখ ছিলেন সালেহ আহমেদ। এর মধ্যে নাটকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাফল্য পায় ‘অয়োময়’। আর সিনেমার কথা তো আগেই বলা হল – ১৯৯৪ সালের ‘আগুনের পরশমণি’।

এর বাদেও হুমায়ূনের সিনেমা – ‘আমার আছে জল’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ কিংবা নাটক – ‘আজ রবিবার’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল’-এও ছিল তাঁর সরব উপস্থিতি। সেসব নাটকের কথা বাংলাদেশের দর্শক হয়তো কখনোই ভুলবে না।

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ১৯৩৬ সালে তাঁর জন্ম। ময়মনসিংহের স্থানীয় নাট্যদল ‘অমরাবতী নাট্যমঞ্চ’ তে অভিনয়ের মাধ্যমে তার অভিনয় জগতের যাত্রা শুরু হয়। স্বাধীনতার আগে ও পরে তিনি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের সাথে জড়িত ছিলেন।

অভিনয় জগতের বাইরে তিনি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরেও চাকরি করতেন। ১৯৯১ সালে তিনি চাকরি থেকে অবসরে যান। তবে, এরপরও অভিনয়ের কাজটা চালিয়ে যান অনেকদিন। বলা যায়, চাকরি জীবন শেষেই তাঁর অভিনয় জীবন নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়।

তবে, শারীরিক নানা সমস্যা একটা সময় তাঁকে থমকে যেতে হয়। বার্ধক্যজনিত সমস্যা নিয়ে অনেকদিন ভুগছিলেন। বছর ছয়েক আগে স্ট্রোক করেন। পরিবারে আর্থিক সংকটও আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকার অনুদান পেয়েছিলেন। চলছিল চিকিৎসা। তবে, এখন তিনি এই সব কিছুর উর্ধ্বে। তিনি জীবন নদীর ওপারে চলে গেছেন। ২০১৯ সালে ২৪ এপ্রিলটাই ছিল তাঁর জীবনের শেষ দিন।

https://www.mega888cuci.com