তিনি কথা রাখলেন না, চলেই গেলেন!

‘আমি বিশ্বাস করি, আমার ধৈর্যের কাছে ক্যান্সার হেরে যাবে।’ বলেছিলেন তিনি। ব্রেন ক্যান্সার নামক অতি-পাষণ্ড এক রোগের বিরুদ্ধে চলছিল তাঁর লড়াই। কি হাড্ডাহাড্ডি এক লড়াই!

শেষ অবধি যুদ্ধটা চালিয়ে যেতে পারলেন না ইরফান খান। শেষ অবধি যুদ্ধটায় বিজয়ী হল ব্রেন ক্যান্সারই। জীবন যুদ্ধের ওপারে চলে গেলেন েইরফান খান, ভারতের ইতিহাসের অন্যতম সেরা অভিনেতাদের একজন। খানদের দাপট, প্রচলিত ঘরানার নায়কদের স্টারডম, মসলাদার চলচ্চিত্র – এতকিছুর ভিড়েও যিনি ভিন্নধর্মী সব সিনেমা করে কুড়িয়ে গেছেন দর্শক সমালোচকদের প্রশংসা।

হলিউডের ছবি করে, ভিনদেশি সব ছবি করে ইরফান খানই তো ছিলেন দেশের বাইরে ভারতের পতাকাবাহী। স্বয়ং কারিনা কাপুর তো তাঁকেই সেরা খান মানতেন। কিন্তু, আজকের পর থেকে আর এই তুলনায় কেউ যাবে না। সব হিসাব নিকাশের উর্ধ্ব্যে চলে গেলেন ইরফান খান। সিনেমার পর্দায় অভিনয়ে কেউ তাঁকে হার মানাতে না পারলেও বাস্তব জীবনে তিনি হেরে গেলেন ব্রেন টিউমারের কাছে।

বলিউডের তারার মেলায় ইরফান ছিলেন একজন ভিন্নধর্মী চরিত্র। তাঁর বিশাল কোনো ফ্যানবেজ কখনোই ছিল না। আবার তাঁর সমালোচকও সেই অর্থে ছিল না। তাই তো, মস্তিষ্কের বিরল ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে যখন হাসপাতালের বেডে শুয়ে ছিলেন, তখন তাঁর জন্য পার্থনা করে গোটা উপমহাদেশ। তাঁর সাথে লড়ছিল পুরো উপমহাদেশ।

কিন্তু সেই লড়াইয়ের শেষটা হল করুণ ভাবে। লড়াইয়ের রসদটাই যে দিন চারেক আগে হারিয়ে বসেছিলেন ইরফান। চার দিন আগে তাঁর মা জয়পুরে মারা যান। লকডাউন আর অসুস্থতার কারণে সেখানে পৌঁছতে পারেননি ইরফান। এবার ঠিকই মায়ের কাছে পৌঁছে গেলেন জমিদার পরিবারের এই ছেলে। ২০২০ সালের ২৯ এপ্রিল – এই দিনটাই তাঁর জীবনের শেষ দিন!

জীবনটা ছোটই রয়ে গেল ইরফানের। মোটে ৫৩ বছর বয়স। অথচ, এক জীবনে কি না করেছেন তিনি। বলিউডে যেমন ছিলেন সরব, তেমনি দাপিয়ে বেরিয়েছেন হলিউডে। ‘স্লামডম মিলিওনার’ কিংবা ‘লাইফ অব পাই’ ছবিগুলো তাঁকে এনে দিচ্ছিল আন্তর্জাতিক সুনাম। বাংলাদেশে এসেও ‘ডুব’ করে গেছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নির্মানে।

২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘কারওয়ান’ মুক্তির পরই ইরফানের বিরল রোগের খবর প্রকাশ পায়। কিন্তু, লড়াইয়ে তিনি ইস্তফা দেননি কখনোই। ২০২০ সালের শুরুতে ‘আঙরেজি মিডিয়াম’ দিয়ে ফিরে এসেছিলেন তিনি। বলেছিলেন, ‘আপনাদের এই ভালবাসাই আমার যন্ত্রণায় প্রলেপ দিয়েছে। তাই ফের আপনাদের কাছেই ফিরছি!

কিন্তু, ইরফান খান সেই কথা রাখলেন না। তিনি উড়াল দিয়েছেন আকাশে!

 

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।