আমির খানও ফ্লপ খান!

‘পারফেকশনিস্ট’ নামে পরিচিত তিনি। বলিউডে তাঁর মত খুঁতখুতে অভিনেতা আর নেই বললেই চলে। সিনেমার শ্যুটিং শুরুর আগে লম্বা সময় ধরে সেই চরিত্রটিকে ধারণ করার সব রকম চেষ্টাই করেন আমির খান। তবে, তাঁর ক্যারিয়ারেও অনেক উত্থান-পতন আছে। বিশেষ করে তরুণ বয়সে তিনি এমন অনেক সিনেমা করেছেন, যেগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে বক্স অফিসে। আর ছবিগুলো এতটাই অপরিচিত যে, অধিকাংশ আমির-ভক্তও এসবের ব্যাপারে আছেন অন্ধকারে।

  • লাভ লাভ লাভ (১৯৮৯)

১৯৮৮ সালে অভিষেক ছবি ‘ক্যায়ামত সে ক্যায়ামত তাক’ বিশাল জনপ্রিয়তা পাওয়ারর পর আমির আর জুহি আবারো রোম্যান্টিক ছবিতে জুটিবদ্ধ হয়েছিলেন।  ‘লাভ লাভ লাভ’ ছবিতে বড় লোক ব্যবসায়ীর মেয়ে জুহির প্রেমে পড়েন ট্যাক্সি ড্রাইভারের ছেলে আমির। বাব্বার সুভাষের প্রযোজনা ও পরিচালনায় নির্মিত ছবিটা বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়।

  • রাখ (১৯৮৯)

ক্রাইম থ্রিলার ঘরানার ছবিটি সমালোচকদের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশংসিত হয়। ছবিটি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায়। কেন্দ্রীয় চরিত্রে আমির ছাড়াও ছিলেন সুপ্রিয়া পাঠক। সাবেক প্রেমিকার হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে হন্যে হয়ে থাকা এক নিম্নবিত্ত মানুষের গল্প বলে এই ছবি। তবে, ছবিটি বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়। দারুণ অভিষেকের পরের বছরই টানা দুই ছবিতে ব্যর্থ হন আমির।

  • আওয়াল নাম্বার (১৯৯০)

আবারো একই বছরে আমিরের টানা ব্যর্থতার শুরু। শুরু হয় দেব আনন্দের নির্মানে। আমির ছাড়াও ছিলেন আদিত্য পাঞ্চোলি। ৬৭ বছর বয়সী দেব আনন্দ নিজেও অভিনয় করেন। স্পোর্টস ড্রামা নির্ভর ছবি। বক্স অফিস এই ছবি গ্রহণ করেনি।

  • দিওয়ানা মুঝ সা নেহি (১৯৯০)

আমির খান ফটোগ্রাফার, মাধুরী দিক্ষিত মডেল। আমির ভালবাসেন মাধুরীকে। কিন্তু, মাধুরীর বাগদান হয়ে গেছে। কিন্তু, বিয়ের আগে মাধুরীর বোধদয় হয়, তিনি ভালবাসেন আমিরকে। ব্যস, চলে আসেন আমিরের কাছে। খুবই টুইস্টহীন ও গৎবাঁধা একটা গল্প।

  • জাওয়ানি জিন্দাবাদ (১৯৯০)

১৯৯০ সালটা আমিরের জন্য খুব বাজে একটা সময় ছিল। ব্যর্থতা চলতেই থাকে।  ‘জাওয়ানি জিন্দাবাদ’ কান্নাড়া ছবি ‘আভালে নান্না হেন্দথি’র রিমেক। যৌতুকের বিরুদ্ধে সামাজিক বার্তা দেওয়া হয়। আমিরের বিপরীতে ছিলেন অভিনেত্রী টাবুর বড় বোন ফারহা নাজ।

  • আফসানা প্যায়ার কা (১৯৯১)

এই সময় আমির প্রচুর রোম্যান্টিক গল্ড করতেন। এই ছবিতে যেমন তাঁর বিপরীতে ছিলেন নিলম কোঠারি। এই ছবির প্লটও খুব গৎবাঁধা। বনিবনা হয় না এমন দুই পরিবারের ছেলে ও মেয়ে হলেন আমির ও নিলম। তাদের মধ্যে প্রেম হয় কলেজে। এই গল্পে এগিয়ে যায় ছবি।

  • দাওলাত কি জাঙ (১৯৯২)

হলিউডের ‘ম্যাককিনা’স গোল্ড’ ছবি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ছবিটি নির্মিত হয়। আবারো আমিরের সাথে জুটিবদ্ধ হন জুহি চাওলা। এটাও যথারীতি ছিল একটা রোম্যান্টিক গল্প। এখানে তরুণ এক জুটির গল্প বলা হয়েছে, যাদের মত মধ্যে ভালবাসার কোনো কমতি নেই। এক সাথে থাকতে তাঁরা যুদ্ধ করছেন।

  • ইসি কা নাম জিন্দেগি (১৯৯২)

আবারো ফারহা নাজের সাথে জুটি বদ্ধ হন আমির। ছবিটি ছিল রোম্যান্টিক ঘরানার। এটা ব্রিটিশ ভারতের একটা প্লটের ওপর নির্ভর করে নির্মিত হয়। মূলত এটা মনোজ মিত্রের বাংলা নাটক ‘সাজাও বাগান’-এর বলিউডি রুপান্তর। ছবিটি দর্শকরা একেবারে ফিরিয়ে দেয়নি, যদিও বক্স অফিস থেকে সাফল্য আসেনি। আরো একবার একই বছরে দ্বিতীয়বারের মত ব্যর্থ হয় আমিরের ছবি।

  • আতাঙ্ক হি আতাঙ্ক (১৯৯৫)

হলিউড ক্লাসিক ‘গডফাদার’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত হয়। আমির ছাড়াও ছিলেন রজনীকান্ত ও জুহি চাওলা। তবে, দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয় এই ছবি। বক্স অফিসে বাজে ভাবে ব্যর্থ হয়।

যদিও, ১৯৯৫ সালটা আমিরের জন্য স্মরণীয় বছর। কারণ, এই বছরই মুক্তি পায় রাম গোপাল ভার্মার ‘রঙ্গিলা’।

https://www.mega888cuci.com