একটি মধুর প্রতিশোধের গল্প

সেটাও ছিল একটা বিশ্বকাপ। হোক সেটা যুব দলের লড়াই। দেশের মাটিতে খেলা। আর প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া বাংলাদেশ দলটা ছিল ফেবারিটের কাতারে।

সব ঠিকঠাক মতই চলছিল। ফেবারিট হিসেবে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের দল পৌঁছে গিয়েছিল সেমিফাইনালে। শেষ চারে প্রতিপক্ষ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দিনটা ছিল ২০১৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি।

এই মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের টপ অর্ডার সেদিন নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি। হাল ধরেছিলেন ও মিরাজই। ৭৪ বলে সাতটি চারে করেছিলেন ৬০ রান। সাথে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ৩৬ ও জয়রাজ শেখের ৩৫ রানের ইনিংসের সুবাদে বাংলাদেশের স্কোরটা ৫০ ওভারে ২২৬-এ গিয়ে ঠেঁকে।

জবাবে বাংলাদেশ ৪৯ তম ওভার অবধি লড়াই চালিয়েছিল, পারেনি। ম্যাচ সেরা খেলোয়াড় শ্যামার স্প্রিঙ্গার ৬২ রানের অপরাজিত এক ইনিংস খেলে ছিটকে দেন বাংলাদেশকে। আরেকটি কার্যকর ইনিংস সেদিন খেলেছিলেন স্বয়ং ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক।

তিনি আর কেউ নন, তিনি হলেন শিমরন হেটমায়ার। ৫৯ বলে সাত চার আর এক ছক্কায় ৬০ রানের ইনিংসটাই আসলো চাপ আসতে দেয়নি ক্যারিবিয়ানদেরও ওপরে। তিন উইকেটের জয় নিয়ে ফাইনালে চলে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মিরাজের ৬০ রান ও দুই উইকেট বৃথা যায়। ফাইনালে ভারতকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মত ছোটদের বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ফাইনালের পুরস্কার মঞ্চে মিরাজও ছিলেন। তিনিই যে নির্বাচিত হয়েছিলেন ওই আসরের সেরা খেলোয়াড়। নিজের চোখের সামনেই তো উল্লাস করতে দেখেছেন হেটমায়ারদের।

এরপর সময় অনেক এগিয়েছে। হেটমায়ার ও মিরাজ দু’জনই ছোটদের গণ্ডী পার করে চলে এসেছেন নিজ নিজ জাতীয় দলে। দু’জনই এখন নিজেদের দলের অপরিহার্য সদস্য। যখন আবার তাই সেই মিরপুরেই হেটমায়ারকে পেয়ে গেলেন মিরাজ তখন নিশ্চয়ই প্রতিশোধের কথাটা মাথায় ছিল তাঁর।

সেটা থাকুক আর নাই থাকুক, প্রতিশোধ নেওয়া হয়ে গেছে তাঁর। ইতিহাসে প্রথমবারের মত কোনো দলকে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ব্যবধানটা ইনিংস ও ১৮৪ রানের। প্রথমবারের মত দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশের ‘স্বাদ’ দিল বাংলাদেশ!

জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান মেহেদী হাসান মিরাজের। দুই ইনিংসে তিনি নিয়েছেন ১২ উইকেট। এর মধ্যে কেবল তৃতীয় দিনেই নিয়েছেন নয়টি উইকেট। এর চেয়েও বড় ব্যাপার হল, একই দিনে তিনি দু’বার আউট করেছেন ওই হেটমায়ারকে। দুই টেস্টে যে চারবার আউট হয়েছেন হেটমায়ার প্রতিবারই তাঁর শিকারী ছিলেন ওই মিরাজ।

প্রতিশোধটা তো এর চেয়ে ভালভাবে নেওয়ার কোনো উপায় ছিল না!

https://www.mega888cuci.com