এক ‘বুড়ি’ মডেলের তারুণ্য

চুলটা কাচাপাকা, বয়স ৭১। তারপরও কি দারুণ তারুণ্য ধরে রেখেছেন সাঙহাইয়ের ইয়াঙ গুয়াঙ। ‘টাওবাও’-এর সিনিয়র মডেলদের মধ্যে তিনি বেশ জনপ্রিয়ও। বয়স যে স্রেফ একটা সংখ্যা, সেটা তাঁর মধ্য দিয়ে আবারো প্রমাণিত হল।

বরাবরই পরিবারের কাছ থেকে সমর্থন পেয়ে এসেছেন ইয়াও। কাজের প্রয়োজনে সাঙহাই থেকে তাকে পূর্ব চীনের ঝেইজাঙ প্রদেশে যেতে হয়, হাই স্পিড ট্রেনে। যদিও পরিবারের কোনো সদস্য বা কোনো সহকারী ওই সময় তাঁর সাথে থাকেন না। নিজে একা চলাচল করতেই স্বাচ্ছন্দবোধ করেন ইয়াঙ।

তিনি বলেন, ‘আমার সন্তান বা স্বামীকে আমি তোয়াক্কা করি না। আমি এটাতে অভ্যস্ত। একা যাতায়াত করাই আমার বেশি পছন্দের। আর আমি নিজেই নিজের শিডিউল ঠিক করি।’

শুধু মডেলিংই নয়, ইয়াঙ একই সাথে বিজ্ঞাপন, টেলিভিশনের ড্রামা সিরিজ, এমনকি সিনেমাতেও কাজ করেছেন তিনি। ২০১৮ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি ৩০ টি সিনেমা ও ১০০-টির ওপর বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন।

অন্য সব চীনা নারীরা যে বয়সে ঘরে বসে টেলিভিশন দেখেন, কিংবা মুদির দোকানে গিয়ে টুকটাক কেনাকাটা করেন, কেউ বা জীবনের শেষদিনের জন্য অপেক্ষা করেন, সে সময় ইয়াঙ যথেষ্ট পরিশ্রমের ও সম্মানের কাজ করে যাচ্ছেন নিয়মিত।

ইয়াঙ ছবি তুলতে ও নিজেকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করেন সেই শিশু বেলা থেকেই। সেজন্যই তাঁর মডেলিংয়ে আসা। তিনি বলেন, ‘ছোট থাকতে সুন্দর জামাকাপড় পড়লেই আমার মডেলিং করার শখ হত। এজন্যই আসলে আমার মডেলিং ইন্ডাস্ট্রিতে আসা।’

এই বয়সে মডেলিং করতে গেলে বেশ ঝক্কি পোহাতে হয়। ইয়াঙ সেটা অকপটে স্বীকার করে নিলেন। অনেক সময় গ্রীষ্মেই শীতের পোশাকের ফটোশুট করতে হয়। আবার শীত থাকতেই গরমকালের পোশাক পরিধান করে ক্যামেরার সামনে আসতে হয়। তখন ইয়াং হিটার ব্যবহার করেন। আর আউটডোর শ্যুটিং হলে তো কথাই নেই। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে হয়। সব সময় ছোটাছুটির মধ্যে থাকতে হয়।

একটু বয়স করেই এই জগতে এসেছেন ইয়াঙ। যদিও, সেসব নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই তাঁর। বরং তিনি বিশ্বাস করেন, কোনো কাজ শুরু করার জন্য বয়সের কোনো সীমানা নেই। তিনি বলেন, ‘আমি শৈশব থেকেই বড় মডেল হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম। আমি মনে করি নতুন ক্যারিয়ার ‍শুরু করার কোনো ধরাবাধা নিয়ম নেই। যখন আমি ক্যামেরার সামনে হাসিমুখ করে দাঁড়াই, তখন আমার ভেতরটা খুশিতে ভরে ওঠে।’

– চায়না গ্লোবাল টিভি নেটওয়ার্ক অবলম্বনে

https://www.mega888cuci.com