২৪: অনবদ্য এক টাইম ট্রাভেল

‘২৪’ ছবির ঘোষণা প্রথম আসে ২০০৯ সালে! কাস্ট করা হয় বিক্রম ও ইলিয়েনা ডি’ক্রুজ-কে। কিন্তু, প্রযোজক আর পরিচালকের মধ্যে বাজেট নিয়ে কিছু সমস্যা কারণে ২০১০ সালে ছবিটি বাতিল হয়ে যায়। কারণ, তখন হাই বাজেটে এমন সাইন্স-ফিকশন ছবি বানানোর ঝুঁকি নিতে চাননি প্রযোজক।

আর তখন তামিলিয়ান দর্শকদের ট্রাইম লাভেল সম্পর্কে ধারণাও কম ছিলো। এরপর ২০১৪ সালে বিক্রম কুমার স্ক্রিপ্ট নিয়ে যান সুরিয়া’র কাছে। সুরিয়ার স্রিপ্ট পছন্দ হলে, তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি নিজেই ছবিটি প্রযোজনা করারও সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৫ সালে এপ্রিলে শুরু হয় ছবির শুটিং!

এরপর শুরু হয় আসল বিতর্ক। ছবির টাইটেল ও ফার্স্ট লুকের পোষ্টার মুক্তি পেলে তাতে আমেরিকান টিভি সিরিজ ‘২৪’-এর অনেক মিল পাওয়া যায়। সাথে সাথে সুরিয়া ও তার প্রোডাকশন হাউজের উপর কেস করেন অনিল কাপুর! কারণ, তিনি ওই সিরিজের রিমেক রাইট কিনে নিয়েছিলেন।

তবে, পরে সমস্ত ঝামেলা মিটিয়ে মুভির টিজার ও ট্রেইলার মুক্তি পেলে তা দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে! এরপর ২০১৬ সালের ছয় মে মুক্তি পায় ছবিটি। সমালোচক আর দর্শক – সবাই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।  বক্স-অফিসে সুরিয়া’র দ্বিতীয় ছবি হিসেবে বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটি রুপি আয় করে ‘২৪’! বাজেট বিবেচনা করে অবশ্য তামিল ইন্ডাস্ট্রিতে ছবিটা হিট হয়নি। তবে, কেরালায় ছবিটি দারুণ চলে থিয়েটারে, হিট হয় তেলেগু ভার্সনে।

সে বছর বছর সেরা সিনেমাটোগ্রাফি ও কস্টিউম ডিজাইন ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে নেয় এই ছবি। সিকুয়্যাল বের করারও পরিকল্পনা ছিল। তবে, ব্যবসায়িক সাফল্য না আসায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

ছবির সেলিং পয়েন্ট অবশ্যই দারুণ স্ক্রিপ্ট আর সুরিয়ার অভিনয়। এক সাথে তিনটি ভিন্ন রোল, তার মধ্যে আবার দু’টি হল হিরো আর ভিলেনের – তাহলে চোখ বন্ধ করে বলা যায় কাজটা সহজ ছিল না। তবে, অজিত কুমার ও কমল হাসানের পর এই কঠিন কাজটি করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন সুরিয়া। প্রত্যেকটি রোলেই একদম নিখুঁত অভিনয় করেন তিনি।

বিশেষ করে নেগেটিভ ‘আথ্রেয়া’ চরিত্রে সুরিয়া’র অভিনয় ছিলো অনবদ্য। তবে, বক্স-অফিসের মতো এখানেও আন্ডাররেট করা হয় সুরিয়া-কে। যেখানে তিনি সেরা অভিনেতা ক্যাটাগরিতে ফিল্ম ফেয়ার প্রাপ্য হলেও, সেখানে তাকে ফিল্ম ফেয়ার দেয়া হয় সমালোচকদের দৃষ্টিতে সেরা অভিনেতার ক্যাটাগরিতে।

ছবিতে সুরিয়া’র বিপরীতে দ্বিতীয়বারের মতো সামান্থা ও প্রথমবারের মতো অভিনয় করা নিথিয়া মেনন কাজ করেন। সহ-অভিনয় শিল্পী হিসেবে সারান্যা ও অজয়-এর দূর্দান্ত অভিনয় দেখা গেছে। বিক্রম কুমারের দূর্দান্ত নির্মান, এ. আর. রহমান স্যারের মানানসই আর চমৎকার সঙ্গীতায়োজন, থিররু’র অসাধারণ সিনেমাটোগ্রাফি – সব মিলিয়ে ছবিটাকে তামিল ইন্ডাস্ট্রির সেরা টাইম-ট্রাভেল ছবি বললেও বাড়িয়ে বলা হয় না।

https://www.mega888cuci.com