মাঠ থেকে ফিরে ১১ টি উপলব্ধি

১.

ক্যাচিংয়ের কারণেই ম্যাচটা হারলো বাংলাদেশ। মুস্তাফিজকে দোষ দেয়ার কিছু নেই; একজন ওপেনিং ব্যাটসম্যান শেষ ওভার পর্যন্ত ক্রিজে থাকলে বাংলাদেশ বাদে যে কোনো দলের ব্যাটসম্যানই সেই ম্যাচ বের করে আনবে। গ্রাউন্ড ফিল্ডিং ইমপ্রুভ করলেও প্রতি ম্যাচেই গড়ে তিনটা ক্যাচ পড়ছে। বিশ্বকাপে এর মাসুল দিতে হতে পারে। ২৫৫ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর জন্য পর্যাপ্ত ছিলো।

২.

লিটন দাসের ইনজুরিতে মন খারাপ হয়েছিলো। শেষ পর্যন্ত আবারো ব্যাটিং করতে নেমেছে, এটা স্বস্তিদায়ক৷ আশা করি তৃতীয় ওয়ানডেতে ইনজুরি প্রভাব ফেলবে না।

৩.

আজকের ম্যাচে মিঠুনের সার্ভিস মিস করেছে টিম। ৬ আর ৭ এ তার ব্যাটিং খুবই কার্যকর। এই ছেলে ভবিষ্যতের মাহমুদউল্লাহ হবে আমার ধারণা। আশা করি তৃতীয় ওয়ানডেতে তাকে একাদশে দেখতে পাবো। বিশ্বকাপে তার ব্যাটিং অনেক ম্যাচেই বাংলাদেশকে বৈতরণী পার হতে সহায়তা করবে।

৪.

ইমরুলের ইনফ্যাচুয়েশনে ভুগতে ভুগতে কতিপয় দর্শকের যখন ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিলো, দ্বিপাক্ষিক সিরিজে রানের রেকর্ড গড়ে মেহনতি জনতার চোখের মনি হয়ে উঠেছিলো তখনো স্রোতের বিপরীতে দাঁড়ানোর সাহস দেখিয়েছিলাম, ‘ইমরুল ইমোশন’ নামের দীর্ঘ পোস্ট লিখেছিলাম। আশা করি সেই সকল ইমরুলপ্রেমি আমার পোস্টটা এবার পড়বেন এবং স্বীকার করবেন বাংলাদেশ দলে ইমরুলের মতো প্লেয়ার অভিশাপ।

আশা রইলো, তৃতীয় ওয়ানডেতে দল অভিশাপমুক্ত হবে। মিথুনকে একটি ম্যাচ দেয়া ফরয। ইমরুলের কারণে টিমের ব্যালেন্স নষ্ট হচ্ছে। কোয়ালিটি বোলিং খেলার সামর্থ্য তার কখনোই ছিলো না, যেসব ম্যাচে ফিল্ডাররা আন্তরিক হয়েছে কিছু রান করেছে, কিন্তু তার সাথে ননস্ট্রাইকে থাকা ব্যাটসম্যানের কনফিডেন্স কতটা কমে যায় এটা বুঝতে হলে ক্রিকেট ফিলোসফি বুঝতে হয়। সেলফি জেনারেশনের কতজনের সে সামর্থ্য আছে তা নিয়ে সন্দিহান ঘোরতর। বাংলাদেশ দলের সপ্তসীমায় ইমরুলকে নিষিদ্ধ করা উচিত। ম্যাচের ইনিশিয়াল মোমেন্টাম নষ্টের জন্য তাকেই দোষারোপ করতে চাই। সে স্রেফ থমাসের পেসে ভীত হয়ে পড়েছে।

৫.

সৌম্যর স্কোর দেখে কনফিউজড হবেন না। সে যথেষ্ট টাচে আছে। আজ যে শটে সে আউট হলো, এটা পাওয়ার প্লে তে খেললে ছক্কা হয়ে যেতো। বল তখন নতুন থাকে, টাইমিং দিয়েই সীমানার বাইরে পাঠানো যেতো। মিথুনের কাজ সৌম্যকে দিয়ে হবে না এটা মাশরাফি-সাকিব উভয়েই বোঝে, কিন্তু ইমরুল ভাইরাস তাদের প্ল্যান চেঞ্জ করতে বাধ্য করেছে। সৌম্যতে আস্থা রাখুন।

৬.

মুস্তাফিজ আজ প্রায় প্রত্যেক ওভারের প্রথম বলে চার খেয়েছে। ওভারের ছয়টা বল ঠিকমতো ডেলিভার করার ক্ষেত্রে সে এখনো পিছিয়ে আছে ফিটনেসের অভাবে।

৭.

মিরাজ, সৌম্য, লিটন ৩জনই দুর্দান্ত ফিল্ডার। এরা দলের ফিল্ডিংয়ের স্ট্যান্ডার্ড উপরে উঠিয়ে দিয়েছে। মাহমুদুল্লাহ আর রুবেলের উচিৎ ফিল্ডিংয়ে জোর দেয়া।

৮.

রুবেলকে আমি বাংলাদেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ ফাস্ট বোলার মনে করি। এই ছেলেকে যদি সাইফুদ্দিনের মতো স্টক বোলারের সঙ্গে জায়গার জন্য লড়তে হয় সেটা দলের জন্যই ক্ষতিকর। রুবেলের তাতে কিছুই যায় আসে না৷

৯.

মাশরাফির বলের গতি নিয়ে চিন্তিত। ইংল্যান্ডের ছোট্ট মাঠগুলোতে এই গতি নিয়ে তাকে হরহামেশাই ছক্কা হজম করতে হতে পারে।

১০.

তামিমের ব্যাটিং খুবই প্রেডিক্টেবল হয়ে যাচ্ছে। ৫০ পর্যন্ত স্লো খেলে ডট পুষিয়ে দেয়ার জন্য স্লগ করা, এটা অনেক টিমই ধরে ফেলেছে। বড়ো ম্যাচগুলোতে এটা ভুগাতে পারে।

১১.

সাকিবকে উইকেট দিবো না এই স্ট্র‍্যাটেজিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফল, এমনকি স্লগ ওভারেও তার বলে কোনো এক্সপেনসিভ শট খেলেনি।

তৃতীয় ওয়ানডেতে যথারীতি বাংলাদেশই জিতবে। ২-১ খারাপ না!

https://www.mega888cuci.com