যেদিন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩০ বলে ৯১ রান করেছিলেন শুভাগত!

গত বছরের এই সময়ের কথা। চট্রগ্রাম টেস্ট শুরুর ঠিক ৪ দিন আগে আবহাওয়া কোনো সিগনাল না দিয়েই একটি ঝড় শুরু করে দিয়েছে।

ওই ঝড়টির নেতৃত্ব দিয়েছেন এদেশের কোটি কোটি ক্রিকেট সমর্থক, আর এই ঝড়ের জন্য কালপিট হিসেবে সবাই দেখছে বিসিবিকে। প্রথম টেস্টের জন্য ঘোষিত দল তেমন সুবিধাজনক নয় বলে মনে করছে সমর্থকেরা। নাসির নাই, আল আমিন নাই, উপেক্ষীত জুবায়ের লিখনও নাই। লিখনকে নাকি বিবেচনায় ই রাখেনি কোচ!

তবে দলে আছেন একজন শুভাগত হোম চৌধুরী!

দুষ্টুরা বলে-স্যার শুভাগত। শুভাগতর নামের সঙ্গে ভক্তরা অতি ভালবেসে, মহব্বত করে, অতি শ্রদ্ধায় ‘স্যার’ শব্দটি যুক্ত করেন। ভক্তরা বলেন, ‘স্যার শব্দ যুক্ত না করলে শুভাগত হোম চৌধুরীর সঙ্গে অন্যায় করা হবে।’ তাই ভক্তরা একটু বাড়তি ভালবেসে স্যার বলেই তাকে ডাকে।

সবাই যখন টেস্ট দল দেখে চিন্তিত, তখন আমি ইংলিশদের জন্য ব্যাথিত ছিলাম সেদিন। কেন ব্যাথিত ছিলাম জানেন? কারণ আমাদের ওই দলে ছিলেন একজন শুভাগত। যে শুভাগত একাই শেষ করে দিতে পারে ইংলিশ বোলিংকে।

হ্যা, তাদের হয়তো থাকতে পারে একজন কুক, একজন রুট, একজন অ্যান্ডারসন, একজন বাটলার, কিংবা একজন মঈন আলী। কিন্তু আমাদের আছে শুভাগত। আমি কিন্তু এই ‘স্যার’-এর পক্ষেই সেদিন কথা বলেছিলাম। সেদিন যুক্তি দিয়ে প্রমান করে দেখিয়েছিলাম যে কেন তাকে নির্বাচন করা হয়েছিল দলে?

প্রমান করেছিলাম, কেন তিনি নির্বাচকদের নয়নের মনি।

শুভাগত কেন দলে ছিল সেটার রহস্য উদঘাটন করতে আমাকে একটু পিছে ফিরে যেতে হচ্ছে। তাহলে এখন ঘড়ির কাটা ৭ বছর পিছিয়ে দিই? শেষবার যখন (২০১০ সালের কথা বলছি) ইংলিশরা বাংলাদেশ সফর করেছিল, চট্রগ্রাম টেস্ট শুরুর আগে ৩ দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে বিসিবি একাদশের বিপক্ষে নামেন কুক-স্ট্রাউসরা। তৎকালীন বিসিবি একাদশে ছিলেন অখ্যাত শুভাগত হোম।

আজও মনে পড়ে যায় সেই সাইক্লোন ইনিংসের কথা যে তাণ্ডবটা চালিয়েছিলেন ডলার মাহমুদ ও শুভাগত হোম ২০১০ সালে ট্যুর ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। কোথাকার এবি ডি ভিলিয়ার্স? কোথাকার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল?

আপনি কি কখনো সাদা পোশাকে এবি-ম্যাক্সিদের ৩০০+ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করতে দেখেছেন? কিন্তু ‘তারা’ করেছে। এরা হলেন শুভাগত হোম ও ডলার মাহমুদ। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে সপ্তম উইকেট জুটিতে এসে যেন আফ্রিকার কিলিমানজারো আগ্নেয়গিরির রূপ ধারণ করে চট্টগ্রামে। যার স্বাক্ষী ছিলেন স্টেডিয়ামের স্বল্প সংখ্যক দর্শক।

ওই জুটিতে কত রান এসেছিল সেটা অবশ্য ইএসপিএন ক্রিকইনফো বলতে পারেনি তবে সেদিন শুভাগত হোম ২০ বলে ৭টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্য ফিফটি করেন মাত্র ২৭ মিনিট ক্রিজে থেকে এবং শেষ পর্যন্ত ৩০ বলে ৯১* রান করেন ১০টি চার ও ৮ টি ছক্কার সাহায্য! যেখানে ৯০ রানের ভিতরে ৮৮ রান আসে বাউন্ডারি থেকে! এবার ডলার মাহমুদ। মাত্র ১৬ মিনিটে ক্রিজে থেকে ১৬ বলে ৬৬ রান করেন ৭ টি চার ও ৬টি ছক্কার সাহায্য! এবং মাত্র ১৩ বলে ৬টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে ৫০ রান করেন মাত্র ১০ মিনিটে ক্রিজে থেকে!

সেদিন বাংলাদেশের প্রথম সারির ব্যাটসম্যানদের মাঝারি মানের ব্যাটিং দেখে বল করতে এসেছিলেন অধিনায়ক অ্যালিস্টেয়ার কুক ও মাইকেল কার্বারি। কিন্তু তাদের এমন ভাবে তুলোধুনো করেন ওই ডলার ও শুভাগত সেটা ছিলো স্বপ্নে ক্রিকেট খেলার মত।

সেদিন এ্যালিস্টার কুক ৫ ওভারে কত রান দিয়েছিলেন জানেন? ১১১ রান, যার বোলিং ফিগার ৫-০-১১১-০! এবং আরেক বোলার মাইকেল কার্বারি ৪ ওভারে দেন ৭৮ রান, যার বোলিং ফিগার ৪-০-৭৮-০! যদিও এই দুই অখ্যাত বোলার মূলত ‘ওপেনিং ব্যাটসম্যান’ নামে খ্যাত।

অ্যালিস্টেয়ার কুকের করা একটি বলে ছক্কা মেরে স্টেডিয়ামের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন ডলার মাহমুদ। এটি স্বপ্ন নয়। এটাই বাস্তব। যেখানে নায়ক আজকের সমালোচিত শুভাগত হোম চৌধুরী।

ইংল্যান্ড ব্যাটিং প্র্যাকটিস করতে চেয়েছিল। এজন্য কুক ও কারবেরি ইচ্ছে করে বাজে বোলিং করে, ফিল্ডাররা বল ধরেনি। যাতে বাংলাদেশ ‘এ’ দ্রুত রান করে ইনিংস ঘোষণা করে। ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচেও এরকম ঘটনা ক্রিকেট ইতিহাসে অনেক অনেক আছে। তবে ইংল্যান্ডের এই ম্যাচটি মাঝপথে ফার্স্ট ক্লাস মর্যাদা হারিয়েছিল।

ম্যাচটা তাই শুভাগত-ডলারের বীরত্ব নয়, বরং ইংলিশদের ছেলেমানুষীর জন্য বিখ্যাত হয়ে আছ!

https://www.mega888cuci.com