১৩ টি পরিবারের হাতেই বিশ্বের সকল ‘অসৎ’ ক্ষমতা

আজকাল পত্র-পত্রিকাতে প্রতিদিনই বিশ্বের নানা প্রান্তে যুদ্ধ, মারামারি আর ধ্বংসের ছবি দেখি আমরা। আর আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে বেশিরভাগ সময়ই কয়েকটি নির্দিষ্ট অঞ্চল কিংবা গোষ্ঠী এসবের শিকার হয়। আমরা আমজনতা এসব আইএস, আরব বসন্ত, বিপ্লব, একনায়কতন্ত্র সবকিছুকেই নানা ঘটনার কারণে সৃষ্ট গোলযোগ বলে মনে করি।

কিন্তু এসবের পেছনে যে কিছু প্রভাবশালী পরিবারের হাত রয়েছে সেটা আমরা হয়তোবা কেউই জানিনা। পাশ্চাত্যে এই বিষয়টি নিয়ে অনেক লেখালেখি হলেও সেগুলো অন্তরালেই রয়ে গিয়েছে সবসময়।

এসব প্রভাবশালী পরিবারের লোকসংখ্যা সারাবিশ্বের জনসংখ্যার তুলনায় মাত্র এক শতাংশ হলেও অর্থ-বিত্তের দিক দিয়ে বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ সম্পদের মালিকই কিন্তু এই প্রভাবশালী পরিবারগুলো। তাদের এই অর্থের যোগান আসে ‘সর্প হয়ে দংশন করি, ওঝা হয়ে ঝাড়ি’ উপায়ে। একটা দেশের সন্ত্রাসী বা বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে প্রথমে টাকা খাইয়ে দেশের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধিয়ে দেয় এবং পরে সরকার এবং বিদ্রোহী উভয় পক্ষকেই অস্ত্র বিক্রি করে টাকা কামাই করে আর ফাঁকতালে সেদেশের অর্থনীতির উপর কর্তৃত্ব স্থাপন করে নেয়।

কোনো দেশের সরকারপ্রধান যদি তাদের কথামতো না চলে কিংবা তাদের দেওয়া অন্যায় আবদার প্রত্যাখ্যান করে তবে এই শাসক পরিবারগুলো গুপ্তঘাতক দিয়ে তাকে সরিয়ে দিতেও দ্বিধাবোধ করেনা। এসব কাজে কিন্তু তাদের কোনো তাড়াহুড়া নেই, আস্তে আস্তে সবকিছুকে নিজের আয়ত্তে নিয়ে আসছে তারা।

জানামতে প্রায় তেরটি প্রাচীন এবং বিত্তশালী পরিবার এই কাজে জড়িত, সাথে তাদের কয়েকহাজার প্রতিষ্ঠান তো আছেই।

কী তাদের পরিচয়?

এই পরিবার গুলো হল – রথসচাইল্ড পরিবার, ব্রুস পরিবার, কেনেডি পরিবার, দে মেদিচি পরিবার, হ্যানোভার পরিবার, ক্রুপ পরিবার, প্ল্যান্টাজেনেট পরিবার, রকফেলার পরিবার, রোমানভ পরিবার, সিঙ্কলেয়ার পরিবার, ডেল বাঞ্চো পরিবার, উইন্ডসর পরিবার। এদের মধ্যে রথসচাইল্ড পরিবার হচ্ছে সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং তারা প্রায় ৫০ ট্রিলিয়ন ডলারের মালিক।

আপনি হয়তোবা বলবেন যে এসব নামধারী পরিবারের কথা তো আপনি তেমন শুনেননি, কিন্তু সত্যি কথা হচ্ছে যে এই প্রাচীন পরিবারগুলোর শাখা-প্রশাখার বংশধরেরা বিভিন্ন নামে নিজেদের কাজ করে যাচ্ছে। প্রাচীন সম্রাটরা যেমন নিজেদের ঈশ্বরের দূত বলে মনে করত এরাও নিজেদের তেমনই মনে করে, আর সাধারণ মানুষদের শাসন করা নিজেদের কর্তব্য বলে ভাবে।

লন্ডনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিসার্ভ, ইলুমিনেটি সংঘ কিংবা ভ্যাটকান সিটি কোনোটাই এসব পরিবারের কেন্দ্রের বাইরে নয়। নিজেদের নিয়ম কানুন দ্বারা চলা এসব প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষমতা এমনকি খোদ এফবিআই, মোসাদ কিংবা সিবিআই এর পর্যন্ত নেই।

কিভাবে আমাদের মস্তিষ্ক ধোলাই করছে?

শিক্ষা হচ্ছে যেকোনো সভ্যতার মেরুদণ্ড, একে ধ্বংস করতে পারলেই অর্ধেক কাজ শেষ।তাই একে নিয়েই প্রথম ধাপ শুরু করে এই শাসকরা। আজ যে আমরা মুখস্ত বিদ্যা কিংবা শুধু তোতাপাখির মত বুলি আউড়িয়ে শিক্ষা অর্জন করছি, নিজেদের সৃজনশীলতার কোনো পরিচয় না দিয়ে ঘাড় গুঁজে পড়ে যাচ্ছি নম্বরের আশায় এসব কিন্তু একদিনে হয়নি। বরং ধীরে ধীরে পরিকল্পনা করে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর শিক্ষাব্যাবস্থাকে ধ্বংস করতে এই পরিকল্পনা করা হয়েছে।

পড়ালেখা শেষ করেও রক্ষা নেই, নয়টা পাঁচটার অফিস আর টাকার গোলামী আমাদের জীবনকে করে দিচ্ছে নিষ্পেষিত। আমাদের নতুন কিছু শেখার কোনো আগ্রহ নেই,নিজের মনকে সুস্থ রাখার কোনো ইচ্ছা নেই। একটা খুপরি ঘরে বসে দিনের পর দিন কাজ করে যাচ্ছি বেতনের চেক এবং পদোন্নতির জন্য। এমন মানুষদেরই তো সহজে ব্রেইন ওয়াশ করানো সম্ভব। তারা পরিকল্পনা করে আমাদেরকে এমন অর্থলোভী জীবন্ত রোবটে পরিণত করছে যারা মুখ বুজে তাদের কাজগুলো করে দেওয়ার মত বুদ্ধিমান কিন্তু এই কাজগুলোর উদ্দ্যেশ্য সম্পর্কে জানার মত যথেষ্ট বুদ্ধিমান না।

তাহলে উপায় কি?

নিজের অর্থের প্রতি লোভকে কাটিয়ে তুলুন, নিজেকে সৎ ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তুলুন।সন্তানদের সৃজনশীল এবং মননশীল হতে শিক্ষা দিন, অন্যের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে শেখান। এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যেখানে মুখস্ত বিদ্যা নয় বরং বুঝে পড়াটাই হবে মূল লক্ষ্য। সমাজের সব মানুষ যেন নিজের যোগ্যতাকে প্রমাণের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ পায় তেমন পরিবেশ আমাদেরই সৃষ্টি করতে হবে।

এভাবেই আমরা ধীরে ধীরে রোবট থেকে মানুষে পরিণত হব এবং আমাদের এই পরিবর্তনই এই তথাকথিত শাসক পরিবারগুলোর নীলনকশাকে বাস্তবায়িত হতে দেবেনা, আর উপকৃত হবে আমাদের পুরো পৃথিবী।

লাফিং কালার্স অবলম্বনে

ঊর্মি তনচংগ্যা

The girl who fly with her own wings

https://www.mega888cuci.com