হৃদয় ভঙ্গের পঞ্চ কাণ্ড

জয়-পরাজয় মিলিয়েই সকল ধরনের ক্রীড়ার সংজ্ঞা প্রতিষ্ঠিত, আপাতদৃষ্টিতে পরাজয় খেলার বেরসিক একটা অংশ হলেও কখনও কখনও এটি তার নির্মম রূপ দেখায়। এর নির্মমতার প্রধান একটি অংশ হলো স্মৃতিতে গেঁথে যাওয়া। এমন হার আমাদের ক্রিকেটেও রয়েছে, যেসব ম্যাচের স্বরণে আজও আমরা বলে উঠি – ‘ইশ! সেদিন যদি এমনটা না হয়ে ওমন কিছু হতো!’ ম্যাচগুলো আমাদেরকে এখনও নিভৃতে পুড়িয়ে যাচ্ছে। সেই সব ম্যাচ থেকে আমার দেখা পাঁচটি ম্যাচের কথা আজ স্বরণ করবো।

২৪-১০-২০১৬

প্রতিপক্ষ: ইংল্যান্ড

ফরম্যাট: টেস্ট

ফলাফল: ২২ রানে হার

ওয়ানডেদে ঘরের মাঠে দিনদিন অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠা বাংলাদেশের সামনে প্রশ্ন ছিলো টেস্ট ফরম্যাট নিয়ে। টেস্ট ফরম্যাট সামর্থ্যের প্রমাণ দেয়ার মোক্ষম সুযোগটা এসেছিলো ইংল্যান্ড সিরিজেই। জিততে জিততে ওয়ানডে সিরিজ হাতছাড়া করলেও টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলো বাংলাদেশ।

সাব্বির,মিরাজ এবং রাব্বি; প্রথম ম্যাচেই এই তিনজনের অভিষেক ঘটিয়ে মাঠে নামলো বাংলাদেশ। টসে জিতে ব্যাট করতে নামা ইংল্যান্ড প্রথম ঘন্টাতেই অস্বস্তিতে পড়লো।

অভিষিক্ত মিরাজের জোড়া আঘাতের সাথে সাকিবের ঘূর্নিমায়ায় ২১ রানেই তিন ইংলিশ ম্যানের বিদায় ঘন্টা বেজে গেলো। প্রথম ঘন্টাতেই ভিন্ন কিছুর আবহ পেল বাংলাদেশের সমর্থকরা। তবে লোয়ার অর্ডারের দৃঢ়তায় ইংল্যান্ড স্কোরবোর্ডে ২৯৩ রান যোগ করলো প্রথম ইনিংসে।

অভিষিক্ত মিরাজের ৬ উইকেট। জবাবে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ চিরায়িত ব্যাটিং কলাপ্সে শেষ ৬ উইকেট হারালো ২৭ রানে! হতে হতেও তাই হাতছাড়া হয়েছে লিড নেবার সুযোগ, উল্টো ৪৫ রানের ছোটো কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ লিড নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখলো ইংল্যান্ড।

 

কিন্তু ম্যাচের একচ্ছত্র আধিপত্য ইংল্যান্ডকে পেতে দেয়নি দ্বিতীয় ইনিংসে সাকিবের বোলিং, তাঁর পাঁচ উইকেটে ইংল্যান্ডের ২৪০-এ এসে থামলো। ২৮৬ রানের টার্গেটে বাংলাদেশ যখন ১৪০ রানে প্রথম সাড়ির পাঁচ ব্যাটসম্যানকে হারালো তখন মুশফিকের সাথে উইকেটে অভিষিক্ত সাব্বির রহমান।

ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখন অনেকাংশেই ইংল্যান্ডের হাতে, কিন্তু, সাব্বির-মুশফিকের জুটি বাংলাদেশকে ফের খেলায় ফিরালো। শুধু ফিরালো বললে ভুল হবে, এ জুটি যখন ৮০ রান অতিক্রম করলো জয়ের জন্য দলের তখন প্রয়োজন ৬৬ রান।

জয়টা যখন খুব সম্ভব মনে হচ্ছিলো তখনই বিপদ সাধলো গ্যারেথ ব্যাটির আচানক লাফিয়ে ওঠা একটা বল। ৮৭ রানের পার্টনারশিপ শেষে মুশফিকের বিদায়ের পর ১১ রান যোগ করতে আরও ২টি উইকেটের পতন।

দলীয় রান ২৩৮/৮! ম্যাচের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার অপেক্ষাই যেনো করছিলো সবাই,

কিন্তু তাইজুলকে নিয়ে সাব্বিরের ব্যাটিং ফের উত্তেজনার পারদকে উস্কে দেয়। চতুর্থ দিন শেষ করে বাংলাদেশ আরও ১৫ রান যোগ করে, ফলে শেষদিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন দাড়ায় ৩৩ রানের অন্যদিকে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ২ উইকেট।

অনেক বাংলাদেশ সমর্থকদেরই ভয়াবহ একটি রাত কেটেছে সেদিন, সারারাতের বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনা শেষ হয় ক্রিকেটের বেরসিক নির্মমতায়, প্রয়োজনীয় রান থেকে ১০ সংগ্রহ করার পর বেন স্টোকসের বলে লেগ বিফোরের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরত যান তাইজুল। উইকেটে এসে শফিউল আর পারেননি সাব্বিরকে স্ট্রাইক ফেরত দিতে একই পরিণতির শিকার হওয়ায় ম্যাচের সমাপ্তি ঘটে।

২২ রানের হারটি নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে সর্বনিম্ন ব্যবধানে হারের সাক্ষী হয়ে থাকে। ইংল্যান্ডের শেষ হাসি বাংলাদেশি সমর্থকদের হৃদয়ে যে রক্তক্ষরণেরর সৃষ্টি করেছিলো তা আজও প্রবাহমান। হয়তো পরের টেস্টটি সেই ক্ষতে প্রলেপ যুগিয়েছে, হয়তো আক্ষেপটা আরও কয়েকগুন বাড়িয়ে দিয়েছে, ক্রিকেটের জনকদের টেস্ট ক্রিকেটে হোয়াইট ওয়াশ করার কী দারুন সুযোগটাই না হাতছাড়া হয়ে গেলো!

১৬-৮-২০১১

প্রতিপক্ষ: জিম্বাবুয়ে

ফরম্যাট: ওয়ানডে

ফলাফল: ৫ রানে হার।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দেশের মাটিতে সিরিজ জয় তখন অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। কিন্তু জিম্বাবুয়ের মাটিতে বাংলাদেশকে সবসময়ই কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে হত।  তাই ৫ ম্যাচের এমন একটি সিরিজ অধিনায়ক সাকিবের জন্য ছিলো অগ্নিপরীক্ষা। যথারীতি প্রথম দুই ম্যাচ হেরে সিরিজ হারের শঙ্কায় পড়ল বাংলাদেশ। তৃতীয় ম্যাচটি তাই বাংলাদেশের জন্য ডু অর ডাই এ পরিণত হলো।

টস জিতে অধিনায়ক সাকিব ফিল্ডিং বেছে নিলেন, মাসাকাদজা-টাইবুর দৃঢ়তায় বাংলাদেশকে ২৫১ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল জিম্বাবুয়ে। ব্যাটিংয়ে নেমে তামিমের ব্যাটে ভালোই জবাব দিচ্ছিলো বাংলাদেশ কিন্তু মাঝক্রিজে ব্যাট ফেলে তামিমের রান আউট আর টপ অর্ডারের ব্যার্থতায় বিপর্যয়ে পড়লো বাংলাদেশ।

৪ নাম্বারে ব্যাট করতে নেমে মুশফিক পাচ্ছিলেন না যোগ্য সঙ্গী তার উপর ধীর ব্যাটিংয়ের ফলে পথ ক্রমশই কঠিন হয়ে পড়ছিলো। ২৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিলো ৯৩/৩! অল্পসময় সঙ্গ দেবার পর সাকিবও ফিরে গেলেন।

এরপর অভিষিক্ত শুভাগতকে নিয়ে ৬২ বলে ৬১ রানের পার্টনারশিপ গড়ার পথে ফিফটি পূর্ন করলেন মুশফিক ৭০ বলে। শুভাগতর বিদায়ের পর রানের গতি বৃদ্ধি করলেন মুশফিক, মাহমুদুল্লাহকে নিয়ে ২৯ বলে ৪৪ রানের পার্টনারশিপ গড়লেন যেখানে মুশফিকের অবদানই ছিলো ৩০ (১৮)। মাহমুদুল্লাহ আউট হলেন যখন দলের প্রয়োজন ২২ রান ১৮টি বল থেকে। মুশফিক তখনও একপাশ আগলে রাখলেন। ৪৮ তম ওভারে নাসির ফিরলেন।

মুশফিক ৬রান নিয়ে প্রয়োজন কমিয়ে আনলেন ১২ বলে ১৬তে, ৪৯তম ওভারে শফিউল,রুবেল ফিরলেন। নবম উইকেটের পতন! ৬ মেরে শেষ ওভারের জন্য ৮ রাখলেন মুশফিক। ৫০তম ওভারের প্রথম বলে ২ রান নিয়ে ৯৯ বলে প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ন করেও সেলিব্রেশন করেননি, ৫ বলে তখন ৬ রান লাগে ঠিক তখনই উরিয়ে মারতে গিয়ে আউট হলেন দল হারলো ৫ রানে সাথে সিরিজও গেলো।

এই হারের রেশ পরবর্তিতে বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি করেছিলো পুরো বাংলাদেশ টিমের জন্য। যার ফলশ্রুতিতে সাকিব-তামিম তাদের অধিনায়কত্বও খুইয়েছিলেন। বুলাওয়েতে পরের দুটি ম্যাচ ঠিকই বাংলাদেশ জিতলো, তাতে আফসোই বাড়ল শুধু, ৫ রানে যে ম্যাচ নয় সিরিজটাই হাতছাড়া করলো বাংলাদেশ।

৪-৩-২০১৪

প্রতিপক্ষ: পাকিস্তান

ফর্ম্যাট: ওয়ানডে

ফলাফল: ৩ উইকেটে হার।

বছর দুয়েক আগে এশিয়া কাপ ফাইনালের ক্ষত তখনও শুকোয়নি বাংলাদেশ সমর্থকদের মন থেকে, সেই একই টুর্নামেন্ট, একই প্রতিপক্ষ, অনেক পুরোনো হিসেব চুকোনোর পালা এলো ফের বাংলাদেশ দলের সামনে। ১৯৯৯ এর সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর যুগ পেরিয়ে গেলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের মুখ দেখেনি বাংলাদেশ, কাছে গিয়েও স্নায়ুযুদ্ধে হেরেছে বারবার।

পাকিস্তানের জুজু কাটানোর আরেকটি সুযোগ সামনে রেখে মিরপুরে টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিলো মুশফিকুর রহিমের দল, তামিমের অনুপস্থিতিতে বিজয়-ইমরুলের ওপেনিং জুটি ১৫০তে গিয়ে থামলো। মজবুত একটা ভীত পেলেও বড় স্কোরের জন্য প্রয়োজন ছিলো বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান। ওপেনারদের বিদায়ের পর কাজটি ভালোই চালাচ্ছিলেন মমিনুল মুশফিক, তাদের ৩১ বলে ৪৫ রানের জুটি ভাঙে ইনিংসের ৪৫ তম ওভারে।

৩০০ এর কাছাকাছি স্কোরে জন্য ব্যাট চালাতে হতো মুশি-সাকিবের, একটু বেশিই চালালেন সাকিব। তাঁর ১৬ বলে ৪৪ রানের ইনিংসটি পাকিস্তানকে ৩৩০ এর লক্ষ্য ছুড়ে দিলো। শেষ ৫.৪ ওভারে ৭৭ রান তুলে নেয়ায় ওয়ানযেতে নিজেদের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটাও হয়ে গেলো বাংলাদেশের।

৩৩০ রানের জবাবে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তানের রানের হার বাংলাদেশের বোলাররা নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট নিতে পারেনি। দলীয় ২২৫ রানে পাকিস্তানের পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে যখন আউট হলেন আব্দুর রেহমান, ম্যাচের নিয়ন্ত্রন অনেকটাই বাংলাদেশের হাতে।

‎আস্কিং রেট ততক্ষনে ১২ ছাড়িয়ে গেছে।সপ্তম ব্যাটসম্যান শহীদ আফ্রিদি শুরুই করলেন ৬ দিয়ে। দ্রুত কিছু ওভার বাউন্ডারিতে খানিক ব্যাকফুটে চলে গেলো বাংলাদেশ, ‎অতপর সেখান থেকে স্নায়ুযুদ্ধটায় জয় অর্জন করা সম্ভব হয়নি।

আফ্রিদিকে আউট করার মুহুর্তেও আস্কিং রেট ১০ ছুইছুই হলেও ম্যাচ নিজেদের দিকে টেনে আনতে ব্যার্থ হয়েছিলো বোলার ফিল্ডাররা। ‎সেই সাথে আরও একবার হাতের মুঠো থেকে ফসকে গেলো পাকিস্তান। প্রায় নিশ্চিত জয় থেকে বঞ্চিত হয়ে বাংলাদেশের সে বারের এশিয়া কাপ শেষ হলো জয়ের স্বাদ পরখ করা ছাড়াই।

২৩-০৩-২০১৬

‎প্রতিপক্ষ: ভারত

‎ফরম্যাট: টি-টোয়েন্টি

‎ফলাফলঃ ১ রানে হার।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের দুঃখগাঁথা গুলো যেনো ঘুরেফিরে মার্চেই রচিত হয়। প্রথমবারের মত কোয়ালিফায়ার খেলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ করে নিতে হলো বাংলাদেশকে। কিন্তু, পরপর দুটি ম্যাচে অসহায় আত্মসমর্পনের পর টুর্নামেন্টের ভবিষ্যত একপ্রকার নিশ্চিৎ হয়েই ছিলো বাংলাদেশের জন্য।

তারপরও বাংলাদেশ বনাম ভারত ম্যাচ তখন ভিন্ন আবহ ধারণ করে, টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশী বোলারদের আঁটসাঁট বোলিংয়ে ১৪৭ রানের লক্ষ্য দিতে সক্ষম হয় ভারত। লক্ষ্য তাড়ায় সুস্থির ব্যাটিং করতে থাকা বাংলাদেশের জন্য জয় কঠিন মনে হচ্ছিলো না।

এক পর্যায়ে ৪৮ বলে প্রয়োজন দাড়ালো ৫২ রানে! পরের ৩ ওভারে কেবল ৯ রান হলে প্রয়োজন দাড়ালো ৫ ওভারে ৪৩, শেষ অভারে যা ১১তে পরিণত হলো। ব্যাটিংয়ে মাহমুদুল্লাহ-মুশফিক বোলিংয়ে হার্ডিক পান্ডিয়া, প্রথম বলে সিঙ্গেল হওয়ায় সমীকরন ৫ বলে ১০!

ম্যাচের উত্তেজনা যখন এভারেস্ট চুড়ায় পৌছলো, পরপর দু’চার মেরে মুশফিক যেনো এক ঝটকাতেই তা ভুমিতে নামিয়ে আনলো। ৩ বলে ১ রান হলেই হার এড়াতে পারবে বাংলাদেশ, জয় থেকে মাত্র রান ২ রান দূরে থেকেও মুশফিক হয়তো চাইলেন বলটিকে গ্যালারীতে পাঠিয়ে উৎযাপন করতে, হিতে বিপরীত হয়ে ধরা পড়লেন মিড উইকেটে।

২ বলে ২ সমীকরন সামনে রেখে মাহমুদুল্লাহও যেনো মুশফিকের অসমাপ্ত কাজটি সমাপ্ত করতে চাইলেন, জাদেজার হাতে ধরা পড়লেন তিনি। ১ বলে ২ রান, স্ট্রাইকে থাকা শুভাগত ব্যাটই লাগাতে পারলেন না, বাকি কাজটা দারুন বিচক্ষণতায় শেষ করে দিলেন মাহেন্দ্র সিং ধোনি।

৩ বলে দুই রানের সমীকরন মেলাতে ব্যার্থ হয়ে লজ্জায় পড়তে হলো বাংলাদেশকে। আজও যা সমর্থকদের হৃদয়ে চিড় কেটে যাচ্ছে। রান চেজে আমাদের দূর্বলতার প্রতীক হয়ে আছে হারটি। তবে সব হতাশা দূরে ঠেলে দিলে এটা বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের জন্য কয়েক দশকের শিক্ষা হয়ে থাকবে।

২২-০৩-২০১২

প্রতিপক্ষ: পাকিস্তান

ফরম্যাট: ওয়ানডে

ফলাফলঃ ২ রানে হার।

চীনের দুঃখ যদি হুয়াংহো নদী হয় একবিংশ শতাব্দিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটের দুঃখ কোনও আন্তর্জাতিক ট্রফির স্বাদ না পাওয়া, এই দুঃখ আরও কতদিন বয়ে চলতে হবে সে কথা জানে না কেউ। তবে এই দুঃখ আজ আর পীড়া দিতো না, ম্যাশের ট্রফিশূন্য অবসরের আশঙ্কা সৃষ্টি হতো না, যদি ২২ মার্চের সেই দিনটিতে তীরে এসে তরী না ডুবাতো বাংলাদেশ।

সেদিন প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলতে নেমে টসে জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিলো সাকিবের বাংলাদেশ। সাকিব-মাশরাফিদের বোলিং তোপে ৩৫তম ওভারে পাকিস্তান যখন তাদের ষষ্ঠ উইকেট হারালো,

রান সর্বসাকুল্যে ১৩৩! কিন্তু আরও একবার ম্যাচের নিয়ন্ত্রক রশিটা হাত থেকে ঢিল হয়ে গেলো, আফ্রিদি, সরফরাজের ব্যাটে ২৩৭ রানের টার্গেট দাড় করালো পাকিস্তান।

রান তাড়া করতে নেমে তামিমের ব্যাটে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে থাকলেও অপরপ্রান্তে নাজিমুদ্দিনের স্লথ ব্যাটিং ম্যাচে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য বজায় রেখে চলছিলো।

এরপর সাকিবের আরেকটি অনাবদ্য ইনিংসের পরও অপর প্রান্তের স্লো ব্যাটিংয়ে আস্কিং রেট ৯ ছাড়ালো, মাশরাফির ৯ বলে ১৮ রানের ছোটো ক্যামিওর পরে প্রয়োজন ছিলো ১৪ বলে ১৯, মাহমুদুল্লাহ-রাজ্জাকের ব্যাটে শেষ ওভারে প্রয়োজন দাড়ালো ৯!

শেষ ২ বলে ৪ প্রয়োজন, স্ট্রাইক প্রান্তে রাজ্জাক, ৩ রান নিতে পারলেও যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হবে বাংলাদেশ। পঞ্চম বলটিতে রাজ্জাক নার্ভ ধরে রাখতে ব্যর্থ হলেন, বোল্ড আউট হয়ে সে ফিরো গেলে শেষ বলে প্রয়োজন দাড়ালো ৪ রান!

নতুন ব্যাটসম্যান শাহাদাতের জন্য এটা এক অসাধ্য সাধনই ছিলো বৈ কি, শাহাদাত শেষ বলটি ব্যাটে-বলে সংযোগ ঘটাতে ব্যার্থ হলে রুপকথার সৃষ্টি আর সম্ভব হয় নি, অপর প্রান্তে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ঐতিহাসিক এক মুহুর্ত হাতছাড়া হতে দেখলেন মাহমুদুল্লাহ।

এমন হার সহ্য করতে পারেনি দর্শক-খেলোয়াড়দের কেউই। মাঠেই কাঁদতে দেখা যায় মুশফিক,নাসির,বিজয় সাকিবদের। যদিও এই এশিয়া কাপে বাংলাদেশের পারফর্ম্যান্স আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের নতুন ইমেজ তৈরীতে মূখ্য ভুমিকা রেখেছে, তবুও প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ হাতে ওঠানোর সুযোগ হারানোর আফসোসে আজও পুড়তে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

https://www.mega888cuci.com