যাক, আবারো স্প্রিন্টে ‘অনিশ্চয়তা’ ফিরছে!

যাক বাবা, হাঁফ ছেড়ে বাঁচা গেলো। স্প্রিন্টে আবারো প্রতিদ্বন্দ্বীতা, আবারো অনিশ্চয়তা ফিরতে যাচ্ছে। গাঁটের পয়সা খরচ করে কেই-বা সে খেলা দেখতে যায়, যার গা থেকে ‘অনিশ্চয়তা’ শব্দটাই মুছে গিয়েছে! গত ৯ বছর ধরে স্প্রিন্টে কিন্তু তা-ই হচ্ছিলো। তিনি স্প্রিন্টে নামবেন, জয় করবেন, তার সাথে গোটা গ্যালারি পাগলপারা হয়ে যাবে, বারংবার যেন একই নাটকের পুনঃমঞ্চায়ন। যদিও তাতে একঘেয়েমি আসেনি মোটেই।

১.

রাতটা এখনও স্পষ্ট মনে পড়ে। বার্ডস নেস্ট স্টেডিয়াম কানায় কানায় ভর্তি। টিভিপর্দার সামনে বসে আরো লক্ষ-কোটি। সেকেন্ডের ভগ্নাংশতে যে ইভেন্টের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারিত হয়, দশ সেকেন্ডের জন্য স্তব্ধ করে দেয় গোটা দুনিয়াকে, তা নিয়ে জনতার আগ্রহ বাড়াবাড়ি নয় মোটেই। দশ সেকেন্ড পরেই জানা যাবে, গ্রহের দ্রুততম মানবের পরিচয়। অথচ, গোটা আয়োজনেনেই জল ঢেলে দিলেন তিনি। মিলিসেকেন্ডে যে ইভেন্টের বিজয়ীর মাঝে পার্থক্য টানা হয়, সেখানে যদি বিশ মিটার আগে থেকেই কেউ বুক চাপড়ে, হেলতে-দুলতে লাইন পেরিয়ে ঘোষণা দেয়, আমিই সেরা, প্রতিদ্বন্দ্বিতার অবকাশ কোথায়! ওই হেলাফেলার দৌড়েই হয়ে গেলো বিশ্বরেকর্ড। ৯.৬৯ সেকেন্ডে ১০০ মিটার পাড়ি দেয়ার কীর্তি, পৃথিবী আগে কখনো দেখেনি।

এর আগে আর পরে, ১০০ মিটারে বিশ্বরেকর্ড ভেঙেছেন আরও দুবার। ২০০৮ সালের মে মাসেই তার জ্যামাইকান সতীর্থ আসাফা পাওয়েলের ৯.৭৪ সেকেন্ডের রেকর্ড ভেঙে প্রথমবারের মতো দ্রুততম দৌড়বিদের খেতাব অর্জন করেছিলেন। পরের বছর তো রেকর্ডটাকে মোটামুটি ধরাছোঁয়ার বাইরেই নিয়ে গেলেন। কে জানে, ৩.১৪১৬ কিংবা ২.৭০৭ এর মতো ৯.৫৮ ও কোনো ধ্রুব সংখ্যা হয়েই থাকে কিনা! এক ধাক্কায় .১১ সেকেন্ড ছেঁটে ফেলে বার্লিনে তিনি যে সংখ্যার সৃষ্টি করেছিলেন।

১৯১২ সালে আইএএএফ প্রতিষ্ঠার পরপরই যখন ‘সময় গণনা পদ্ধতি’ নিয়ে আসে, তখন আমেরিকান ডোনাল্ড লিপিনকট ১০.৬ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড়ে দ্রুততম মানব বনে যান। ১৯৬৮ সালে জিম হেইন্স প্রথমবারের মতো ১০ সেকেন্ডের কমে ১০০ মিটার দৌড়েছিলেন, কিন্তু লিপিনকটের সময়কে একেবারে ১ সেকেন্ড কমিয়ে ফেলার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন ওই মানুষটাই। নাম বোধহয় এতক্ষণে বুঝেই গিয়েছেন, উসাইন বোল্ট।

২.

তিনি দ্রুত দৌড়ান আর সবার চেয়ে এবং অনেকটা নিয়মিতভাবেই। আইএএএফ এবারের লন্ডন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের আগে একটি তালিকা করেছিলো। যেখানে দেখা যায়, জিম হেইন্সের পরে ১০ সেকেন্ডের কমে ১০০ মিটার দৌড়ানোর কৃতিত্ব আছে ১২৪ জনের। কিন্তু, ৯.৭৮ সেকেন্ডের কমে ১০০ মিটার দৌড়ানোর কৃতিত্ব কেবল জ্যামাইকান ইয়োহান ব্লেক, আসাফা পাওয়েল এবং আমেরিকান জাস্টিন গ্যাটলিন এবং টাইসন গে এবং অতিঅবশ্যই উসাইন বোল্টের।

বোল্ট মোট নয় বার ৯.৭৮ সেকেন্ডের কমে ১০০ মিটার দৌড়েছেন, অন্যদের চেয়ে তা ঢের বেশি তা বোধহয় না বললেও চলছে।

৩.

এতটুকু পড়ে বোল্ট অবশ্য বলতে পারেন (আশা করতে দোষ কি), কিহে বাপু, আমার সব রেকর্ড ১০০ মিটারেই নাকি, ২০০ মিটার নিয়ে কিছু বলো। ১৯৭৭ সালে আইএএএফ মেশিনের সাহায্যে সময় গণনা শুরু করে এবং অদ্যাবধি বোল্ট-ই প্রথম এবং একমাত্র যিনি ১০০ এবং ২০০ মিটার, উভয় স্প্রিন্টেই বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন।

২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকে বোল্ট আমেরিকান দৌড়বিদ মাইকেল জনসনের ১২ বছর পুরোনো ১৯.৩২ সেকেন্ডের রেকর্ড ভেঙ্গে ২০০ মিটার ১৯.৩০ সেকেন্ডে দৌড়ান। সে সময়কে ১৯.১৯ সেকেন্ডে নামিয়ে আনেন পরের বছরই, বার্লিন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে।

৪.

বোল্ট কি কেবল রেকর্ডই ভেঙেছেন? রেকর্ড ভাঙার চেয়েও যা গুরুত্বপূর্ণ, গোটা ক্যারিয়ার জুড়েই তিনি অবিশ্বাস্যরকম ধারাবাহিক ছিলেন। এবারের লন্ডন বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপকে একপাশে রেখে বলা যায়, ২০০৮ সাল হতে শুরু করে প্রতিটি অলিম্পিক এবং বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের আসরে স্বর্ণপদকজয়ী দৌড়বিদের নাম ছিলো উসাইন বোল্ট।

রিও অলিম্পিকে তিনি ১০০ মিটার, ২০০ মিটার এবং ৪*১০০ মিটার রিলেতে স্বর্ণপদক জয় করে ‘ট্রিপল ট্রিপল’ জয় করেন- স্প্রিন্টের ইতিহাসে যা অভূতপূর্ব। তার নিজের ভাষায়, এই রেকর্ড তাকে ‘অমর’ বানিয়েছে। যদিও বোল্ট ২০০৮ সালের ৪*১০০ মিটার রিলে দৌড়ের স্বর্ণ পদক হারিয়েছেন। তার সতীর্থ নেস্তা কার্টারের নমুনায় নিষিদ্ধ ড্রাগ ধরা পড়ায় তাকে এই স্বর্ণ পদক হারাতে হয়। এই স্বর্ণ বিবেচনার বাইরে রেখেও, টানা তিন অলিম্পিকে ১০০ ও ২০০ মিটারের ডাবল জয়, স্রেফ অবিশ্বাস্য।

এতসব অবিশ্বাস্য কীর্তির মাঝেও কিছু কালিমা লেগেছে বোল্টের ক্যারিয়ারে। এবারের লন্ডন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটারে ব্রোঞ্জ পদক জয় কিংবা কাল রাতের ইনজুরি, বলা যেতে পারে ২০১১ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার দেগুতে ১০০ মিটারে ফলস স্টার্টের কথাও, যেন চাঁদের বুকে কলঙ্কের ছোপ ছোপ কালি। হতে পারে, আমিও তোমাদের মতোই রক্ত-মাংসের মানুষ, তা প্রমাণ করতেই এই ব্যর্থতা।

৫.

বোল্টকে হারিয়েছেন কারা?

২০০৮ সালের পরবর্তী সময়ে, ২০০ মিটার স্প্রিন্টে তিনি পরাজিত হয়েছেন কেবল একবার। ২০১২ সালে, জ্যামাইকান ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে, ইয়োহান ব্লেকের কাছে।

একই বছরে একই মিটে ব্লেক বোল্টকে ১০০ মিটারেও হারিয়ে দিয়েছিলেন। গোটা ক্যারিয়ারে ১০০ মিটার স্প্রিন্ট দৌড়েছেন ১৪৪ বার। দৌড় শেষে তালিকার প্রথমে বোল্টের নাম ছিলো না, এমন ঘটনা ঘটেছে কেবল সাতবার। গ্যাটলিন, ক্রিশ্চিয়ান কোলম্যান, পাওয়েল, ব্লেক এবং গে, এই পঞ্চপাণ্ডব সে ক্ষণজন্মা মুহূর্তের স্রষ্টা।

৬.

বোল্ট আসলে কতটা দ্রুত দৌড়ান? এর উত্তর এক বাক্যেই দেয়া যায়, তিনি আপনার কল্পনার চেয়েও দ্রুত দৌড়ান। বোল্ট তার ৯.৫৮ সেকেন্ডের দৌড়ে ১০ মিটার দৌড়েছেন ০.৮১ সেকেন্ডে। যার গতিবেগ দাঁড়ায়, ৪৪.৫১ কিমি / ঘণ্টা। একটি ঘোড়া প্রায় এ গতিতেই চলে এবং প্রাণীকুলে ঘোড়াকে আমরা সবচেয়ে দ্রুতগামী প্রাণী বলেই জানি।

জ্যামাইকান বজ্রমানব চাইলে আরও দ্রুত ১০০ মিটার দৌড়াতে পারতেন। বিশ্বাস হচ্ছে না! তিনি তার ১৯.১৯ সেকেন্ডের দৌড়ে ২য় ১০০ মিটার দৌড়েছেন ৯.২৬ সেকেন্ডে। রিলে দৌড়ে বেশ কয়েকবার ৯ সেকেন্ডের কমে নামিয়েছিলেন এ সময়কে, এমনকি ২০১৫ সালে তিনি ৮.৬৫ সেকেন্ডেই ১০০ মিটার দৌড়েছিলেন। অবিশ্বাসে চোখ কচলাবেন না, সময়টা ৮.৬৫ সেকেন্ড-ই।

ক্যারিয়ারের শেষদিকে, বয়স আর চোটের অনিবার্য আঘাতে বোল্ট কিঞ্চিৎ ধীর হয়ে গিয়েছিলেন। ২০১৬ সালে তিনি ১০০ মিটারের জন্য ৯.৭৮ সেকেন্ড এবং ২০০ মিটারের জন্য ১৯.৭৮ সেকেন্ড সময় নিয়েছিলেন। তার নামের সাথে এই টাইমিংগুলো বেশ বেখাপ্পা দেখালেও, তার বিজয়ী হবার পথে এই টাইমিংগুলো কোনো বাধাই হতে পারেনি।

৭.

বিজ্ঞান বলে, প্রত্যেক কাজের পেছনে কারণ থাকে। বোল্ট এতটা দ্রুত কিভাবে দৌড়ান, আমরা সাধারণ চোখে তা বুঝতে না পারলেও, বিজ্ঞান নিশ্চয়ই এর রহস্য ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হবে। জার্নাল অব হিউম্যান কাইনেটিক্সে প্রকাশিত ম্যাকালা ক্রিজসটফ এবং অ্যান্টি মেরো’র একটি গবেষণায় দেখা যায়, তার ৬.৫ ফিটের (১৯৫ সে.মি) অবয়বটি দ্রুত দৌড়ানোর ক্ষেত্রে একটি এক্স-ফ্যাক্টর, যা তাকে অন্য প্রতিযোগীদের চেয়ে এগিয়ে দিয়েছে।

বোল্ট তার প্রতিদ্বন্দ্বী এবং অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় স্প্রিন্টারের তুলনায় বেশ লম্বা, স্প্রিন্টারদের ক্ষেত্রে যা অসুবিধার কারণ। গবেষণায় দেখা যায়, লম্বা হওয়ার কারণে প্রায়ই স্টার্টিংয়ে তিনি যথেষ্ট পরিমাণ ত্বরণ লাভ করতেন না।

কিন্তু, গবেষকরা বলছেন, ‘বোল্টের দেহের উচ্চতা স্প্রিন্টের মাঝামাঝি সময়ে তাকে লম্বা পা ফেলতে সাহায্য করতো এবং তিনি অনেক সময় ধরে একই ত্বরণ বজায় রাখতে পারতেন। খর্বাকৃতির স্প্রিন্টাররা যেখানে খুব তাড়াতাড়িই মন্দনের পথে হাঁটতেন।’

তার পদক্ষেপের গড় দৈর্ঘ্য ছিলো ২.৪৭ মিটার। অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় যা প্রায় ২০ সেন্টিমিটার বেশি। একই সাথে তিনি দীর্ঘ পায়ের ফ্রিকোয়েন্সি রক্ষা করতেন, যা তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য ছিলো এক বিধ্বংসী সম্মেলন, কেননা পুরো ছন্দের বোল্ট , এর ফলে প্রতিটি ধাপেই বেশ খানিকটা এগিয়ে যেতে পারতেন। ২০০৯ সালে, ১০০ মিটারে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার রাতে, তার ৪১ পদক্ষেপ লেগেছিলো কমিয়ে দিয়েছিল, অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের যেখানে গড়ে ৪৫ পায়ের দরকার পড়ে।

৮.

কিন্তু, ইতিহাস বলে, স্প্রিন্টের ইতিহাসে বোল্টই সবচেয়ে লম্বা স্প্রিন্টার নন। তবে তারা কেন পারেননি?

আগেই বলা হয়েছে, লম্বা স্প্রিন্টারদের জন্য শুরুটা বেশ ধীর হয়, এমনকি উসাইন বোল্টের অলিম্পিক কিংবা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়্গুলোর স্টার্টিংয়েও দেখা যায়, শুরুর দিকে তিনি অন্যদের তুলনায় বেশ পিছিয়ে ছিলেন। লন্ডন বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের আগে এক তথ্যে দেখা যায়, ব্লক থেকে বেরোতে তার সময় লেগেছিলো .১৫৮ সেকেন্ড, অন্য প্রতিযোগীদের ক্ষেত্রে এ সময় ছিলো .১৪৯ সেকেন্ড। আর সে ব্যবধানকে জয় করেছেন বলেই তিনি বোল্ট, উসাইন বোল্ট।

কিন্তু, কিংবদন্তি স্প্রিন্টার মাইকেল জনসন অলিম্পিক চ্যানেলকে বলেন, ‘তাঁর(বোল্টের) সেরা দৌড়গুলোতে অন্যান্য খর্বকায় স্প্রিন্টারদের সাথেই সে তাল মিলিয়ে চলেছে, যা বিরল।’

জনসনের কথার সত্যতা পাওয়া যায় বোল্টের বিশ্ব রেকর্ড গড়া দৌড়ে। সেদিন অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে বোল্ট ২০ মিটার এগিয়ে ছিলেন এবং প্রতি ২০ মিটারেও তিনি সবার চেয়ে দ্রুত ছিলেন।

এবার লন্ডনে, তার রিয়েকশন টাইম ছিলো ০.১৮৩ সেকেন্ড, যা অন্যদের চেয়ে .০৩১ সেকেন্ড ধীর ছিলো।

৯.

টানা ৯ বছর ধরে প্রায় অজেয়। লন্ডনে এবার ব্যর্থ না হলে, তাকে অজেয় বলে ঘোষণাই দিয়ে দেয়া যেত। এর সঙ্গে আমুদে চরিত্র তাকে এনে দিয়েছিলো বিশ্বজোড়া খ্যাতি। খ্যাতির সঙ্গে এসেছিলো স্পনসরশিপ। এসেছিলো পিউমা, মম শ্যাম্পেন, অ্যাডভিল এবং অন্যান্যদের সাথে চুক্তির সু্যোগ। ২০১৬-১৭ সালে তার বার্ষিক আয় ৩৪.২ মিলিয়ন ডলার। যার দরুণ, ফোর্বস ম্যাগাজিনের সেরা ১০০ সেলিব্রিটির তালিকায় তালিকায় ৮৮ তে জায়গা পান।

এত অর্থ দিয়ে বোল্ট কি করেন? এর বেশিরভাগই বোল্ট তার দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দান করে দেন। জ্যামাইকা ট্রেলেউনি প্যারিশে, তার পুরানো উচ্চ বিদ্যালয়কে বহু বছর ধরে সাহায্য করে আসছেন বোল্ট।

১০.

এই চাকচিক্যময় জীবন থেকে তিনি কি এখন অবসরের পর একটু আড়ালে চলে যাবেন? বোল্ট নিজে বলছেন কিন্তু অন্য কথা। তার মতে ‘একটু বিশ্রাম নিতে চাই এবং যতটা সম্ভব নিজেকে উপভোগ করতে চাই।’

১১.

রেকর্ড গড়া হয় ভাঙার জন্য, যেকোনো খেলার আদি ও অকৃত্রিম বাক্য বোধ হয় এটিই। বোল্টের ৯.৫৮ কিংবা ১৯.১৯ সেকেন্ডের রেকর্ড যে ভাঙবে না, সে নিশ্চয়তা দেয়া যাচ্ছে না। তাই, কেবল স্প্রিন্ট দিয়ে বোল্ট অমর হয়ে রবেন, একথাও জোর গলায় বলা যাচ্ছে না।

সমস্যা নেই, নিজের চাওয়া অনুযায়ী, অমরত্বের পথ তিনি নিজেই তৈরি করে নিয়েছেন। কখনোবা তার ‘লাইটনিং বোল্ট’ পোজ দিয়ে, কখনোবা দৌড় শেষে ট্র্যাকের চারপাশে ছুটে যাওয়ার জন্য, গোটা গ্যালারিকে উদযাপনের অংশীদার করে নেয়ার জন্যই তিনি অমর হয়ে রইবেন। এমনটা এর আগে কেউ করতে পারেননি তো।

ট্র‍্যাকে যেমন, ট্র‍্যাকের বাইরেও কি কম! এক সাংবাদিকের গায়ে আরেক সাংবাদিক উঠে যাচ্ছেন, তার মাঝেই হাসির রোল উঠছে ক্ষণেক্ষণে, বোল্টের সংবাদ সম্মেলন এমনই ছিলো। বেইজিং অলিম্পিকে প্রায় ১০০০ মুরগির মাংস খেয়েছেন, এমন সারল্য নিয়ে কোনো সুপারস্টার কথা বলেছেন বলে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, এখনও। লাইন পেরোনোর আগেই উদযাপন কিংবা বারেবারে নিজেকে ‘অমর’, ‘কিংবদন্তি’ আখ্যায়িত করার পরেও যে বোল্টকে উদ্ধত কিংবা অহংকারী মনে হয় না, তার কারণও বোধহয় এই অদ্ভুত সারল্য।

এথলেটিক্সে যেন তিনি বয়ে এনেছিলেন এক ঝলক তাজা বাতাস। ডোপের বিষবাষ্প যখন ছড়িয়ে পড়েছিলো গোটা এথলেটিক্স জগতে, তখন তিনিই দাঁড়িয়েছিলেন আশার প্রতীক হয়ে। যেন প্রমাণের জন্যই, ‘সেরা হওয়ার জন্য অবৈধ উপায় বাছতে হবে, এমনটা কখনোই নয়।’ সাধে তো আর আইএএএফ চেয়ারম্যান বলেন না, ‘কোন সন্দেহ নেই যে খেলাটি তাকে মিস করবো। আমরা ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ক্রীড়াবিদ চাই। আমরা তার মতো ব্যক্তিত্ব মিস করবো।’

পুনশ্চ

অবসরের সময়, ফেসবুকে প্রায় ১৯ মিলিয়ন, ইন্সটাগ্রামে ৭.১ মিলিয়ন এবং টুইটারে ৪.৭৫ মিলিয়ন ফলোয়ার সাথে নিয়ে যাচ্ছেন। গোটা বিশ্বে তার ভক্ত সংখ্যা যে এর চেয়ে ঢের বেশি, তা নিশ্চয়ই অজানা নয়। হয়তোবা আর কিছুদিনেই ৯.৫৮ সেকেন্ডের রেকর্ড ৯ সেকেন্ডে নেমে আসবে। কে জানে, ১৫ সেকেন্ডে ২০০ মিটার দৌড়ানোর কীর্তি হবে অহরহ। কিন্তু, বিশ্বজুড়ে লাখো-কোটি জনতার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেকর্ড তার কাছ থেকে কে নেবেন! ডোয়াইন ব্রাভোর মতো তো আপনিও জানেন, ‘৯.৫৮, বোল্ট ইজ আ চ্যাম্পিয়ন।’

বিবিসি অবলম্বনে

https://www.mega888cuci.com